Ajker Patrika

এনবিআরে বাজুসের প্রস্তাব: বাজেটে সোনা ও হীরায় ব্যাপক করছাড় দাবি

  • ব্যাগেজ রুলের পরিবর্তন দাবি
  • ন্যূনতম কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.২৫ শতাংশ নির্ধারণ
  • অঘোষিত সোনা, হীরা ও রুপা বৈধকরণে ‘স্বর্ণমেলা’ আয়োজনের প্রস্তাব
  • খুচরা পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ উৎসে ভ্যাট প্রত্যাহার
‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
এনবিআরে বাজুসের প্রস্তাব: বাজেটে সোনা ও হীরায়
ব্যাপক করছাড় দাবি

সোনা বিক্রির ওপর বর্তমান ন্যূনতম কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.২৫ শতাংশ নির্ধারণ, উৎসে আয়কর প্রত্যাহার এবং হীরা আমদানিতে শুল্ক হ্রাসসহ ততোধিক প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে এসব প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) জমা দিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে বাজুস সভাপতি এনামুল হক দোলনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রস্তাবগুলো তুলে ধরে। সেখানে বাজেট প্রণয়নের আগে জুয়েলারি খাতের করকাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।

ন্যূনতম কর কমানোর পক্ষে বাজুস বলছে, জুয়েলারি ব্যবসায় সব ধরনের ব্যয় বাদ দিলে অনেক ক্ষেত্রে নিট মুনাফা ১ শতাংশের নিচে নেমে আসে। ফলে বর্তমান কর অর্জিত মুনাফার চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে। এতে মূলধন ভেঙে কর দেওয়ার কারণে ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা কঠিন করে তুলছে।

হীরা আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশের শতভাগ হীরার চাহিদা বিদেশ থেকে পূরণ হয়, এ ক্ষেত্রে শুল্ক-কর সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ হলে বৈধ আমদানি বাড়বে এবং ৪০ শতাংশ ভ্যালু অ্যাডিশনের শর্ত স্থানীয় কারিগরদের কর্মসংস্থানও বাড়াবে। এ লক্ষ্যে অমসৃণ হীরা আমদানিতে ২ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক, ৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং ৩৩ শতাংশ অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মসৃণ হীরার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক, ৩ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি, ১৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ৭ শতাংশ ভ্যাট এবং ৩৫ শতাংশ অগ্রিম আয়করের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমানে স্থানীয় বাজারে পণ্য সরবরাহের সময় মোট বিলের ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর দিতে হয়, যা ব্যবসায়ীদের মূলধনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছে বাজুস। একই সঙ্গে জুয়েলারি পণ্যে বিদ্যমান ৫ শতাংশ ভ্যাট ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বর্ণালংকারের ক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে দুই হাজার টাকা এবং হীরার ক্ষেত্রে প্রতি ক্যারেটে দুই হাজার টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশ উৎসে ভ্যাটও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী, বর্তমানে একজন যাত্রী বছরে সর্বোচ্চ ১০০ গ্রাম স্বর্ণ বা ২০০ গ্রাম রুপার অলংকার শুল্কমুক্তভাবে আনতে পারেন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট শুল্ক পরিশোধ করে সীমিত পরিমাণ স্বর্ণবার আনার সুযোগ রয়েছে। তবে বাজুস বলছে, এই বিধিনিষেধের কারণে আমদানিকারকের সংখ্যা সীমিত হয়ে পড়ছে এবং বাজারে কাঁচামালের কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে আগের সুবিধাগুলো বহাল রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

অঘোষিত স্বর্ণ, হীরা ও রৌপ্য বৈধ করার সুযোগ দিয়ে ‘স্বর্ণমেলা’ আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধের মাধ্যমে এককালীন সাধারণ ক্ষমা দিলে অলস মূলধন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আসবে এবং এতে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। ২০১৯ সালে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত স্বর্ণমেলার উদাহরণ টেনে বাজুস বলছে, সে সময় সরকার রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল। একই মডেল পুনরায় চালু করা হলে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বাজুসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, পণ্যের মূল্য প্রদর্শনের সময় ভ্যাট আলাদাভাবে যোগ করা হয়, ফলে বিলের সময় অতিরিক্ত মূল্য যুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা ভ্যাট এড়িয়ে যেতে চান। এ কারণে ভ্যাট কাঠামো যৌক্তিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হীরা আমদানিতে উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে দেশে ডায়মন্ড প্রসেসিং শিল্প গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যা নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে দূর করা সম্ভব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত