
ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় তেল উত্তোলন ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি ও খাদ্যের বৈশ্বিক সরবরাহেও চাপ বাড়ছে এবং বিশ্ববাজারে দামও ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। সাধারণত দেশে ডলারের দর বাড়লে আমদানির খরচ বাড়ে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতিতেই পড়তে দেখা যায়। এ বাস্তবতায় খাদ্যশস্য, জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা একদিকে বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি-অধ্যুষিত অনেক এলাকায় শিল্পকারখানা ও ব্যাংক শাখা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এসব এলাকা থেকে আগের মতো স্বাভাবিক রেমিট্যান্স আসাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দেশের ডলারের বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং দরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।
ইতিমধ্যে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে ডলার কিনতে আগের তুলনায় বেশি দাম দিচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তব্যাংক বাজার ও খোলাবাজার—দুই জায়গাতেই মার্কিন মুদ্রার দর বাড়তে শুরু করেছে, যা সামগ্রিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্যাংক ও বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, এত দিন বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৫ থেকে ৩৫ পয়সা দরে কিনছিল ব্যাংকগুলো। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক দিনে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯৫ পয়সায় উঠেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে ব্যাংকগুলোর খরচও বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার আন্তব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২২ টাকা ৬০ পয়সায়। আগের দিন যা ছিল ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে ডলারের দর ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছিল। খোলাবাজারেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে সেখানে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা ৭০ থেকে ৮০ পয়সায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সামনে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক লেনদেনের পরিশোধ সম্পন্ন করতে হবে। ছুটির আগে এসব পরিশোধ শেষ করার জন্য অনেক ব্যাংক এখন প্রয়োজনীয় ডলার ধরে রাখছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। এ সব কারণ মিলিয়েই ডলারের চাহিদা ও দর হঠাৎ কিছুটা বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের প্রথম সাত দিনে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ১০৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩৮ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৩৫২ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৯২৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪২৬ কোটি ডলার বা প্রায় ২২ শতাংশ। গত অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে প্রায় ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণেই গত এক বছরে ডলারের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।
তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বাজারে ডলারের দাম বাড়তে পারে—এমন ধারণা ছড়িয়ে পড়ায় বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো কখনো কখনো ডলার ধরে রাখার চেষ্টা করছে বলে জানান ব্যাংকাররা। এতে বাজারে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং অস্থিরতা বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করেনি। ফলে রিজার্ভ কমার প্রবণতা থেমে উল্টো গত এক বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার (গ্রস)। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী যা ৩০ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। তবে সম্প্রতি এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) দায় পরিশোধের পর তা কমে প্রায় ৩৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এই ঘাটতি ছিল ১১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ২ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ১৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
৪ মিনিট আগে
ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমা প্রায় দ্বিগুণ করে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে এ ধরনের ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ শতাংশ। আগে গ্রাহকেরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ঋণ সুবিধা পেতেন।
১ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় টানা ১০ দিন জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং চালুর পর তা প্রত্যাহার করেছে সরকার। তবে রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে জ্বালানিস্বল্পতা ও সরবরাহ সংকটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সারা দেশের দোকান এবং বিপণিবিতানগুলোয় আলোকসজ্জা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার দোকান মালিক সমিতি ও অন্য ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
৭ ঘণ্টা আগে