Ajker Patrika

হিসাব খোলার পথ সহজ রাখতে হবে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হিসাব খোলার পথ সহজ রাখতে হবে
ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ।

ব্যাংক হিসাব খোলার শুরুতেই টিআইএন বাধ্যতামূলক করার বার্তা নতুন গ্রাহকদের একটি অংশের কাছে নেতিবাচকভাবে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে, যাঁদের আয় করযোগ্য নয়, কিন্তু নিরাপত্তার জন্য বা সামান্য সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে আসতে চান, তাঁদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় শঙ্কা তৈরি হতে পারে। এই শঙ্কা যদি মানুষের মনস্তত্ত্বে স্থায়ী প্রভাব ফেলে, তাহলে করজাল সম্প্রসারণের লক্ষ্যও কাঙ্ক্ষিত ফল না-ও দিতে পারে।

অর্থনীতিকে আরও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে হলে তার আগে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে মানুষের জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার পথ যতটা সম্ভব সহজ, স্বস্তিদায়ক ও নির্ভার রাখতে হবে। শুরুতেই বাধ্যবাধকতা আরোপের শর্ত এ ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হবে বলে মনে হয় না। বরং এর পরিবর্তে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকের লেনদেন পর্যবেক্ষণে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। যে কেউ নতুন হিসাব খোলার পর তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত লেনদেনের ধরন, জমার পরিমাণ এবং অর্থের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে একটি নির্দিষ্ট সীমার বেশি লেনদেন বা আমানত শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে টিআইএন গ্রহণের জন্য অবহিত করা যেতে পারে। এতে একদিকে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যুক্ত হতে পারবেন, অন্যদিকে প্রকৃত অর্থে যাঁদের আর্থিক কর্মকাণ্ড কর প্রশাসনের নজরে আসা প্রয়োজন, তাঁদের চিহ্নিত করাও সহজ হবে।

নতুন হিসাবের পাশাপাশি বিদ্যমান হিসাবগুলোর লেনদেন প্রবণতাও আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা দরকার। বর্তমানে টিআইএন না থাকলে আমানতের সুদের ওপর ১৫ শতাংশ এবং টিআইএন থাকলে ১০ শতাংশ হারে কর কেটে রাখার বিধান কার্যকর রয়েছে। ব্যাংকগুলো সেই অনুযায়ী করও কেটে রাখছে। ফলে এমন অনেক গ্রাহক থাকতে পারেন, যাঁরা টিআইএন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বড় অঙ্কের অর্থ জমা রাখছেন কিংবা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ লেনদেন করছেন, কিন্তু তাঁদের লেনদেনে এই কর কর্তনের হার আরও বেশিও হতে পারে। কর প্রশাসনের জন্য এসব ক্ষেত্রে আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা অধিক ফলপ্রসূ হতে পারে।

কর প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সম্ভাব্য করযোগ্য আয়, বড় অঙ্কের লেনদেন এবং প্রকৃত কর ফাঁকির ঝুঁকি রয়েছে—এমন হিসাবগুলোকে চিহ্নিত করা। সাধারণ সঞ্চয়কারীকে শুরুতেই অতিরিক্ত প্রশাসনিক শর্তের মুখোমুখি করা হলে উল্টো বার্তা যেতে পারে। এতে করভিত্তি সম্প্রসারণের পরিবর্তে একটি অংশের মানুষ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আসতেই নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক অনেকাংশেই আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু যদি হিসাব খোলার প্রাথমিক ধাপেই তাঁর মনে হয়, তাঁকে একটি জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করতে হবে বা করব্যবস্থার অতিরিক্ত নজরদারির আওতায় চলে যেতে হবে, তাহলে তাঁর সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে।

লেখক: ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সাবেক চেয়ারম্যান, এনবিআর

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত