Ajker Patrika

'হামর ঈদের দিনের কথা মনেই নাই'

আসাদুজ্জামান মামুন, গাইবান্ধা
'হামর ঈদের দিনের কথা মনেই নাই'

তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র নদীর চরের বাসিন্দারা ভালো নেই। করোনাকালীন ও লকডাউনে গাইবান্ধার চরবাসীদের আর্থিক দৈন্যতার মধ্যে রীতিমতো কর্মহীন দিন যাপন করতে হচ্ছে। তাই ঈদ নিয়ে তাদের মনে কোন আনন্দ নেই।

গাইবান্ধা শহর থেকে ১১ কিলোমিটার পূর্বদিকে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদী। সেখানকার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পোড়ার চর ও উজান বোচাগাড়ীর চর। তিস্তার মাঝ বরাবর জেগে ওঠা এই দুই চরে ৫ শতাধিক পরিবার বাস করে। এদের মধ্যে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাই বেশি। দিন মজুর পরিবারের লোকজন বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মজুরের কাজ করে সারা বছরের খাবার জোগায়। কিন্তু গত করোনার সময় থেকে এখন পর্যন্ত দরিদ্র মজুররা কোথাও কাজে যেতে পারেনি। ফলে কেউ গবাদিপশু বিক্রি করে সংসার চালিয়েছে। অথবা কেউ দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দুবেলা খাবার জোগাড় করেছে। অধিকাংশ পরিবারের মধ্যে এবারও কোন ঈদের আনন্দ নেই। কোরবানি ঈদের প্রভাব পড়েনি তাদের মধ্যে। নতুন কাপড় তো দূরের কথা, ঈদে ভালো মন্দ খাবেন এ অবস্থাও তাদের নেই। ত্রাণ সাহায্য জোটেনি অধিকাংশ দরিদ্র পরিবারে।

পোড়ার চরের প্রবীণ বাসিন্দা গেনলা শেখ জানান, 'হামার আবার কিসের ঈদ বাহে? তিনটা সন্তান ও বউ আলেকজান বিবি আছে ঘরে। আগে সিলেট গিয়ে দিন মজুরের কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠাতাম। কিন্তু লডডাউনের কারণে দেড় বসর থাকি ঘরত বসনা। কাজ কাম নাই, ঘরে খাবারও নাই। যেদিন কাজ করতে পারি এখানে সেখানে সেদিন ভাত জোটে। সে কারনে হামর ঈদের দিনের কথা মনেই নাই।'

কথা হয় ৭০ বছর বয়সের আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। গায়ে গতরে কমতি নেই। জমাজমি বলতে পোড়ার চরে ৪ বিঘা বালু মাটি। দুই ছেলে বাবু আর লাল মিয়া ঢাকার পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। আর তিন মেয়ে ঘরে আছে, যারা বিয়ের উপযুক্ত।

দুই ছেলে ঢাকায় কাজ করে যা রোজগার করেন আর তিনি নিজে হাত নেড়ে যা রোজগার করেন তাতে ৬ জনের পরিবার সুখেই চলছিল। কিন্তু গেল বছরের করোনায় বাড়ি এসে যানবাহন না থাকায় দেরি করে পৌঁছান কারখানায়। কিন্তু ততক্ষণে তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। খালি হাতে ফেরেন বাড়িতে। লকডাউনে কোন কাজ কর্ম করতে পারেনি। তাই পিতা আনোয়ার হোসেনের কৃষি মজুরের কাজ করে যা জোটে তাতে একবেলা খাবার জোটে কোনোমতে।

আনোয়ার হোসেন জানান, ঈদের খবর আমরা জানি না। আয় রোজগার নাই, তাই কোরবানি তো দূরের কথা, ঈদের দিন নিজের ঘরের মুরগি জবাই দেওয়া লাগবে।

পোড়ার চরের ইউপি মেম্বার রেজাউল করিম জানান, এবার ঈদে কোরবানি নেই। প্রতি বছর এই চরের ৪ /৫টা পরিবার কোরবানি দিত কিন্তু এবার তারা কোরবানি দিতে পারবে না। সরকারি সাহায্য আসে খুব কম। তাতে চরের কারও চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন জানান, কোন মানুষ না খেয়ে থাকবে না। আমরা প্রচুর রিলিফ দিচ্ছি। এবার ঈদের আগেই ১ লাখ ৬৫ হাজার মানুষের মধ্যে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত