Ajker Patrika

উল্লাপাড়ায় অযত্নে বঙ্গবন্ধু কর্নার

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২১, ১৪: ৫৪
উল্লাপাড়ায় অযত্নে বঙ্গবন্ধু কর্নার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অযত্ন, অবহেলা আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্লভ ছবি সংবলিত বঙ্গবন্ধু কর্নার পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত লাল-সবুজের বাংলাদেশকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের চর্চা অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকার সারা দেশে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু কর্নার করার উদ্যোগ নেয়। 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় স্কুল লার্নিং ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (SLIP) প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে প্রতিটি স্কুলে বঙ্গবন্ধু কর্নারের জন্য বই এবং বঙ্গবন্ধুর দুর্লভ ছবিসংবলিত ইতিহাস প্যানা ফ্রেমে স্কুলের দেয়ালে লাগানোর নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই উল্লাপাড়া উপজেলার বাঙ্গালা ইউনিয়নের ৩৪ নম্বর সিমলা সোনাভান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অব্যবহৃত পরিত্যক্ত কক্ষের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষের ভেতরে বিছানা স্থাপন করে বানানো হয়েছে শয়নকক্ষ। 

এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ও সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য প্রস্তাব দেন। 

বঙ্গবন্ধু কর্নার অবমাননার বিষয়টি দ্রুত গ্রামবাসীর মধ্যে জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম দুলাল সাংবাদিকদের বলেন, একজন প্রধান শিক্ষকের কাছে এমন বিষয় কখনো প্রত্যাশা করা যায় না। তাঁর এমন কাজে সত্যিই আমরা ব্যথিত। 

বিষয়টি খুবই দুঃখজনক উল্লেখ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য চাঁদ আলী সরকার বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর আদর্শকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রধান শিক্ষক যা করেছেন তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। 

উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়সাল কাদের রুমি জানান, এ ধরনের জঘন্যতম অপরাধ যদি কেউ করে থাকে, তবে সেটা কোনো ভুল নয় বরং অন্যায়। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ তাঁকে ধিক্কার জানায়। ওই প্রধান শিক্ষকের অবশ্যই শাস্তি হওয়া উচিত। 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মন্ডল বলেন, `বিষয়টি আমার জানা ছিল না, তবে এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত