Ajker Patrika

পঞ্চগড়ে অধ্যক্ষের বাড়িতে ডাকাতি, প্রতিবেশী যুবকসহ ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি 
পঞ্চগড়ে অধ্যক্ষের বাড়িতে ডাকাতি, প্রতিবেশী যুবকসহ ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার
পঞ্চগড়ে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম ব্রিফ করেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দা আলম (৩৭)। প্রতিবেশী বাড়ির মালিক কলেজ অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর কাছে এক বিঘা জমি বর্গা না পাওয়ায় ক্ষুদ্ধ হন তিনি। সম্প্রতি অধ্যক্ষ নুরুল্লাহ হজে যান। আর এই সুযোগে নুরুল্লাহর বাড়িতে ডাকাতি করার পরিকল্পনা করেন আলম। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে জানালা ভেঙে নুরুল্লাহর বাড়িতে দলবল নিয়ে ডাকাতি করেন তিনি। নুরুল্লাহর স্ত্রী, শাশুড়ি ও শিশুসন্তানদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আট ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন লুট করেন তাঁরা। এই ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানা গেছে বলে পুলিশ বলেছে।

আজ শুক্রবার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম এক প্রেস ব্রিফ করেন। তিনি জানান, হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় কলেজ অধ্যক্ষ নুরুল্লাহর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মূল হোতা আলমসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ এলাকার আলম, মজিবর রহমান (৩৫), রমজান আলী (৩০), সাদ্দাম হোসেন (৩০), আশিক (১৯) ও জুবায়ের (১৯)। গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিটমহল, পুকুরীডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল।

পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী আলমকে সদর উপজেলার জিয়াবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন, সিম কার্ডসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সাদ্দাম, জুবায়ের, রমজান, মজিবর ও আশিক দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন এবং আলমকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, এই ডাকাত চক্র সংঘবদ্ধ আন্তজেলা চক্র। তারা পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এই ডাকাতির মামলার পলাতক আসামি কামরুল ও মনিরকে গ্রেপ্তারে এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত