Ajker Patrika

নওগাঁয় আকস্মিক ঝড় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

  • রোববার রাতের ঝড়ে ৭৩১ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি।
  • ১৫ মিনিটের ঝড়ে অনেক বসতবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায়।
মান্দা ও নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁয় আকস্মিক ঝড় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
নওগাঁয় রোববার রাতের ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বদলগাছী আনসার ক্যাম্প। ছবি: আজকের পত্রিকা

নওগাঁয় গত রোববার রাতে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঝড়ে ঘরবাড়ি ছাড়াও কলা, ভুট্টা, গম, আলু, শাকসবজিসহ ৭৩১ দশমিক ৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কলাবাগানের।

রোববার রাত প্রায় ১০টার দিকে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা এই ঝড়ে অনেক বসতবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায়। এ ছাড়া আম, কাঁঠাল, ইউক্যালিপটাস, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙে পড়ে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১১টি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ২২৫ হেক্টর জমির কলা, ২১৬ হেক্টর জমির ভুট্টা, ২১৬ হেক্টর জমির গম, ২৫ হেক্টর জমির আলু এবং ৪৯ দশমিক ৫ হেক্টর জমির বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬৭ কোটি টাকার কলা এবং ৫ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভুট্টা পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন মাঠ ও বাগান ঘুরে দেখা যায়, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে কলা, পেঁপে, ভুট্টা, গম, আলু, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল মাটিতে হেলে পড়েছে। কলাবাগানগুলোর অধিকাংশ গাছের মাথা বাতাসে ভেঙে গেছে। কলার কাঁদি নষ্ট হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। যা আর দু-এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষক ঘরে তুলতেন। পেঁপেগাছের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। অনেক জমির গমের শিষ ভেঙে হেলে পড়েছে। হেলে পড়েছে ভুট্টার গাছগুলোও। আলু ও শাকসবজির খেতগুলোতে বৃষ্টির কারণে জমেছে পানি।

বদলগাছী উপজেলার বালুভরা ইউনিয়নের কুশারমুড়ি গ্রামের কলাচাষি জুয়েল রানা বলেন, ‘গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এবার প্রায় ছয় বিঘা জমিতে কলার বাগান করেছিলাম। এক রাতের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে আমার বাগানের অর্ধেকের বেশি গাছ ভেঙে পড়েছে। বেশির ভাগ কলাবাজারে তোলার উপযোগী হয়ে উঠছিল। আর দু-এক সপ্তাহের মধ্যে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এক রাতের ঝড়ে আমার আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হলো।’

নওগাঁ সদর উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের চুনিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক আহসান হাবীব বলেন, আমার দুই বিঘা জমির গম হেলে পড়েছে। আবহাওয়া যদি দ্রুত ভালো না হয়, তাহলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মান্দার নাড়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জামিনুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন তিনি। ঝড়ে সব গাছ ভেঙে যাওয়ায় ওই জমি থেকে এখন আর কোনো ভুট্টা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

মান্দার পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাসিন্দা জামিনুর রহমান জানান, ঝড়ে তাঁর বসতবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে গেছে এবং ঘরের ঢেউটিন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন নতুন টিন না লাগালে ওই ঘরে বসবাস করা সম্ভব নয়।

মান্দা উপজেলা ইউএনও আখতার জাহান সাথী জানান, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি এলাকা তিনি পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে উপজেলা কৃষি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মন্ডল বলেন, গত রাতের ঝড়বৃষ্টিতে যেসব জমির কলা, ভুট্টা এবং পেঁপে আক্রান্ত হয়েছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আর সম্ভব নয়। তবে আলু ও কিছু শাকসবজির জমিতে জমে থাকা পানি শুকিয়ে গেলে সেখান থেকে কিছু ফসল চাষিরা বিক্রি করতে পারবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আটক ৩ ট্যাংকার ফেরত দিলে ভারতকে হরমুজে যাতায়াতের সুযোগে দেবে ইরান

এনসিপি নেতারা গণভোট নিয়ে অর্ধেক বুঝেছেন: আইনমন্ত্রী

কফি পানের ভিডিওটিও এআই দিয়ে তৈরি, নেতানিয়াহু কি তবে মারা গেছেন

ইসরায়েলে শব্দের ১২ গুণ গতির ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ নিক্ষেপ ইরানের, বৈশিষ্ট্য কী

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত