Ajker Patrika

রেলের জমি দখল করে গরু-ছাগলের খামার

  • ৩০ শতক জমি দখল করে হাঁস, মুরগি ও গরু-ছাগলের খামার
  • রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তির কাছে ব্যাখ্যা তলব করে হাজির হতে নোটিশ দিলেও শোনেননি
  • বেড়া দিয়ে খামার করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে বিঘ্ন
ইলিয়াস আহমেদ, ময়মনসিংহ 
রেলের জমি দখল করে
গরু-ছাগলের খামার
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে হাঁস-মুরগি ও গরু-ছাগলের খামার। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় রেলওয়ের জমি দখল করে এক ব্যক্তি হাঁস, মুরগি ও গরু-ছাগলের খামার গড়ে তুলেছেন। দখল হওয়া ৩০ শতক জমি উদ্ধারে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তির কাছে ব্যাখ্যা তলব করে হাজির হতে নোটিশ দিলেও তা শোনেননি। তিনি সেখানে হাঁস পালনের জন্য একটি ছোট পুকুরও খনন করেছেন। চারদিকে প্লাস্টিকের বেড়া দিয়ে এই খামার তৈরি করায় স্থানীয় মানুষের চলাচলে কিছু বিঘ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের পাশে এবং রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) কার্যালয়ের বিপরীত পাশে ৩০ শতক জায়গা দখল করে এই খামার গড়ে তোলা হয়েছে। তিন মাস ধরে রেলওয়ের জায়গায় গড়ে তোলা খামারটিতে গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি লালনপালন করছেন শহীদ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি, লিজের আবেদন করেই চারদিকে বেড়া দিয়ে গড়ে তুলেছেন খামার। তিনি এখানে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করে দিয়েছেন।

শহীদ উদ্দিন বলেন, ‘পারিবারিক খামার গড়ার লক্ষ্যে জায়গাটি বেছে নিয়েছি। জমিটি লিজ নিতে আবেদনও করেছি। তবে তারা লিজের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।’

লিজের বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগেই কেন খামার তৈরি করা হয়েছে এমন প্রশ্নে শহীদ উদ্দিন বলেন, ‘বিশেষ এবং সুস্বাদু মাংস সরবরাহের জন্যই দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা থেকে খামারটি করা হয়েছে। এখানে খারাপ কিছু তো হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বেকারদেরও কর্মের সুযোগ করে দিয়েছি।’

জানা গেছে, ২০টি ছাগল, ২২টি ভেড়া, ৩৮টি হাঁস, ১৫টি মুরগি এবং দুটি গরু পালন করা হচ্ছে এই খামারে। ছাগলের পাশাপাশি মানুষের থাকার জন্যও ঘর নির্মাণ করা করা হয়েছে এখানে। হাঁস রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাটি সরিয়ে খানিকটা জায়গায় করা হয়েছে পুকুর। চারদিকে প্লাস্টিকের বেড়ার কারণে মানুষের চলাচলে কিছু বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নূর উদ্দিন বলেন, রেলস্টেশনসংলগ্ন জায়গাটি দখল করে অবৈধভাবে খামার গড়ে তোলা হয়েছে। একজন মানুষ কীভাবে এত সাহস নিয়ে সরকারি জায়গায় খামার করছেন, বুঝে আসে না। এখানে স্টেশন মাস্টার, রেলওয়ে থানা-পুলিশ রয়েছে। এটি যদি দ্রুত বন্ধ না করা হয়, তাহলে রেলের জায়গা দখলে মানুষ আরও উৎসাহিত হবে।

আমিনুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, ‘কয়েক মাস ধরেই দেখছি, জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা হচ্ছে। এখন পুরোপুরি দখল হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, জায়গাটিতে

যখন খামার করা হচ্ছিল, তখন কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। রেলের এই জায়গা কারও লিজ নেওয়ারও তো সুযোগ নেই।’

খামারের শ্রমিক মানিক মিয়া বলেন, ‘রেলের জায়গায় খামার হলেও আমাদের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখানে কাজ করে চলতে পারছি। পরিবারকেও একটু সহযোগিতা করা যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘চোখের সামনে রেলের জায়গায় খামার তৈরি করা হয়েছে তা দেখেছি, কিন্তু কিছু

করতে পারছি না। নিয়ম অনুযায়ী ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত দিয়েছি। শুনেছি, তাঁরা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।’

ঢাকা বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দখলকারী শহীদ উদ্দিনকে নোটিশ করা হয়েছিল, ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য; কিন্তু নির্ধারিত দিন গত মঙ্গলবারে তিনি হাজির হননি। তারপর কানুনগো গিয়ে আবারও সেই জায়গার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। আমরা খুব দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে তা উচ্ছেদ করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত