Ajker Patrika

মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, স্টেনোটাইপিস্টকে শোকজ

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, স্টেনোটাইপিস্টকে শোকজ
স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানের। ছবি: সংগৃহীত

মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমানের ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় অভিযুক্তকে তিন দিনের মধ্যে ভাইরাল ভিডিও ফুটেজের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। মো. মিজানুর রহমান প্রায় ৩৫ বছর ধরে একই কর্মস্থলে থেকে পুরো অফিসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রেখেছেন বলে জানা গেছে।

মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে স্টেনোটাইপিস্ট পদে যোগ দেওয়া মিজানুর রহমান বর্তমানে কার্যালয়ে ব্যাপক ক্ষমতাধর হিসেবে পরিচিত। যদিও সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর বদলির বিধান থাকলেও তিনি তা মানেন না। গত ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক তাঁকে মাদারীপুরে বদলি করেন এবং ছাড়পত্রও দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি উচ্চ আদালতে রিট করে পুনরায় মুন্সিগঞ্জেই বহাল থাকেন। এভাবে বারবার বদলি আদেশ ঠেকিয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একই স্থানে জেঁকে বসেছেন তিনি।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া ৪২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মিজানুর রহমান এক ব্যক্তির সঙ্গে টাকার দর-কষাকষি করছেন। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কত আনছেন?’ অপর পক্ষ ৫০ হাজার আনছি, মিজান অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি তো ৭০ আনতে বলছি, ৫০ হবে না। পরে অনেকটা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তিনি টাকাগুলো গ্রহণ করেন।’

এ বিষয়ে স্টেনোটাইপিস্ট মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভিডিওতে দেখা টাকাগুলো তাঁর বাসা ও দোকান ভাড়ার। তবে একজন সরকারি কর্মচারীর অফিসে বসে এমন লেনদেন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ওমরাহ পালনে গিয়ে অবৈধভাবে স্বর্ণ ও রিয়াল বহনের দায়ে সৌদি আরবে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন মিজান। প্রায় দুই মাস সৌদি কারাগারে থাকার পর তিনি দেশে ফেরেন। এ ছাড়া একজন সাধারণ কর্মচারী হয়েও জেলা শহরে তাঁর নির্মাণাধীন আটতলা বিলাসবহুল বাড়ি দেখে হতবাক স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পদে থাকায় তাঁর প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক জানান, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের পুরো প্রক্রিয়াটি মিজানের ইশারায় চলে। লাইসেন্সপ্রতি ৫০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় তাঁকে।

আরও জানান, জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়ন নেই। তবে মিজানের সঙ্গে মাসিক চুক্তিতে থাকলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ব্যবসা চালানো যায়। এমনকি অভিযানের আগেই তিনি মালিকদের সতর্ক করে দেন।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জের সিভিল সার্জন কামরুল জমাদ্দার জানান, ভাইরাল ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে মিজানুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত