Ajker Patrika

দীর্ঘ ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটক নেই সুন্দরবনে

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২২, ১৩: ৫৪
দীর্ঘ ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটক নেই সুন্দরবনে

চলতি বছরের দুর্গাপূজা ও ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটিতে সুন্দরবনের পর্যটন স্পটগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি দর্শনার্থীর ভিড় থাকবে বলে আশা করেছিল বন বিভাগ। কিন্তু পূজাসহ গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটিতেও সুন্দরবনের পর্যটন স্পটগুলোতে তেমন কোনো পর্যটক আসেননি। মাত্র ৪৫০ থেকে ৫০০ জন পর্যটক এসেছেন। এর আগে পূজার ছুটিতে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার এসেছিলেন মাত্র ৩৫০ জন পর্যটক। 

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে আসেন দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা। সুন্দরবনের সেরা আকর্ষণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, নানা প্রজাতির গাছপালা ও জীবজন্তু। এ ছাড়া বাঘ দেখার আশায় পর্যটকেরা দিনের পর দিন বনে অপেক্ষা করেন। এসব পর্যটকের জন্য সুন্দরবনে রয়েছে করমজল, হাড়বাড়িয়া, হিরণ পয়েন্ট, কটকা-কচিখালী, দুবলাসহ বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট। এসব পর্যটন স্পটে বিভিন্ন উৎসবসহ শীতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় লেগে থাকে। এমনকি পর্যটকের ঢলে হিমশিম খেতে হতো বনপ্রহরীদের। কিন্তু এবার সেই ছুটিতে পর্যটক ও দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। যদিও সুন্দরবনে পর্যটন মৌসুম মূলত শুরু হয় নভেম্বর মাসে। 

তবে সুন্দরবন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণে অব্যবস্থাপনা, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব, দর্শনীয় এলাকাগুলো আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে না তোলাসহ নানা কারণেই ভ্রমণপিপাসুদের আকৃষ্ট করতে পারছে না বন বিভাগ।

করমজল বন্যপ্রাণী ও পর্যটনকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘আমরা এবার পূজার ছুটিতে যে হারে পর্যটকের আশা করেছিলাম, সে অনুযায়ী আসেননি। মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ জন পর্যটক এসেছেন। অথচ আমরা অন্তত ২-৩ হাজার দর্শনার্থী হওয়ার আশা করেছিলাম। সেভাবে আমরা প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটিতেও তেমন কোনো পর্যটক আসেননি। মাত্র ৪৫০ থেকে ৫০০ জনের মতো এসেছেন।’ 

কেন পর্যটকেরা সুন্দরবনে আসছেন না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে বন কর্মকর্তা বলেন, ‘কেন পর্যটক আসছেন না, তা ঠিক বুঝতে পারছি না। মাঝখানে তিন দিন বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করেছে। সেটিও পর্যটক না আসার কারণ হতে পারে।’ 

সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ শুধু পর্যটন খাত দিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল করে রেখেছে। সে তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। সুন্দরবনসহ দেশের অন্যান্য দর্শনীয় স্পট আকর্ষণীয়ভাবে সাজাতে পারলে এই খাত থেকে আমরাও বড় ধরনের রাজস্ব আয় করতে পারব। এর জন্য বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যটন সংস্থাকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সত্যিকার অর্থে সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।’ 

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, সুন্দরবনে পর্যটক টানতে এবং স্পটগুলো আকর্ষণীয় করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ২৫ কোটি টাকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি, ওই সব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পর্যটক ও দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বাড়বে। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত