Ajker Patrika

আরও এক মামলায় গ্রেপ্তার শওকত মাহমুদ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আরও এক মামলায় গ্রেপ্তার শওকত মাহমুদ
শওকত মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গ্রেপ্তার দেখানোর এই নির্দেশ দেন।

শওকত মাহমুদকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোরশেদ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন এবং পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতের শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই জিন্নাত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আবেদনে বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট মঞ্চ ’৭১ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ওই বছরের ২৮ আগস্ট সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটরিয়ামে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, তাঁরা প্রকৃতপক্ষে দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। মামলার এজাহারনামীয় ১৬ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জন ব্যক্তি ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

গোয়েন্দা রমনা বিভাগের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামিরা মঞ্চ ’৭১-এর ব্যানারে সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। আসামি শওকত মাহমুদের উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি তাঁর দলীয় লোকজনসহ একত্র হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক সভা করেছেন বলে জানা যায়।

এ জন্য মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে শওকত মাহমুদকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

ওই দিন (২৮ আগস্ট) ঘটনাস্থল থেকে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরদিন ২৯ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। যাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়, তাঁদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আসামিরা হলেন লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এ টি এম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।

গত বছরের ৭ ডিসেম্বর শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিমের বিরুদ্ধে করা সরকার উৎখাতের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১১ ডিসেম্বর শওকত মাহমুদকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ১৯ ডিসেম্বর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত