Ajker Patrika

কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা থেকে ৪ শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা থেকে ৪ শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ
কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে আজ রোববার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। ছবি: আজকের পত্রিকা

কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে বসানো চার শতাধিক ঝুপড়ি দোকান ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে নিজ দায়িত্বে দোকানপাট সরিয়ে না নেওয়ায় আজ রোববার (১৫ মার্চ) এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজু বিন আফনান এ অভিযান চালান। একই সঙ্গে সৈকতের লাবণী, কলাতলী, হিমছড়ি, ইনানীসহ বিভিন্ন অংশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্থাপনা সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়।

এর আগে ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সৈকতে গড়ে তোলা সব অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ নির্দেশনার পর গত বৃহস্পতিবার থেকে সৈকতে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে জেলা প্রশাসন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ করিম বলেন, ‘১২০ কিলোমিটার কক্সবাজার সৈকতের জনপ্রিয় পর্যটনের মধ্যে সুগন্ধা পয়েন্ট অন্যতম। কিন্তু গত ১৫-১৬ বছর ধরে এই সৈকতের বালিয়াড়িতে যত্রতত্র ঝুপড়ি দোকান ও অবৈধ স্থাপনা বসিয়ে সাগরপাড় বস্তি বানানো হয়েছিল। দোকানপাট ও হকারের কারণে সৈকতে হাঁটাচলাও দায় হয়ে পড়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশনার পর কয়েকবার এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।’

করিম উল্লাহ করিম আরও বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের কথিত ভ্রাম্যমাণ কার্ড নিয়ে হকাররা সেখানে ঝুপড়ি দোকান বসিয়ে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে। এই কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সুবিধা নিয়ে বৈধতা দিয়েছে। এবার কক্সবাজারের সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষায় যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবিদার।’

সুগন্ধা সৈকতের শামুক-ঝিনুক ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ও যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমরা কোনো দখলদার নই। জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়ে সরকারি রাজস্ব দিয়ে ব্যবসা করে আসছি।’

অভিযোগ উঠেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকায় সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে ব্যাপকভাবে দোকানপাট ও নানা স্থাপনা তৈরি করা হয়। ২০২৫ সালে কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে শত শত কার্ড দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে আজ সকালে সৈকতের ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নানের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে বালিয়াড়ি থেকে সরে আসার পরামর্শ দেন। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জেলা প্রশাসন থেকে সৈকতের বালিয়াড়িতে বসার জন্য কোনো কার্ড দেওয়া হয়নি। যেসব কার্ড দেওয়া হয়েছে তা ভ্রাম্যমাণ।’

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘সৈকত থেকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দুই বছরের কন্যাকে নিয়ে ২৩ তলা থেকে বাবার ঝাঁপ, দুজনেরই মৃত্যু

সব লঞ্চার ‘ধ্বংসের’ পরও এত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে ছুড়ছে ইরান, আর কত অবশিষ্ট

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি

ইরান এতগুলো দেশে হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প

সাবেক সংসদ সদস্য জি এম ফজলুল হক মারা গেছেন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত