Ajker Patrika

বরগুনার তালতলী: খাল খননে দায়সারা কাজ

  • সামান্য খনন করে খালের বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে।
  • খননে উপকার হবে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি 
বরগুনার তালতলী: খাল খননে দায়সারা কাজ
দায়সারা খনন করে খালের বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। গতকাল বরগুনার তালতলী উপজেলার বথিপাড়া খালের অংকুজানপাড়া এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বরগুনার তালতলী উপজেলার ৯টি খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপজেলা সদস্য ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চু ও তাঁর লোকজন খালগুলো খনন করছেন। দায়সারা খনন করে খালের বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে; যাতে খাল খননের অনিয়ম ধরা না পড়ে। এ খননে কোনো উপকার হবে না বলে মনে করছেন কৃষকেরা।

জানা গেছে, জলবায়ু ও দুর্যোগ-সহনশীল ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ প্রকল্পের অর্থায়নে নলবুনিয়া সমবায় সমিতির আওতায় ১৭ হাজার ৫৫২.৫ মিটার খাল খননের প্রকল্প নেওয়া হয়। বরগুনা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী এ খাল খননের কাজ দেখভাল করেন। নলবুনিয়া খাল, চিলু মাঝির খাল, সুন্দরিয়া খাল, সুন্দরিয়া শাখাখাল, তাঁতিপাড়া খাল, চামোপাড়া খাল, মৌরাবির খাল, বথিপাড়া খাল ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া খাল খননে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮৩ টাকা।

সমিতির লোকজনের খাল খননের কথা থাকলেও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কামরুজ্জামান বাচ্চু তাঁর লোকজন দিয়ে খাল খনন করাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, ৯টি খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। নামমাত্র খাল খনন করে খালের বাঁধ ছেড়ে দিয়ে পানি ঢোকানো হচ্ছে, যাতে বিষয়টি ধরা না পড়ে। এ খাল খননের সঙ্গে কামরুজ্জামান বাচ্চুর সিন্ডিকেট জড়িত। তাঁরাই ঠিকাদার, তাঁরাই সমিতির সভাপতি-সম্পাদক, আবার তাঁরাই স্বাক্ষর দিয়ে বরাদ্দ টাকা উত্তোলন করেন।

গত রোববার তাঁতিপাড়া, চামোপাড়া, মৌরাবির, বথিপাড়া ও পাওয়াপাড়া-মোয়াপাড়া খাল ঘুরে দেখা গেছে, ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করছেন চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চুর লোকজন। একদিকে ভেকু মেশিন দিয়ে খাল খনন করছেন, অন্যদিকে খালের বাঁধ কেটে পানি প্রবেশ করাচ্ছেন। খাল খনন তদারকির জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অফিসের কেউ নেই।

বথিপাড়া খালপাড়ের বাসিন্দা হাবিব হাওলাদার, মো. মুছা, আব্দুল খালেক ও আব্দুল মান্নান জানান, চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম নামমাত্র খাল খনন করছেন। খালের দুই পাড়ের কিছু মাটি তুলে নিচ্ছেন। গভীর করে খাল খনন হচ্ছে না।

স্থানীয়রা আরও জানান, যেভাবে খাল খনন করছে, তাতে কৃষকদের কোনো উপকারে আসবে না। বৃষ্টি শুরু হলেই পাড়ের মাটিতে খাল ভরে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রফিবুল ইসলাম বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাকে যেভাবে খাল খনন করতে বলেছেন, আমি সেভাবে খনন করছি।’ খাল খননকাজ শেষ না হতেই কেন বাঁধ কেটে দিয়ে খালে পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে, এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘ঠিকমতো খাল খনন করছি। খননের কাজ স্থানীয় সরকারি উপজেলা প্রকৌশলী, বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক পরিচালক দেখভাল করছেন। কিছু অনিয়ম থাকলেও তা সংশোধন করা হবে।’

তালতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত অর্ধেক বিল দেওয়া হয়েছে। কাজের অনিয়মের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, স্থানীয় কৃষকেরা পানি চলাচল করতে খালের বাঁধ কেটে দিয়েছেন।

বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান বলেন, অনিয়মের বিষয় খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকল্প পরিচালক এনামুল কবির বলেন, ‘খাল খননের অনিয়মের একটি বিষয়ে আমি অবগত আছি। ওই স্থানে কালভার্ট করে দেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত