Ajker Patrika

নরসিংদীতে সারোয়ার হত্যা: আর্থিক বিরোধে খুন, গ্রেপ্তার ২

নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীতে সারোয়ার হত্যা: আর্থিক বিরোধে খুন, গ্রেপ্তার ২
সারোয়ার হত্যায় গ্রেপ্তার আনোয়ার হোসেন ও আশিক। ছবি: আজকের পত্রিকা

নরসিংদীর সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকায় মেঘনা নদীর পাড় থেকে উদ্ধার হওয়া যুবক সারোয়ার হোসেন (২২) হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (ভ্যানটেক) ও বিক্রি করা চারটি ব্যাটারি উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় নরসিংদী সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. কলিমুল্লাহ।

নিহত সারোয়ার হোসেন নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দগাতী এলাকার হাজী রহমানের ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি নরসিংদী শহরের টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার দুপুরে সারোয়ার তাঁর অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ের একটি ঝোপের মধ্য থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহত সারোয়ারের বাবা হাজী রহমান বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল-ফারুকের নির্দেশনায় নরসিংদী মডেল থানা-পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে।

তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হারুয়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৭) ও নরসিংদীর বুড়িদিয়ামারা এলাকার কবির হোসেনের ছেলে আশিককে (২১) গ্রেপ্তার করে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ জানান, নিহত সারোয়ারের সঙ্গে গ্রেপ্তার আনোয়ারের আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। ঘটনার দিন আনোয়ার কৌশলে সারোয়ারকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরে তাঁর অটোরিকশা নিয়ে যান এবং ব্যাটারিগুলো বিক্রি করে দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আদালতের অনুমতিতে তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। হত্যার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা কারণ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত