Ajker Patrika

নির্মাণসামগ্রী কিনতে না চাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
নির্মাণসামগ্রী কিনতে না চাওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ
ব্যাংক কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল কিনতে অস্বীকৃতি জানানোয় এক ব্যাংক কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীসহ কয়েকজনকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে থানায় একটি লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর জেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ময়মনসিংহ নগরের চরপাড়া জনতা ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন। ২০২৩ সালে নগরের ময়নার মোড় এলাকায় চার শতক জমি ক্রয় করে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনসহ একটি বাড়ির নির্মাণকাজ ছয়-সাত মাস আগে শুরু করেন।

স্থানীয় সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে বাড়ি নির্মাণে ব্যবহৃত মালামাল তাঁদের কাছ থেকে কেনার প্রস্তাব দেন। তবে এতে রাজি না হয়ে নজরুল ইসলাম নিজের পছন্দমতো মালামাল কিনে বাড়ির নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন সাইফুল ইসলাম। তাঁদের কাছ থেকে মালামাল না কিনলে বাড়ি নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে একাধিকবার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, গতকাল রোববার বিকেলে আবারও বাসায় গিয়ে তাঁদের কাছ থেকে মালামাল নেওয়ার কথা বলা হয়। নজরুল ইসলাম এতে রাজি না হলে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে নজরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী মাসুমা হায়াত, তাঁর ভাই আজিজুল ইসলাম ও প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহম্মেদ আহত হন। হামলাকারীরা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে সাকিম আহম্মেদের মাথায় আঘাত করেন এবং অন্যদের মারধর করেন।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, প্রথমে তিনজন ব্যক্তি এসে দাঁড়িয়ে থাকা তিনজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে আরও দুজন ও অন্য দিক থেকে একজন চাকু নিয়ে দৌড়ে এসে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। তাঁরা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এ সময় ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের স্ত্রী মাসুমা হায়াত বলেন, ‘আমি একা বাসায় থাকি। কয়দিন পরপরই কয়েকজন করে বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যায়। গতকাল ময়নার মোড়ের এই সাইড থেকে রাস্তা দিয়ে কতগুলো মানুষ এসে অতর্কিত অবস্থায় মারধর করতে থাকে। আমি থামানোর জন্য গেলে আমাকে মারধর করে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ব্যাংকঋণ নিয়ে বাড়ি করছি। তারা এসে আমাকে বলে যে, চাঁদা দিতে হবে, না হলে কাজ দিতে হবে। আমি মনে করেছিলাম, হয়তো হুমকি পর্যন্তই থাকবে। কিন্তু এভাবে আক্রমণের শিকার হব, একজন অফিসার হিসেবে আমি এটা কখনোই কল্পনাও করতে পারিনি। আমি এটার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

হামলায় আহত সাকিম আহম্মেদ বলেন, ‘গতকাল বিকেলে আমরা তিনজন দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। নজরুল বলছিলেন, কয়েকজন লোক এসে বলে গেল তাদেরকে কাজ না দিলে কাজ বন্ধ করে দেবে। এই কথা বলার মুহূর্তে হঠাৎ দেখলাম, পাঁচ-সাতজন যুবক দ্রুত দৌড়ে আমাদের দিকে এসে আক্রমণ করে। একপর্যায়ে একজন আমার মাথায় ওই জায়গায় চাকু দিয়ে আঘাত করে।’

অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম নগরের বলাশপুর কলমিস্ত্রি মোড় এলাকার বাসিন্দা। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় আজ দুপুরে নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইফুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, চাঁদা না দেওয়ায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ি নির্মাণ করা ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম সাইফুল ও তাঁর লোকজনের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী কিনতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের মারধর করেছে বলে আমরা সংবাদ পেয়েছি এবং এ ঘটনায় একটি অভিযোগ থানায় পেয়েছি। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত