মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ গতকাল সোমবার পেন্টাগন থেকে ঘোষণা করেছেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” শর্তেই শেষ করব।’ কিন্তু এই দম্ভোক্তি ২০০১ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যা আমেরিকাকে দুই দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আটকে দিয়েছিল। সিএনএনের স্টিফেন কলিনসনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই ‘ইরান জুয়া’ একদিকে যেমন কৌশলগত মহাবিজয় এনে দিতে পারে, তেমনি এটি মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী নরকেও পরিণত করতে পারে।
স্টিফেন কলিনসনের দৃষ্টিতে এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে সম্ভাব্য তিনটি পরিণতি ফুটে ওঠে। প্রথমত, মহাবিজয়। কয়েক দিনের বিমান হামলার ফলে ইরানের দমনমূলক কাঠামো ভেঙে পড়বে এবং সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এক নতুন ও মুক্ত ইরানের জন্ম দেবে। এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি বদলে দিতে পারে। কিন্তু সময় যত গড়াচ্ছে, সেই সম্ভাবনার দ্বার ততই রুদ্ধ হয়ে আসছে।
দ্বিতীয়ত, অসম্পূর্ণ বিজয়। শাসনব্যবস্থা হয়তো টিকে থাকবে, কিন্তু ইরানের পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌশক্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। ইসরায়েলের জন্য এটি সন্তোষজনক হলেও ভবিষ্যতে ইরানকে পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। ফলে ভবিষ্যতে আবারও যুদ্ধের প্রয়োজন হতে পারে।
তৃতীয়ত, চরম বিপর্যয়। ইরানের অবস্থা হবে লিবিয়ার মতো। একটি শক্তিশালী একনায়কতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস হওয়ার পর সেখানে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হবে। ফলে গৃহযুদ্ধ, শরণার্থী সংকট এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত উগ্রপন্থীদের হাতে চলে যাওয়ার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
কলিনসন বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কেন যুদ্ধে গেল, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারছে না। কখনো বলা হচ্ছে ‘রেজিম চেঞ্জ’, কখনো ‘পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’, আবার কখনো ‘সন্ত্রাসবাদের প্রতিশোধ’। লক্ষ্য যখন অস্পষ্ট থাকে, তখন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার এবং চোরাবালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ইতিহাসে এমন কোনো উদাহরণ নেই যেখানে কেবল আকাশপথে আক্রমণ বা অভিযান চালিয়ে একটি স্থিতিশীল ও নতুন সরকার গঠন করা গেছে। ট্রাম্প স্থল অভিযান এড়াতে চাইলেও মাটির নিয়ন্ত্রণ ছাড়া শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব।
ইরান এখন তাদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে’ নেমেছে। কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পার্সি মনে করেন, ইরানের কৌশল এখন যুদ্ধ জয় নয়, বরং ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি ধ্বংস করা। তারা যত বেশি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে পারবে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তত কমবে।
অপর দিকে ইরান শক্তিহীন হলে রাশিয়া ও চীনের ‘পশ্চিমবিরোধী অক্ষশক্তি’ দুর্বল হয়ে পড়বে। ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের ড্রোন ও মিসাইল সরবরাহ বন্ধ হওয়া মস্কোর জন্য বড় ধাক্কা হবে।
এদিকে সিএনএনের নতুন জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৬০ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধের বিপক্ষে। বিশেষ করে তেলের দাম বাড়লে এবং মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে ট্রাম্পের নিজের সমর্থকগোষ্ঠী (মাগা) তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হতে পারে।
সুতরাং, পিট হেগসেথ আশ্বাস দিলেও, যুদ্ধের শেষটা কেউ জানে না। ট্রাম্প হয়তো খামেনিকে হত্যা করে একটি বড় জয় পেয়েছেন, কিন্তু ইরানের মতো একটি জটিল সমাজ ও শাসনব্যবস্থাকে ধ্বংস করার পর সেখানে কী গড়ে উঠবে, তার কোনো পরিকল্পনা হোয়াইট হাউসের কাছে নেই। ইতিহাস বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা প্রায়ই ওয়াশিংটনের কল্পনার বাইরে চলে যায়।

ইরানে চলমান বিমান হামলার ধরন শিগগিরই বদলে যেতে পারে—এমনটাই বলছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাজ্য সিদ্ধান্ত বদলে মার্কিন ভারী বোমারু বিমানকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর (ইউএসএএফ) আঘাত হানার সক্ষমতা প্রায় চার গুণ বাড়তে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এখন সময়ের সঙ্গে এক দৌড়ে নেমেছে। আকাশযুদ্ধে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে এই লড়াই কত দ্রুত শেষ করা যাবে—সেই প্রশ্নই এখন মূল আলোচ্য বিষয়।
৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ক্ষমতার শূন্যতায় ইরানের নাটাই আসলে কার হাতে? মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ আলিরেজা নাদের...
৫ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর শত শত ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করছেন, তখন সবার মুখে একটি প্রশ্ন—তিনি কি ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন? মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট নাহাল তুসির বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্পের এই যুদ্ধের লক্ষ্য মোটাদাগে
৬ ঘণ্টা আগে