
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার সামনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি সরবরাহে সংকট, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে ঝুঁকি—সব মিলিয়ে বিশ্বের দ্রুত উত্থানশীল অর্থনীতিগুলোর একটি ভারতের ওপর চাপ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস-এর এক নিবন্ধে বলা হয়েছে—ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকটাই নির্ভর করে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর। দেশটির তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির বড় অংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এবং এর প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবাহিত হয় গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে। কিন্তু চলমান সংঘাতের কারণে এই পথ ব্যাহত হওয়ায় ভারতে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে দৈনন্দিন অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশটির অনেক রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান এবং হোটেল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জরুরি আইন ব্যবহার করে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার খাতে বণ্টনের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম জ্বালানি মূল্য ও স্থিতিশীল সরবরাহের ওপর নির্ভর করে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সেই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। কারণ এই অঞ্চলের সংঘাত শুধু জ্বালানি নয়, বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থাকেও প্রভাবিত করছে।
বিশ্ববাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট। যুদ্ধের কারণে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই সংঘাত ইতিমধ্যে বৈশ্বিক তেল বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট সৃষ্টি করেছে।
ভারতের জন্য আরেকটি উদ্বেগ হলো অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন ভারতের জন্য জটিল হয়ে উঠেছে।
তবে ভারত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও রাশিয়া থেকে এলপিজি ও তেল আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
বিশ্লেষকদের মতে—ইরান যুদ্ধ ভারতের অর্থনীতিকে বড় ধাক্কা দিতে পারে। তবে তা ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উত্থান সম্পূর্ণ থামিয়ে দেবে—এমনটা এখনই নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয় এবং ভারত কত দ্রুত বিকল্প জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ তৈরি করতে পারে তার ওপর।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক শক্তির বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ৯ দিন পর তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষকেরা ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন এবং অন্ধকার মোড় হিসেবে দেখছেন।
৬ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে যদি বর্তমান শাসনের পতন ঘটে, তবে দেশটিতে গণতন্ত্র আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে জন্ম নিতে পারে ‘আইআরজিস্তান’ নামক এমন এক সামরিক শাসিত রাষ্ট্র, যেখানে ক্ষমতার মূল চাবিকাঠি থাকবে দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ‘ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ বা আইআরজিস
৬ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের মার্চ মাস বিশ্ব ইতিহাসের এক সংকটময় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর মধ্যে চলমান যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রই বদলে দিচ্ছে না, বরং বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে।
৬ ঘণ্টা আগে