
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব আগের তুলনায় ‘কম কট্টর এবং অনেক বেশি যৌক্তিক’। ট্রাম্প এবং পেন্টাগন বারবার এমন দাবিও করে আসছে যে ইরানে ‘শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন’ ঘটে গেছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প যাকে পরিবর্তন বলছেন, তা মূলত কিছু ব্যক্তির অদলবদলমাত্র; প্রকৃত শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তন এখনো সুদূরপরাহত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শুরুতে এক বক্তব্যে বলেন, ‘ইরানের আগের শাসনব্যবস্থা ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তারা সবাই মৃত। পরবর্তী শাসকেরাও প্রায় মৃত। এখন আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একদল মানুষের সঙ্গে কাজ করছি, যাদের সঙ্গে আগে কেউ কাজ করেনি। তাই আমি একে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হিসেবেই বিবেচনা করি।’
তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষকদের মতে, ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বলতে কেবল শীর্ষ পর্যায়ের কিছু মানুষকে প্রতিস্থাপন করা বোঝায় না; বরং এর অর্থ হলো একটি দেশের শাসনপদ্ধতির আমূল রূপান্তর। সেই সংজ্ঞায় ইরানে এখনো কোনো পদ্ধতিগত পরিবর্তন আসেনি। দেশটি এখনো ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে চলে আসা একই স্বৈরতান্ত্রিক ধর্মতাত্ত্বিক ব্যবস্থার অধীনে রয়েছে।
উল্টো যুদ্ধের কারণে ইরানের জটিল শাসনকাঠামোর ভেতরে কট্টরপন্থী সামরিক উপদলগুলোর ক্ষমতা বেড়েছে এবং আমেরিকাবিরোধী মনোভাব আরও জোরালো হয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির ডিরেক্টর মনা ইয়াকুবিয়ান বলেন, ‘এই শাসনব্যবস্থা এখন আরও বেশি কঠোর এবং সরাসরি আইআরজিসির ওপর নির্ভরশীল। শীর্ষ নেতার পরিবর্তন হলেও এখন যাদের হাতে ক্ষমতা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন আসেনি।’
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য বা নেতৃত্ব নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তাঁর কোনো ছবি প্রকাশিত হয়নি। তবে এটি সত্য, মোজতবা আইআরজিসির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁদের সমর্থনেই এই অবস্থানে এসেছেন। ফলে তিনি তাঁর বাবার চেয়েও বেশি রেভল্যুশনারি গার্ডসের কাছে দায়বদ্ধ। এদিকে ট্রাম্পের দাবি (রেজিম চেঞ্জ) সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ অন্যান্য অনেক নেতৃত্ব এখনো আগের মতো বহাল রয়েছেন।
বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, এই কট্টরপন্থী শাসনব্যবস্থা এখন নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর দমনপীড়ন আরও বাড়িয়ে দেবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রজেক্ট পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, ‘ট্রাম্প যখন বলছেন, তিনি ইরানের শাসনব্যবস্থা বদলে দিয়েছেন, তখন এক অর্থে তিনি ঠিক—তিনি এটিকে আরও বেশি উগ্রবাদে ঠেলে দিয়েছেন। বর্তমানে যাঁরা দায়িত্বে আছেন, নতুন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থেকে শুরু করে আইআরজিসি প্রধান বা পার্লামেন্ট স্পিকার, সবারই অতীতে দেশীয় বিক্ষোভ দমনের ব্যাপক রেকর্ড রয়েছে।’
ইরানি কর্তৃপক্ষ গত জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে হাজার হাজার মানুষকে গুলি করেছে এবং গত এক মাসে অন্তত ৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নতুন কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরনের গণ-অভ্যুত্থান রুখতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। আলী ভায়েজ সিএনএনকে বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে যে পরিমাণ প্যারানয়া বা আতঙ্ক কাজ করছে, তাতে মনে হয় দমনপীড়ন অতীতের চেয়েও অনেক বেশি কঠোর হবে।’
এদিকে ইরানে আজ ৩৬তম দিনের মতো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। অলাভজনক মানবাধিকার সংস্থা মিয়ান গ্রুপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সার্চ ইঞ্জিনে ‘যুদ্ধ’ লিখে খুঁজলে কোনো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার এমন প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে, যাতে কেবল নিরাপত্তা ছাড়পত্র থাকা ব্যক্তিরাই আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। এর মধ্যেই মানবাধিকার আইনজীবী নাসরিন সোতৌদেহকে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তাঁর মেয়ে নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই যুদ্ধ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তুলবে। সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পারমাণবিক বোমা নিষিদ্ধ-সংক্রান্ত ফতোয়া তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে গেছে। ৪৪ কেজি উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হাতে থাকা আইআরজিসি এখন উত্তর কোরিয়ার উদাহরণ অনুসরণ করতে চাইবে, যারা পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কারণে সরাসরি আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে।
এদিকে গত বুধবার রাতে হোয়াইট হাউসের ভাষণে ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের ‘দোরগোড়ায়’ পৌঁছে গেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অবশ্য ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে দিয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়ে বলেছেন, ইরানি নেতৃত্বের ভেতরে ফাটল থাকতে পারে। নতুন নেতৃত্ব যদি যৌক্তিক হয়, তবে তা বিশ্বজুড়ে খুশির খবর হবে, তবে পরিস্থিতি এর উল্টো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে তিনি মনে করেন।
সিএনএন থেকে সংক্ষেপে অনূদিত

ইরান যুদ্ধের উত্তাপ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়াতে শুরু করেছে। তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় থমকে গেছে তেলবাহী ট্যাংকার, আর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি মুক্ত করতে ইউরোপীয় মিত্রদের...
৬ ঘণ্টা আগে
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সুবাদে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম ধমনি হরমুজ প্রণালিকে একটি ‘টোল বুথে’ পরিণত করেছে ইরান। একদিকে যেমন তাঁরা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করছে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে বা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
১০ ঘণ্টা আগে
এই ধাক্কা এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও শুষে নিতে পারে। এডিবির মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট এবং দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট কমতে পারে। এর ফলে এশিয়ার দেশগুলো এখন সৌরশক্তি এবং ইলেকট্রিক গাড়ির দিকে ঝুঁকছে।
১২ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ ঘিরে একের পর এক আলোচনার জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার দেশটির ইতিহাসে নতুন করে লেখা হবে ট্রাম্পের নাম। মার্কিন ইতিহাসে তাঁর পরিবারই হচ্ছে প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের পরিবার, যারা যুদ্ধের ডামাডোল কাজে লাগিয়ে প্রকাশ্যেই অর্থ উপার্জন করবে।
১৯ ঘণ্টা আগে