
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা ইরানকে ইতিহাসের এক চরম অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এই শীর্ষ নেতার প্রস্থান ইরানের জন্য যেমন বড় ধাক্কা, তেমনি এটি দেশটির অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্র নীতিতে আমূল পরিবর্তনের একটি সুযোগও তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ বারবারা স্লাভিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ। হয় তাঁরা খামেনির ‘আপসহীন প্রতিরোধের রাজনীতি’ আঁকড়ে ধরে আরও উগ্র হবে, নতুবা বাস্তববাদী নেতারা দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় পশ্চিমের সঙ্গে সমঝোতায় আসবেন।
তৎক্ষণাৎভাবে খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কোনো একজন জ্যেষ্ঠ আলেম বা একটি ছোট ‘লিডারশিপ কাউন্সিল’ দায়িত্ব নেবে। তবে আকাশ থেকে যখন মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা পড়ছে, তখন নীতিতে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করা কঠিন। ইরানের নীতিনির্ধারকেরা এখন মূলত যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে এবং আইআরজিসির ‘চেইন অব কমান্ড’ অটুট রাখতেই বেশি মনোযোগী।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জনগণকে রাজপথে নেমে শাসনব্যবস্থা উপড়ে ফেলার আহ্বান জানালেও, বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আসতে পারে ব্যবস্থার ভেতর থেকেই। ইতিহাস বলছে, ভেনেজুয়েলায় মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ যেভাবে আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছেন, ইরানেও তেমনটি ঘটা অসম্ভব নয়। এই দৌড়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো আলী লারিজানি। লারিজানি কেবল একজন ঝানু রাজনীতিবিদই নন, তিনি এর আগে ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার টেবিলে বসার চেষ্টা করেছিলেন এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে (জেসিপিওএ) সমর্থন দিয়েছিলেন। লারিজানির মতো ব্যক্তিত্বরা যদি নেতৃত্বে আসেন, তবে আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
লারিজানি ছাড়াও ইরানের বর্তমান পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি আলোচনায় আছেন। এ ছাড়া আইআরজিসি (আইআরজিসি) বা নিয়মিত সেনাবাহিনীর ভেতর থেকেও কোনো নতুন নেতা উঠে আসতে পারেন যিনি যুদ্ধের ভয়াবহতা আঁচ করে সামরিক সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক পথ বেছে নেবেন। তবে এর কোনো গ্যারান্টি নেই যে পরবর্তী নেতা খামেনির চেয়ে উদার হবেন; অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও চরমপন্থার দিকেও যেতে পারে।
১৯৮০ সালে ইরাকের আক্রমণের পর ইরান কখনোই বর্তমানের মতো এত বড় অস্তিত্ব সংকটে পড়েনি। বছরের শুরুতে হওয়া গণবিক্ষোভ যা অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে দমন করা হয়েছিল, তা প্রমাণ করেছে যে ইরানি জনগণ এই শাসনব্যবস্থার ওপর কতটা ক্ষুব্ধ। মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা যখন তেহরানে পড়ছে, তখন দেশটির সাধারণ মানুষের একটি অংশের আনন্দ প্রকাশ নির্দেশ করে যে, ইরানি সমাজ তাদের শাসকদের চাপিয়ে দেওয়া বিধিনিষেধের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। আঞ্চলিক মিত্রদের নেটওয়ার্ক ধসে পড়া এবং অভ্যন্তরীণ জনরোষের এই মিলনস্থলই ইসলামিক রিপাবলিককে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
খামেনি-পরবর্তী ইরান এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে চালানো এই যুদ্ধ হয়তো একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটাতে পারে, কিন্তু ইরানের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নির্ভর করছে তেহরানের ক্ষমতার অন্দরে থাকা বাস্তববাদী নেতাদের সাহসের ওপর। ইরান কি খামেনির ব্যর্থ ‘প্রতিরোধ’ নীতি আঁকড়ে ধরে ধ্বংস হবে, নাকি লারিজানি বা হাসান রুহানির মতো নেতাদের হাত ধরে বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে ফিরবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
থিংকট্যাঙ্ক স্টিমসন থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এখন সময়ের সঙ্গে এক দৌড়ে নেমেছে। আকাশযুদ্ধে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে এই লড়াই কত দ্রুত শেষ করা যাবে—সেই প্রশ্নই এখন মূল আলোচ্য বিষয়।
২ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ গতকাল সোমবার পেন্টাগন থেকে ঘোষণা করেছেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” শর্তেই শেষ করব।’ কিন্তু এই দম্ভোক্তি ২০০১ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দেয়, যা আমেরিকাকে দুই দশকের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আটকে দিয়েছিল।
২ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের ৪৭ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ক্ষমতার শূন্যতায় ইরানের নাটাই আসলে কার হাতে? মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ আলিরেজা নাদের...
৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর শত শত ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করছেন, তখন সবার মুখে একটি প্রশ্ন—তিনি কি ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পথে হাঁটছেন? মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট নাহাল তুসির বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্পের এই যুদ্ধের লক্ষ্য মোটাদাগে
৪ ঘণ্টা আগে