
আফ্রিকা মহাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল বেইজিং। আজ শুক্রবার থেকে একটি দেশ বাদে আফ্রিকার বাকি সব দেশের জন্য রপ্তানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নিচ্ছে চীন। বিশ্বের প্রথম প্রধান অর্থনীতি হিসেবে চীন আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য এই ধরনের একতরফা ‘জিরো ট্যারিফ’ বা শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিল। এই নীতি ২০২৮ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এটি মূলত আফ্রিকার বাজারে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের পথে এক বড় পদক্ষেপ।
আফ্রিকার ৫৪টি দেশের মধ্যে একমাত্র এসওয়াতিনি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর কারণ পুরোপুরি রাজনৈতিক—দেশটি এখনো তাইওয়ানের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ মনে করে এবং এসওয়াতিনিকে বাদ দিয়ে চীন বিশ্বকে একটি কঠোর বার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি চীনের ‘চেকবুক ডিপ্লোমেসি’র একটি অংশ, যেখানে চীনের বন্ধুত্বের পুরস্কার এবং বিরোধিতার শাস্তিকে স্পষ্টভাবে আলাদা করে দেখানো হয়েছে।
যদিও চীন নিজেকে ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদী নীতির বিপরীতে এক উদার বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরছে; তবে পরিসংখ্যান এক ভিন্ন গল্প বলছে। ২০২৩ সালে চীনের সঙ্গে আফ্রিকার বাণিজ্য ঘাটতি ৬৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার ২০০ কোটি (১০২ বিলিয়ন) ডলারে। চীন যা রপ্তানি করছে, আফ্রিকা তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারছে না।
আফ্রিকার রপ্তানি পণ্যের বেশির ভাগই হলো অশোধিত তেল, তামা, কোবাল্ট এবং অন্যান্য আকরিক। কঙ্গো, অ্যাঙ্গোলা এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো মূলত কাঁচামাল পাঠাচ্ছে, যা চীনের শিল্পায়নকেই পুষ্ট করছে।
অন্যদিকে চীন থেকে আফ্রিকায় আসছে সস্তা ইলেকট্রনিকস, যন্ত্রপাতি এবং তৈরি পোশাক, যা আফ্রিকার উদীয়মান দেশীয় শিল্পগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জার্ভিন নাইডু এবং সিঙ্গাপুরের ইস্ট এশিয়ান ইনস্টিটিউটের পরিচালক আলফ্রেড শিপকে একমত যে শুধু শুল্ক কমালেই আফ্রিকার সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলাবে না। তাঁদের মতে, আফ্রিকার অনেক দেশে আধুনিক বন্দর, রেল যোগাযোগ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নেই। শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলেও উন্নত লজিস্টিকস ছাড়া পণ্য পরিবহন খরচ কমানো সম্ভব নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা বা মরক্কোর মতো তুলনামূলক উন্নত দেশগুলো এই সুবিধা দ্রুত ব্যবহার করতে পারবে, কিন্তু অনুন্নত দেশগুলো কাঁচামাল রপ্তানির চক্রেই আটকে থাকবে। এ ছাড়া চীনের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে কফি, কাজুবাদাম এবং ম্যাকাডামিয়া বাদামের চাহিদা বাড়ছে। কেনিয়া বা ইথিওপিয়ার মতো দেশগুলো যদি কৃষিতে আধুনিকায়ন করতে পারে, তবে এই উপখাতগুলো থেকে বড় আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এ নিয়ে অর্থনীতিবিদ ওয়াঙ্গারি কেবুচি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, শুল্কমুক্ত সুবিধার ফলে আফ্রিকা আরও বেশি করে কাঁচামাল রপ্তানিকারক মহাদেশে পরিণত হতে পারে। যদি আফ্রিকার সরকারগুলো এই বাজার সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশে শিল্প গড়ে তুলতে না পারে, তবে তারা চিরকাল আমদানিনির্ভরই থেকে যাবে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না এবং কর আদায়ের ভিত্তিও দুর্বল থাকবে।
চীনের এই ‘শূন্য শুল্ক’ নীতি যেমন কেনিয়ার অ্যাভোকাডো চাষি বা কঙ্গোর খনি শ্রমিকদের সাময়িক সুফল দেবে, তেমনি এটি বেইজিংয়ের ওপর আফ্রিকার রাজনৈতিক নির্ভরশীলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ২০২৮ সালের পর এই নীতির ভবিষ্যৎ কী হবে তা অনিশ্চিত, তবে ততদিনে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের বিপরীতে চীন আফ্রিকায় তার পায়ের তলার মাটি কতটা শক্ত করে নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এই হত্যাকাণ্ড এবং এর বিপরীতে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিতে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে...
৯ ঘণ্টা আগে
গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল কয়েক দশ আগেই। এই সত্যটাই ধীরে ধীরে সামনে আসছে এখন। এই বিষয়ে গাজায় দায়িত্ব পালন করা চারজন ইসরায়েলি সেনার সাক্ষ্য শোনা যাক।
১৬ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও যুদ্ধের সময় সাধারণত সোনার বাজার চাঙা হয়ে ওঠে। নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয় হিসেবে বিনিয়োগকারীরা তখন ঝুঁকে পড়েন এই মূল্যবান ধাতুর দিকে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি বাড়লে সোনাকে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র।
২০ ঘণ্টা আগে
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র অস্থিরতার কারণে চলতি বছর ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম গতিতে বাজার থেকে তারল্য বা বিনিয়োগ সংকুচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত একের পর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের কারণে বাজার এখন এক প্রকার ‘জিম্মি’ হয়ে পড়েছে। ফলে তেলের
২ দিন আগে