মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যকে মধ্যপ্রাচ্যে জাহাজ পাঠানো নিয়ে ঝামেলা করতে নিষেধ করেছিলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি দাবি করেছিলেন, ইতিমধ্যেই ইরান যুদ্ধে জিতে গেছেন। এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ থাকা মিত্র—ন্যাটো জোটের সদস্যদেশগুলোকে এবং চীনকেও হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সেখানে যুদ্ধজাহাজ না পাঠালে ইউরোপের জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা ছাতা এবং এই মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব বলার পর এটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ইরান যুদ্ধে তিনি একাধিকবার জয়ের দাবি করলেও এই যুদ্ধ শেষ হতে এখনো অনেক দেরি। তবে এটা নতুন ঘটনা নয়। একবিংশ শতকে এসে এর আগেও দীর্ঘ যুদ্ধের মধ্যে পড়তে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
এ নিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের গত রোববার সিএনএনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যুদ্ধ জয় করে মার্কিন বাহিনী দেশে ফিরে আসবে? এ প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি। তবে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আশাবাদী। তিনি এবিসি নিউজকে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এ সংঘাত নিশ্চিতভাবেই আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে; এর আগেও হতে পারে।’
এদিকে ইসরায়েল সিএনএনকে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক ও গোয়েন্দা লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর ভয়াবহ বোমা হামলা আরও অন্তত তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
যুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে ইসরায়েল বেশি অভ্যস্ত। তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধে কী হবে বা এর পরিণতি কোন দিকে যাবে—প্রথম কয়েক সপ্তাহেই তা বলা যায় না। এমনকি যুদ্ধ শুরুর অল্প কয়েক দিনের চিত্র দিয়ে যুদ্ধের সামগ্রিক প্রভাব বিচার করাটা এখনো বেশ তড়িঘড়ি হয়ে যায়।
এই যুদ্ধের বয়স দুই সপ্তাহের বেশি। যেকোনো বিচারেই এটি খুব দীর্ঘ সময় নয়। আধুনিক ইতিহাস দেখায়, কোনো যুদ্ধই প্রথম কয়েক সপ্তাহের সংঘাত দিয়ে সংজ্ঞায়িত হয় না। ফলে হোয়াইট হাউস থেকে যুদ্ধ নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় থাকবেই।
এদিকে ট্রাম্প এ যুদ্ধের জন্য দেশকে প্রস্তুতই করেননি। তিনি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে এ বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে চলেছেন। তিনি জোরালো দাবি করেছেন, যুদ্ধে ইতিমধ্যে তাদের জয় হয়েছে। তিনি এ-ও বলেছেন, যুদ্ধ তিনি তখনই থামাবেন, যখন তিনি তীব্রভাবে অনুভব করবেন যে যুদ্ধ থামানো দরকার। এখন প্রশ্ন হলো, যদি বিজয় ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়ে থাকে, তবে দায়িত্ব পালনের সময় এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিনের মৃত্যুর পরও সেনারা কেন এখনো বিপদের মুখে রয়েছে। অর্থাৎ ট্রাম্প প্রশাসনও খানিকটা অন্ধকারেই রয়েছে।
এই যুদ্ধ এখনো ইরাক ও আফগানিস্তানের মতো ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধগুলোর’ সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ওই দুটি যুদ্ধের সঙ্গে খানিকটা মিল রয়েছে। এ মিলগুলো হলো, হামলার ফলে এর রাজনৈতিক প্রভাব কী হবে, সেটা যুক্তরাষ্ট্র মাথায় নেয়নি। আরেকটি হলো, বিপক্ষ শক্তির কী সক্ষমতা রয়েছে, তা বিবেচনায় না নেওয়া।
ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে—যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং তেলের দামে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে এটাও দেখা যাচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার কারণে এই অভিযান দীর্ঘস্থায়ী ব্যাপার হতে পারে। আর এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে স্থল অভিযান চালাতে হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি চালু রাখার জন্য ট্রাম্প এখন বিদেশি নৌবাহিনীর সাহায্য দাবি করছেন। এই অনুরোধের পর অবশ্য তেমন সাড়া মেলেনি। বিদেশে তাঁর মন্তব্যগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে নিজের তৈরি করা একটি ঝামেলা মেটাতে সাহায্য চাওয়ার দাবি হিসেবে দেখা হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় মিত্রদের সেই দুর্বল জায়গাটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছেন, যাঁরা তাঁদের প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। তিনি দাবি করেছেন, ‘যদি কোনো সাড়া না পাওয়া যায় বা নেতিবাচক সাড়া আসে, তবে আমার মনে হয় ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য এটি খুব খারাপ হবে।’
এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের মতামত নেয়নি। আইনসভায় আলোচনাও হয়নি। যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বের হয়ে আসবে, সে পরিকল্পনা নেই। এসব দুর্বলতা বিরোধী শিবির ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে অনেকটা অস্ত্রের মতো। ডেমোক্র্যাটরা এ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন। ডেমোক্র্যাটদের এক প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর দৌড়ে থাকা পিট বুটিজেজ। ২০১৪ সালে মার্কিন নৌবাহিনীর হয়ে আফগানিস্তানে লড়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি মার্কিন সেনা বা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরতদের নিয়ে চিন্তিত না। আমি চিন্তিত মার্কিন নেতৃত্ব অর্থাৎ পিট হেগসেথ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমাদের কাঁধে একটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবারের যুদ্ধটির জন্য স্রেফ প্রেসিডেন্ট নিজে দায়ী। তিনি নিজে এগিয়ে গেছেন যুদ্ধ করার জন্য এবং তিনি এ যুদ্ধ বাধিয়েছেন।’
ট্রাম্প একসময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁর আমলে কোনো সেনা অযাচিত যুদ্ধে গিয়ে বেঘোরে মারা পড়বেন না। ট্রাম্প সে কথা রাখতে পারলেন না। আবার ইরানের হামলার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোয় সংঘাত ছড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালিও বন্ধ হয়েছে। এসব ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনও খানিকটা অবাক করেছে বটে। তবে এই যুদ্ধের পরিকল্পনা যাঁরা জানতে চাইছেন ট্রাম্প তাঁদের সমালোচনা করছেন। বাস্তবতা হলো, উপসাগরীয় দেশগুলোয় সংঘাত ছড়ানো এবং হরমুজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেই।

পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাতের তৃতীয় সপ্তাহে এসে যুদ্ধের লক্ষ্য ও গতিপ্রকৃতিতে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। আমেরিকার মূল লক্ষ্য এখন ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা পারমাণবিক চুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দিকে মোড় নিয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে নৌ-এসকর্ট দেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
৪ ঘণ্টা আগে
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাত্র এক বছর পরই ইরানকে আক্রমণ করে বসে প্রতিবেশী দেশ ইরাক। আট বছরের সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ইরান কার্যত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। সেই ট্রমা বা ক্ষত থেকে জন্ম নেয় ‘ফরোয়ার্ড ডিফেন্স’ কৌশল। এর মূল নীতি ছিল শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে নিজের সীমান্তের বাইরে, যাতে ইরানের...
৬ ঘণ্টা আগে
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এই সংকটের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক বিশাল ওলটপালট শুরু হয়েছে, যেখানে রাশিয়া অভাবনীয় মুনাফা অর্জন করলেও এশিয়ার দেশগুলো
১৩ ঘণ্টা আগে