
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির শত শত সামরিক স্থাপনা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের এক অন্যতম সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। আটলান্টিক কাউন্সিলের স্কোক্রফট সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যাথিউ ক্রোয়েনিগ এই ঘটনাকে প্রায় ৪০ বছরের ‘সন্ত্রাস ও দমন-পীড়নের’ অবসান এবং হাজার হাজার ভুক্তভোগীর জন্য ‘প্রাপ্য বিচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে এই ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যকে কতটা নিরাপদ বা মুক্ত করবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
গত ডিসেম্বরে যখন ইরানের সাধারণ মানুষ ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল, তখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি স্পষ্ট ‘রেড লাইন’ বা সীমারেখা টেনে দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের হত্যা করলে ইরানকে ‘বড় মাশুল’ দিতে হবে। কিন্তু তেহরান সেই সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার নাগরিককে হত্যা করলে সামরিক হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ওবামা আমলের সিরিয়া সংকটের মতো পিছু না হটে ট্রাম্প পূর্ণ শক্তিতে আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেন, যা খামেনিসহ প্রায় ৫০ জন শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের মৃত্যু ডেকে এনেছে।
অভিযানের আগে ট্রাম্প প্রশাসন একটি নতুন ও কঠোরতর পারমাণবিক চুক্তির (জেসিপিওএ-এর চেয়ে উন্নত) মাধ্যমে সংকটের সমাধান চেয়েছিলেন। পেন্টাগন যখন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনো ট্রাম্প আশা করেছিলেন খামেনি হয়তো নতি স্বীকার করবেন। কিন্তু খামেনি তার ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’-এর দাবিতে অনড় থাকেন এবং কার্যত ‘শহীদ’ হওয়ার পথ বেছে নেন। এই একগুঁয়েমিই শেষ পর্যন্ত তেহরানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ট্রাম্প কেবল প্রতীকী হামলা নয়, বরং একবারে পুরো শাসনব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলার লক্ষ্য নিয়ে ‘গো বিগ’ নীতি গ্রহণ করেন।
যুদ্ধের শুরুতে আশঙ্কা ছিল ইরান হয়তো পুরো অঞ্চলে রাসায়নিক অস্ত্রবাহী ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়বে কিংবা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরানের পাল্টা আক্রমণ বেশ অসংগঠিত ও তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী। যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁর আঞ্চলিক সহযোগীরা শত শত ড্রোন ও মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। উল্টো প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর বেসামরিক এলাকায় ইরানি মিসাইল আঘাত হানায় পুরো অঞ্চল এখন ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
এই সামরিক অভিযান কেবল একটি স্বৈরশাসককে অপসারণ করেনি, বরং এটি ইরানের সাধারণ মানুষের সামনে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের এক অভাবনীয় সুযোগ এনে দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে যে ভয় ও দমনের সংস্কৃতি ইরানি সমাজকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল, খামেনির মৃত্যুতে সেই শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখন বল ইরানের সাধারণ মানুষের কোর্টে। তারা যদি এই মুহূর্তটিকে কাজে লাগিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও মুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসে, তবেই এই সামরিক অভিযানের প্রকৃত সাফল্য আসবে।
ইরানে ইসলামিক রিপাবলিকের পতন কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং রাশিয়া, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ‘অক্ষশক্তি’র জন্যও একটি বড় ধাক্কা। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ড্রোন সরবরাহকারী প্রধান উৎস বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন ভারসাম্য তৈরি হবে। তবে ট্রাম্পের এই ঝুঁকি কতটা দীর্ঘমেয়াদী সুফল আনবে, তা নির্ভর করছে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং একটি নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার ওপর।
ম্যাথিউ ক্রোয়েনিগের ভাষায়, ট্রাম্প ইতিহাস তৈরি করেছেন, এখন ইতিহাস তৈরির পালা ইরানি জনগণের। মধ্যপ্রাচ্য কি সত্যি নিরাপদ ও মুক্ত হবে? উত্তরটি লুকিয়ে আছে তেহরানের রাজপথে থাকা লাখো মানুষের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। সামরিক শক্তির মাধ্যমে একটি একনায়কতন্ত্রের পতন ঘটানো সম্ভব হলেও, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কঠিন কাজটি এখন ইরানিদেরই সম্পন্ন করতে হবে।
ফরেন পলিসি থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে: খামেনির অনুপস্থিতি কি ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাবে? পশ্চিমা শক্তিগুলোর কৌশল দেখে মনে হচ্ছে, তারা লিবিয়ার গাদ্দাফি বা সিরিয়ার আসাদ মডেলের পুনরাবৃত্তি আশা করছে, যেখানে নেতার পতন
২ ঘণ্টা আগে
ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে আঙ্কারার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে তুরস্কের ৩৩০ মাইলের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, অপরদিকে দেশটি ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ফলে এই যুদ্ধে এক জটিল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে তুরস্ক।
৪ ঘণ্টা আগে
১৯৪৪ সালে তৎকালীন সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাচেস্লাভ মোলোটভ বলেছিলেন, ‘ইরানের ভাগ্য নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন উদাসীন থাকতে পারে না।’ আট দশক পর বর্তমানের পুতিন প্রশাসনের জন্যও এই বাক্য সমানভাবে সত্য। মস্কোর কাছে ইরান শুধু একটি প্রতিবেশী দেশ নয়, বরং রাশিয়ার মধ্য এশীয় অঞ্চলের প্রভাববলয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য
৪ ঘণ্টা আগে
ইরানের মাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আঘাতে কেঁপে উঠছে বারবার। তেহরানের কৌশলগত স্থাপনাগুলো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। তবু ইরানের তথাকথিত ‘কৌশলগত অংশীদার’ চীন কেন এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক সহায়তা দেয়নি, যুদ্ধে জড়ানোর কোনো সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।
৬ ঘণ্টা আগে