
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ যত তীব্র হচ্ছে, ওয়াশিংটনের ওপর এর আর্থিক বোঝা নিয়ে তত বেশি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যুদ্ধের খরচ কি সত্যিই প্রতিদিন ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছেছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
গত সপ্তাহের শেষের দিকে কংগ্রেসের দুটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম এমএস নাউকে জানিয়েছে, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের আনুমানিক ব্যয় ১০০ কোটি ডলার। ঠিক এক দিন পর বিশ্লেষণধর্মী মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এক প্রতিবেদনে জানায়, ক্যাপিটল হিলের রিপাবলিকান সদস্যরা ব্যক্তিগতভাবে আশঙ্কা করছেন যে, পেন্টাগন প্রতিদিন আসলে ২০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি খরচ করছে।
অবশ্য পেন্টাগন এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ব্যয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করেনি। তবে সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই বিপুল ব্যয় মার্কিন ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিনিধি পরিষদের নেতা হাকিম জেফরিস গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের আরও একটি অন্তহীন যুদ্ধে নিমজ্জিত করছেন এবং ইরানে বোমা মারতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন।
যুদ্ধের প্রকৃত খরচ পরিষ্কার করতে প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ব্রেন্ডন বয়েল কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসকে (সিবিও) একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের অনুরোধ জানিয়েছেন। ৫ মার্চের এক চিঠিতে বয়েল যুদ্ধের অপারেশনাল, লজিস্টিক্যাল ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের পাশাপাশি পরোক্ষ খরচগুলোও খতিয়ে দেখতে বলেছেন।
বয়েল সিবিওকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা এই যুদ্ধে কূটনৈতিক অপারেশন এবং বৈদেশিক সাহায্যের খরচও অন্তর্ভুক্ত করে। সে সঙ্গে বয়েল ‘অপরচুনিটি কস্ট’ বা সুযোগ ব্যয়ের বিষয়টিও সামনে এনেছেন। যেমন—তাইওয়ান প্রণালি থেকে একটি বিমানবাহী রণতরি সরিয়ে ইরানের উপকূলে আনার ফলে চীনের সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলার সক্ষমতায় কী প্রভাব পড়বে, তাও বিশ্লেষণ করতে বলা হয়েছে।
কেন এই যুদ্ধ এত ব্যয়বহুল
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার হোয়ার্টন স্কুলের পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স আল-জাজিরাকে বলেন, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে দৈনিক ব্যয় ২০০ কোটি ডলার হতে পারে, তবে দীর্ঘ মেয়াদে তা হয়তো কমবে। তাঁর মতে, প্রথম কয়েক দিন পর খরচ প্রতিদিন গড়ে ৮০ কোটি ডলারের কাছাকাছি থাকার কথা। তবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের উচ্চমূল্যের কারণে এই হিসাব যেকোনো সময় বদলাতে পারে।
সাবেক সামরিক প্রশিক্ষক জন ফিলিপসের মতে, এই যুদ্ধের গড় খরচ প্রতিদিন ১০০ কোটি ডলারের আশপাশে, যদিও বিশেষ বিশেষ অভিযানে তা ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, আর্থিক সামর্থ্য বড় কথা নয়, বড় সংকট হলো ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত। কয়েক মাসের যুদ্ধে এই মজুত ফুরিয়ে যেতে পারে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় ওয়াশিংটন ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যার বড় অংশই গিয়েছে গোলাবারুদ বা গোলাবারুদ পুনঃস্থাপনে।
তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র দুই হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। এক একটি টমাহক বা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন, পরিবহন ও জনবল খরচ অন্তত ২০ লাখ ডলার। সিএসআইএস বলছে, এই ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয়ের মধ্যে ৩৫০ কোটি ডলারই পূর্বপরিকল্পিত বাজেটের বাইরে ছিল।
ভবিষ্যৎ কী
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ৬ মার্চ বলেন, ইরানে বোমাবর্ষণ আরও বাড়বে। এতে আরও বেশি ফাইটার স্কোয়াড্রন ও বোমারু বিমান যুক্ত করা হবে।
এদিকে, আল-জাজিরার সাংবাদিক রসিল্যান্ড জর্ডান জানিয়েছেন, পেন্টাগন ইতিমধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট অনুরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম পুনঃস্থাপনে ব্যয় হবে। রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন এই বাজেট পাসের ইঙ্গিত দিলেও এত বড় অঙ্কের চাহিদা কংগ্রেসের অনেক সদস্যকেই ভাবিয়ে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কেবল অর্থ নয়, বরং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ধরে রাখা। যদি যুদ্ধ দুই মাসের বেশি স্থায়ী হয়, তবে করদাতাদের ওপর অন্তত ৬৫ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বোঝা চাপতে পারে। আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ক্রমবর্ধমান ব্যয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ওপর বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে।

লেবাননে ইসরায়েলের হামলার এবারের ধরন দেখে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, দেশটি সেখানে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে চাচ্ছে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল, মধ্যাঞ্চলে থাকা রাজধানী বৈরুত এবং তার কিছুটা উত্তর-পূর্বে থাকা বেকা উপত্যকা অঞ্চলে ক্রমাগত বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
২ ঘণ্টা আগে
ইরান অতীতে যুদ্ধের ক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো’ নীতি বা ধাপে ধাপে উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল অবলম্বন করত। কিন্তু বর্তমান নেতৃত্ব সেই পথ থেকে সরে এসেছে। পিনফোল্ড ব্যাখ্যা করেন, ইরান এখন যতটা সম্ভব বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পুরো অঞ্চল এবং বৈশ্বিক বাজারকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।
৭ ঘণ্টা আগে
ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সঙ্গে যে আচরণ করেছিল, তা যেন সেই কুখ্যাত জ্যাকেটের স্লোগানেরই প্রতিধ্বনি। যে জ্যাকেট একসময় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প পরেছিলেন, ‘আমি আপনাকে পুছি না। আপনি কেন পুছেন?’ ট্রাম্প প্রশাসন শুধু যে জোটভিত্তিক কৌশলকে উপেক্ষা করেছে, তা-ই নয়। ১৯৯০–৯১ সালের
১১ ঘণ্টা আগে
বছরের পর বছর ধরে ইরানের রেজিমবিরোধী গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকেরা ধারণা করে আসছিলেন, সম্প্রতি হত্যাকাণ্ডে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির খুব কম দেখা দেওয়া ছেলে মুজতবা হোসেইনি খামেনি হয়তো একদিন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ পদে বসতে পারেন।
১৭ ঘণ্টা আগে