ব্রিটেনের রাজনীতির পিছু ছাড়ছে না সংকট। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়েন লিজ ট্রাস। তাঁর পদত্যাগ দেশটির সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাকের জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের। ট্রাসের পদত্যাগের মাধ্যমে ব্রিটিশ রাজনীতি এবং অর্থনীতির সংকটের সমাধান হয়নি। উল্টো এসব সংকট নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে ব্যাপক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে প্রথম প্রার্থী হিসেবে কনজারভেটিভ পার্টির ১০০ এমপির সমর্থন নিশ্চিত করেছেন ঋষি সুনাক। নিকটতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং হাউস অব কমন্সের নেতা পেনি মরডন্ট এখনো যথেষ্ট পেছনে। ২৪ অক্টোবর নাগাদ দলীয় এমপিদের মধ্য থেকে যারা ১০০ জন বা তার বেশি সমর্থন আদায় করতে পারবেন তাঁদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুজনকে লড়তে হবে দলীয় সদস্যদের ভোটে। এই ভোট হবে আগামী ২৮ অক্টোবর। দলীয় সদস্যরা অনলাইনে ভোট দেবেন।
দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ঋষিকে এগিয়ে রাখতে বেশ কিছু ইতিবাচক ঘটনা এরই মধ্যে ঘটে গেছে। এখন পর্যন্ত দলের সবচেয়ে বেশি এমপি তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন। লিজ ট্রাসের কর হ্রাসের সিদ্ধান্ত দেশকে বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাবে— তাঁর এই সতর্কবাণী ফলে গেছে। এ কারণে, তাঁর অর্থনৈতিক নীতি দলীয় সদস্য এবং জনসাধারণের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
ঋষির জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সপ্তাহ ছয়েক আগে প্রধানমন্ত্রিত্ব ত্যাগ করার সময় বরিস জনসন পার্লামেন্টে ঋষিকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, ‘আস্তা লা ভিস্তা, বেবি’ বা শুভ বিদায়, প্রিয়। এখন আবার প্রধানমন্ত্রী হতে বরিস আগ্রহ দেখানোয় এবং দলের অনেক হেভিওয়েট নেতা তাঁকে সমর্থন দেওয়ায় জনসনের বক্তব্যকে বরং ‘আবারও দেখা হবে’ হিসেবে পাঠ করা যায়। জনসনের আগমন ঋষির জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যাত্রা কঠিন করে তুলবে।
বরিস জনসনের পাশাপাশি ঋষির জন্য হুমকি হতে পারেন পেনি মরডন্টও। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হতে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। তিনি নিজেকে দলীয় ঐক্য এবং জাতীয় স্বার্থের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বরিস জনসন নিজেকে প্রার্থী করলে পেনির জন্য শীর্ষ দুইয়ে থাকা কঠিন হতে পারে। তবে তিনি শীর্ষ দুইয়ে উঠে গেলে তাঁরও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকবে। তাই ঋষি সুনাক এমপিদের সমর্থনে এগিয়ে থাকলেও সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নেবেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাই।
অনেকের ধারণা, ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়াটাও ঋষি সুনাকের জন্য অস্বস্তির কারণ হতে পারে। এমনকি তাঁর পরাজয়ে অন্যতম নিয়ামকও হতে পারে। তবে এই ধারণা সঠিক নয় বলে অনেকে মনে করেন। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিষয়টি কোনো প্রভাব ফেলেনি। এরপরও হয়তো খুব অল্পসংখ্যক কনজারভেটিভ নেতা বিষয়টি আমলে নিতে পারেন। তবে তা ঋষির জন্য খুব একটা বাধা হয়ে দাঁড়ানোর কথা না। কারণ কনজারভেটিভরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে আশ্রয় দেয়—এ ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। তবে ঋষির ধন-সম্পদ একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে পারে। ব্রিটিশরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ ভেদ না করলেও অত্যধিক ধনবানদের খুবই সন্দেহের চোখে দেখে।
গতবারের দলীয় নির্বাচনের সময় ঋষির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল—তিনি উদ্ধত এবং কারও কথা শুনতে চান না। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী অক্ষতা মূর্তির কর ফাঁকির অভিযোগ তো ছিলই। সেগুলো পুরোনো ইস্যু। তবে ঋষি তাঁর অতীতের ভুল থেকে কতটা শিক্ষা নিয়েছেন তাই দেখার বিষয়।
যাই হোক, ঋষি সুনাক প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁকে দল এবং সরকার দুই জায়গায়ই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কনজারভেটিভ পার্টি এরই মধ্যে নেতৃত্বের ইস্যুতে কয়েক ভাগে বিভক্ত। দেশের অর্থনীতিও টালমাটাল। মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশেরও বেশি। পাউন্ড নিম্নমুখী। কমাতে হতে পারে জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারি ব্যয়। ফলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা না করতে পারলে ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল কনজারভেটিভ পার্টির অনুকূলে নাও থাকতে পারে।
এনডিটিভিতে প্রকাশিত বিবিসির সাংবাদিক ও রাজনৈতিক প্রতিবেদক অ্যান্ড্রু হোয়াইটহেডের কলাম থেকে অনুবাদ করেছেন আব্দুর রহমান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির শত শত সামরিক স্থাপনা ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। এই ঘটনাকে আধুনিক ইতিহাসের এক অন্যতম সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
২ ঘণ্টা আগে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু একটি বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে: খামেনির অনুপস্থিতি কি ইরানি শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাবে? পশ্চিমা শক্তিগুলোর কৌশল দেখে মনে হচ্ছে, তারা লিবিয়ার গাদ্দাফি বা সিরিয়ার আসাদ মডেলের পুনরাবৃত্তি আশা করছে, যেখানে নেতার পতন
৩ ঘণ্টা আগে
ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হওয়ার পর থেকে আঙ্কারার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে তুরস্কের ৩৩০ মাইলের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, অপরদিকে দেশটি ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ফলে এই যুদ্ধে এক জটিল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে তুরস্ক।
৪ ঘণ্টা আগে
১৯৪৪ সালে তৎকালীন সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাচেস্লাভ মোলোটভ বলেছিলেন, ‘ইরানের ভাগ্য নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন উদাসীন থাকতে পারে না।’ আট দশক পর বর্তমানের পুতিন প্রশাসনের জন্যও এই বাক্য সমানভাবে সত্য। মস্কোর কাছে ইরান শুধু একটি প্রতিবেশী দেশ নয়, বরং রাশিয়ার মধ্য এশীয় অঞ্চলের প্রভাববলয়ের একটি অবিচ্ছেদ্য
৪ ঘণ্টা আগে