তখন ধূসর চোখের রুমানা উঠতি মডেল। অ্যারোমেটিক সাবানের একটা বিজ্ঞাপনে দেখা যেত তাঁকে। সমুদ্র তীরে আঙুল দিয়ে ‘ভালোবাসা’ লিখছেন তিনি—বিজ্ঞাপনে এমন একটা দৃশ্য আছে। আমি তত দিনে বানান করে পড়তে শিখে গেছি। চোখের সামনে যা পাই, তা-ই পড়ি। স্বভাবতই ওই বিজ্ঞাপন দেখে ‘ভালোবাসা’ শব্দটা পড়ে নিয়েছি। আমার শিশুমনে এতটুকু বুঝতাম যে, বাবা-মায়ের যে সম্পর্ক, সেটাই ভালোবাসা।
হঠাৎ একদিন আমার মনে হলো আমরা যে বাসাটায় থাকি, সেটাও একটা ভালো বাসা! আমি খড়িমাটি দিয়ে বড় করে বাসার দরজায় লিখলাম ‘ভালো বাসা’। রুমানার মতো এঁকে দিলাম ভালোবাসার চিহ্নও। খানিক বাদে পাশের বাড়ির পিচ্চি, যে কি না আমার চেয়ে বয়সে ছোট, সে দৌড়ে গিয়ে আমার বড় ভাইকে দিল নালিশ—‘ভাইয়া দেখে যান, আপু দরজার মধ্যে কী সব ভালোবাসার কথা লিখেছে।’
আমার বড় ভাই পড়ার টেবিল ছেড়ে হুড়মুড় করে উঠে এসে দেখলেন আমার ‘শিল্পকর্ম’। ‘এগুলা কী লিখেছিস?’ বলেই ভাইয়া দুমাদুম আমার পিঠে দু-চারটা কিল দিয়ে চলে গেলেন। ছোট্ট আমি কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কিছুক্ষণ কেঁদে নিলাম। মায়ের কাছে গিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিতেই ভাইয়াকে ইচ্ছামতো বকে দিলেন। কিন্তু ভাইয়াকে বকা দিলে যে আমারও মন খারাপ হয়ে যায়! আর সেটা যে ভালোবাসাই, তা তখন বুঝতাম না।
আরেকটু বড় হওয়ার পরের কথা। পাশের বাসার এক বড় আপু একদিন হনহন করে হেঁটে আমাদের সদর দরজায় এসে দাঁড়ালেন। আমি সেখানেই দাঁড়ানো ছিলাম। আপু এদিক-ওদিক তাকিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমাকে একটু তোমাদের ফোন থেকে ফোন করতে দিবা? তোমার দুলাভাইকে ফোন করব।’ আমি প্রথমে ভ্যাবাচেকা খেয়ে ভেবেছিলাম, ‘আমার তো কোন বড় বোন নাই। দুলাভাই আসবে কোত্থেকে?’ পরে হঠাৎ মনে হলো তিনি পুকুরের ওই পাড়ের বাসার ভাইয়াকে ফোন দিতে চাচ্ছেন। তাদের মধ্যে তখন গভীর প্রেম! মা যেন না দেখে সেই শর্ত দিয়ে তাঁকে ফোন করতে দিলাম। কয়েক মিনিটে ল্যান্ডফোনে শেষ হলো তাঁদের প্রেমালাপ।
কতবার যে দেখেছি তাঁদের, রাস্তার এপাশ-ওপাশ দাঁড়িয়ে থেকে বা দুই বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে ইশারায় কথা বলতে! মুঠোফোনের দিন আসার পর, আর ইশারা করতে হয়নি। দূর থেকে একে-অপরকে দেখে ফোনেই আলাপ চলতে থাকত। যদিও তাদের পরিণয়ের পরিণতি নেতিবাচক হয়েছিল। আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল, যখন সেটা জেনেছিলাম। পাড়ার আরেক আপুরও একই অবস্থা—প্রেমে ব্যর্থতা।
একবার শুনলাম, পাশের মহল্লার এক আপু প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে। তাদের বাড়ির কেউই এই বিয়ে মেনে নেবে না বলে জানিয়ে দেয়। বাবা-মা, পরিবার ছাড়া থাকা যায় বুঝি? এত সব ঘটনা চোখের সামনে দেখে কিশোরজীবনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—ভালোবাসাবাসির মতো ‘বিপজ্জনক’ কাজ করব না কখনো! কিন্তু ভালোবাসা কি আর বলে কয়ে আসে? একদিন হঠাৎ করে কানে কানে ঠিকই গেয়ে উঠে, ‘বসন্ত এসে গেছে…’
আজ যখন এক সহকর্মীর দিকে আরেক সহকর্মীর ভালোবাসার দৃষ্টি আমার নজর এড়ায়নি, তখন পুরোনো স্মৃতি মনে করে একটু মুচকি হেসে নিলাম। সব প্রকারের ভালোবাসাই এখন ভালো লাগে, বিপজ্জনক মনে হয় না আর। কেননা, ভালোবাসার কাছে বিপদ তো তুচ্ছ।

স্মৃতিচারণা করে ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে তখন দুটো-আড়াইটা হবে। ইউনিভার্সিটি, মেডিকেল কলেজ এবং পরিষদ ভবনসংলগ্ন এলাকা তখন ধোঁয়াচ্ছন্ন রণক্ষেত্র। মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ১নং রুম কন্ট্রোল রুমে পরিণত হয়। মাওলানা তর্কবাগীশ, ধীরেন দত্ত, শামসুদ্দীন ও কংগ্রেস পার্টির সদস্যরা পরিষদ বয়কট...
২ দিন আগে
সাঈদ হায়দার স্মৃতিচারণা করেছেন এভাবে: ‘দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো, সংঘর্ষের তীব্রতা কমল না। প্রতিবাদমুখর ছাত্র-জনতাকে পুলিশ লাঠি চালিয়ে শান্ত করতে পারল না। তারা গুলি চালালো, গুলি চালালো মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসের সামনের রাস্তায়। জব্বার আর রফিক প্রাণ হারালো।
৪ দিন আগে
মোহাম্মদ সুলতান ছিলেন ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকারী এবং একুশের প্রথম সংকলনের প্রকাশক। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম যেকোনো মূল্যে ১৪৪ ধারা ভাঙতে হবে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা রাত ১টায় ফজলুল হক হল ও ঢাকা হলের মধ্যবর্তী সিঁড়িতে এক বৈঠকে মিলিত হই।
৯ দিন আগে
২১ ফেব্রুয়ারির আগে-পরের বছরগুলোজুড়ে নানা কিছু ঘটছিল। এখন এসে দিনগুলোতে ফিরে গেলে শিহরণ বোধ করি, বাংলা ভাষা নিয়ে এখন কিছু হতে দেখলে সেসব দিনে ফিরে যাই। তেমনই একটা হলো ১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ সমাবর্তন সভা। পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল জিন্নাহ ঘোষণা দিলেন—ঢাকাতেই, উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।
১০ দিন আগে