Ajker Patrika

১২ টন কিটক্যাট চকলেট চুরির ঘটনায় মিমের বন্যা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ২২: ০৬
১২ টন কিটক্যাট চকলেট চুরির ঘটনায় মিমের বন্যা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের মিম ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে অদ্ভুত এই চুরির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। গয়না বা টাকা নয়, এবার চুরি হয়েছে বিপুল পরিমাণ চকলেট! গত সপ্তাহে ইতালির একটি উৎপাদন কেন্দ্র থেকে পোল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি ট্রাক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। ট্রাকটিতে ছিল প্রায় ১২ টন ওজনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৯৩টি কিটক্যাট বার। চুরি হওয়া এই চকলেটের এখন পর্যন্ত কোনো হদিস মেলেনি।

এই চুরির ঘটনায় বিস্মিত বিশ্ববাসীর পাশাপাশি মজার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কিটক্যাটের মূল কোম্পানি ‘নেসলে’। কোম্পানির পক্ষ থেকে রসিকতার ছলে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সব সময় মানুষকে কিটক্যাটের সঙ্গে একটু বিরতি নেওয়ার কথা বলি। তবে চোরেরা মনে হচ্ছে বিষয়টি খুব আক্ষরিক অর্থেই নিয়েছে—১২ টনের বেশি চকলেট নিয়ে তারা নিজেরাই ব্রেক নিয়ে নিয়েছে।’

তবে মজার এই মন্তব্যের আড়ালে একটি গুরুতর বার্তাও দিয়েছে কোম্পানিটি। তারা জানিয়েছে, পণ্যবাহী ট্রাক থেকে মালামাল চুরি বা কার্গো হাইজ্যাকিং বর্তমানে ব্যবসার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে অপরাধীরা এই ধরনের চুরি বাড়িয়ে তুলছে। তাই নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনে এই প্রবণতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে নেসলে।

এদিকে অদ্ভুত এই চুরির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় মিমের বন্যা। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এই কিটক্যাটগুলো যে চুরি করেছে, সে হয়তো এগুলো খেয়েই সারা জীবন কাটিয়ে দেবে।’ কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই বিশাল পরিমাণ চকলেট গলতে না দিয়ে কীভাবে সংরক্ষণ করবে চোরেরা?’

অনেকেই ঘটনাটিকে আরও হাস্যরসের সঙ্গে ব্যাখ্যা করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘কেউ একজন নিশ্চয়ই নিজের নতুন ক্যান্ডি ব্র্যান্ড খুলতে যাচ্ছেন!’ আবার কেউ এটিকে নতুন কোনো অ্যাকশন সিনেমার গল্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এমনকি কেউ কেউ ধারণা করছেন, এই বিপুল পরিমাণ চকলেট চুরির পেছনে চোরদের কোনো সুপরিকল্পিত উদ্দেশ্য থাকতে পারে—হয়তো কালোবাজারে বিক্রি করা বা অন্য কোনো লাভজনক পরিকল্পনা।

চুরি হওয়া কিটক্যাটগুলো ছিল বিশেষ সংস্করণের। গত বছর কিটক্যাট ব্র্যান্ড ‘ফর্মুলা ওয়ান’-এর অফিশিয়াল চকলেট পার্টনার হওয়ার পর বাজারে আনা হয় এই সংস্করণ। এই বিশেষ চকলেটগুলো ছোট রেসিং কারের আকারে তৈরি করা হয়েছিল, যা সংগ্রাহকদের কাছেও আকর্ষণীয়।

নেসলে জানিয়েছে, এই চকলেটগুলো ইউরোপের বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক বাজারে বিক্রির চেষ্টা হতে পারে। তবে প্রতিটি পণ্যে আলাদা ব্যাচ কোড থাকায় সেগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে তারা। একই সঙ্গে কোম্পানি আশ্বস্ত করেছে, এ ঘটনায় ভোক্তাদের নিরাপত্তা বা বাজারে সরবরাহের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

সব মিলিয়ে, এই চকলেট চুরি একদিকে যেমন অপরাধের নতুন দিক তুলে ধরেছে, অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে মানুষের রসবোধও নতুনভাবে প্রকাশ করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত