প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করে যাচ্ছেন অমিত হাসান। ৪৯টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে করেছেন ৩ হাজার ৬৫০ রান। ব্যাটিং গড় প্রায় ৫০। ধারাবাহিক ভালো খেলার পুরস্কারও পেয়েছেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের দলে জায়গা পেয়েছেন অমিত। কিছুদিন আগে আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বললেন লক্ষ্য, শক্তি ও স্বপ্ন নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কারিমুল ইসলাম।

প্রশ্ন: লম্বা সময় ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিয়মিত রান করছিলেন। অবশেষে টেস্ট দলে ডাক পেলেন। কেমন লাগছে?
অমিত হাসান: আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো লাগছে। প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন থাকে জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার; আমারও ছিল। ডাক পাওয়ার পর সব খেলোয়াড়ের যেমন অনুভূতি হয়, আমারও ঠিক তেমনটাই হচ্ছে।
প্রশ্ন: মুশফিকুর রহিম আপনার খুব পছন্দের ক্রিকেটার। বাংলাদেশে তো আরও অনেক বড় বড় তারকা ক্রিকেটার আছেন। সেদিক থেকে বিশেষ কোন কারণে মুশফিককে এত বেশি ভালো লাগে?
অমিত: ছোটবেলা থেকে মুশফিক ভাইকে দেখে আসছি তো, এ কারণেই তাঁর প্রতি ভালো লাগাটা বেশি কাজ করে; বিশেষ করে তিনি যেভাবে পরিশ্রম করেন; তা আমাকে বেশি মুগ্ধ করে।
প্রশ্ন: দুই বছর আগে আজকের পত্রিকায় আপনাকে নিয়ে একটা ফিচার ছাপা হয়েছিল। সেখানে বলেছিলেন, মুশফিকের মতো ক্রিকেটার হতে চান। এবার টেস্ট দলে ডাক পেলেন। মুশফিক এখনো টেস্ট খেলছেন, জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে থাকবেন। পছন্দের ক্রিকেটারের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করবেন। কতটা আনন্দের?
অমিত: আমি তো মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে পেরেছি এরই মধ্যে। তাঁর যে অভিজ্ঞতা আছে, চেষ্টা করেছি ভাইয়ের কাছ থেকে যতটুকু সম্ভব নেওয়ার। তাঁর সঙ্গে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম শেয়ার করতে পারব—এটা ভেবে ভালো লাগছে।
প্রশ্ন: মুশফিক আপনাকে বিশেষ কোনো পরামর্শ দিয়েছেন?
অমিত: হ্যাঁ, সর্বশেষ যখন বিসিএল খেললাম, মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে লম্বা সময় ব্যাটিং করেছি। সেখানেও তিনি অনেক পরামর্শ দিয়েছেন। ব্যাটিং করার সময় কিছু কিছু ভুল ছিল আমার। তিনি সেগুলো ধরিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, কীভাবে ব্যাট করতে হবে। আমি সেভাবেই চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ ভালো ফল পাচ্ছি।
প্রশ্ন: মুশফিক বলেছেন, আপনি অনেক বিনয়ী, টেস্ট মেজাজি। নিজের প্রিয় ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমন প্রশংসা শুনতে কেমন লাগে?
অমিত: পছন্দের ক্রিকেটারের কাছ থেকে এমন কথা শুনলে সব খেলোয়াড় অনুপ্রাণিত হয়, মোটিভেটেড হয়। যাঁকে ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, তাঁর মুখ থেকে নিজের প্রশংসা শোনা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়।

প্রশ্ন: টি-টোয়েন্টির এই যুগে ধৈর্য ধরে লম্বা ইনিংস খেলার দক্ষতা কীভাবে রপ্ত করেছেন?
অমিত: এটা আসলে ভালো লাগার বিষয়। একটা বিষয় হচ্ছে, আমি ব্যাটিং করার সময় খুব লম্বা চিন্তা করি না যে ১০০ করতে হবে বা ১৫০ করতে হবে। প্রতিটা বল খেলার চেষ্টা করি। প্রতিটা বল আমার কাছে নতুন শুরু। বল ধরে ধরে খেলতে পছন্দ করি। এভাবেই চেষ্টা করি সব সময়। লম্বা সময় ধরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলছি। সম্ভবত ১৯ এ আমার অভিষেক হয়েছে সিলেট দিয়ে। এরপর থেকে সিলেট ডিভিশনের হয়েই খেলছি; পাশাপাশি লম্বা সময় ধরে রাজিন স্যারের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে, তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে ‘টেস্ট স্পেশালিস্ট’ হিসেবে মুমিনুল হক এবং সাদমান ইসলাম অনিকের নাম সামনে চলে আসে। আপনাকেও তেমন কিছুই মনে করা হচ্ছে। বিষয়টি কীভাবে দেখেন?
অমিত: একজন ব্যাটার যে সংস্করণে ভালো খেলে, নির্বাচক তাকে নিয়ে সেভাবেই চিন্তা করেন। লম্বা সংস্করণে আমি ভালো করছি, এটা অনেক বড় পাওয়া। তবে এই তকমাটার (টেস্ট স্পেশালিষ্ট) সঙ্গে আমি একমত নই। তাঁরাও (মুমিনুল-সাদমান) অনেক সময় সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই তকমা না থাকা ভালো।
প্রশ্ন: টেস্ট বিশেষজ্ঞের তকমা গায়ে লাগলে ক্ষতি কী?
অমিত: এই তকমা না লাগাই ভালো। একজন ব্যাটার দেখা গেল, তিন সংস্করণেই ভালো খেলে। তবে সে টেস্টে একটু বেশি ভালো। সে ক্ষেত্রে তার নামের সঙ্গে টেস্ট ব্যাটার তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়। অন্য দুই সংস্করণে ভালো খেললেও সুযোগ আসে না। সবাই ধরেই নেন, এই ক্রিকেটার তো টেস্ট খেলে। যাঁরা টেস্ট খেলেন, তাঁরা তো বিপিএলেও সুযোগ খুব কম পান। টেস্ট ব্যাটার তকমার একটা নেতিবাচক প্রভাব আছে।
প্রশ্ন: ক্যারিয়ারের শুরু থেকে মারকুটে ব্যাটার না হয়ে লম্বা দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটকেই কেন অগ্রাধিকার দিলেন?
অমিত: বিষয়টা ঠিক এ রকম নয়। আমি যখন যে সংস্করণে খেলার সুযোগ পেয়েছি, তখন সেখানেই ভালো করার চেষ্টা করেছি। ডিপিএল বা টি-টোয়েন্টি খুব কম খেলা হয়েছে। সুযোগ কম পেয়েছি। তবু চেষ্টা করছি এই দুই সংস্করণে ভালো করার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমি অনেক ম্যাচ খেলেছি গত ৬-৭ বছরে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও লম্বা দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট খেলা হয়েছে। সব মিলিয়ে লম্বা দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটটা বেশি খেলা হয়েছে।
প্রশ্ন: ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
অমিত: আপাতত সামনে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ আছে। আমি বর্তমানে থাকতে বেশি পছন্দ করি। তো সেটা নিয়েই চিন্তা করছি। বাকি দুই সংস্করণ নিয়ে এখনই কোনো চিন্তাভাবনা নেই। এখন আমাকে বর্তমান নিয়েই থাকতে হবে। আপাতত লক্ষ্য পাকিস্তান সিরিজ।
প্রশ্ন: পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক যদি হয়, নিজের ব্যাটিং নিয়ে কী পরিকল্পনা থাকবে?
অমিত: যখন খেলার সুযোগ আসবে, তখন পরিকল্পনা করতে পারব। দলের যে রকম একটা পরিকল্পনা থাকে, দলের প্রয়োজনে যতটুকু অবদান রাখা দরকার, আমি সেটাই চেষ্টা করব। আপাতত পরিকল্পনা এটাই। যখন যেটা দরকার হবে, সেভাবেই খেলার চেষ্টা থাকবে।
প্রশ্ন: স্থানীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে মুশফিককে তো আদর্শ মানেন। বিদেশি কোন ক্রিকেটারকে বেশি পছন্দ?
অমিত: কাউকে অনুসরণ করা হয় না। যাঁদের খেলা দেখতাম, তাঁরা তো অবসর নিয়েছেন। রাহুল দ্রাবিড়ের ব্যাটিং ভালো লাগত। তাঁর ব্যাটিং দেখেছি। বাঁ হাতি ব্যাটারদের মধ্যে গৌতম গম্ভীরের ব্যাটিং ভালো লাগত।

ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের হয়ে রাজকীয় অভিষেক হলো বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদের। ব্ল্যাকপুলে ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে বল হাতে আগুন ঝরিয়ে নিজের প্রথম ম্যাচেই কেন্টকে ১৪০ রানের বিশাল জয় এনে দিয়েছেন তিনি। পুরো ম্যাচে ১০১ রান খরচায় হাসান একাই শিকার করেছেন ৯ উইকেট, যা তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে
৯ মিনিট আগে
চলতি শতাব্দীতে জার্মানির বাইরে কেবল দুটি দল বিশ্বমঞ্চে এক ম্যাচে সাত বা তার বেশি গোল দেওয়ার স্বাদ পেয়েছে—২০১০ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে পর্তুগাল (৭-০) এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোস্টারিকার বিপক্ষে স্পেন (৭-০)।
৩০ মিনিট আগে
মাঠে বল গড়ানোর আগে দুই কোচের বয়সের বিশাল ব্যবধান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল ঢের। তবে মাঠের লড়াই শুরু হতেই জার্মানি ও কুরাসাওয়ের মধ্যকার ফুটবলীয় দূরত্বের ব্যবধানটাই ফুটে উঠল স্পষ্ট। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে বিধ্বংসী সূচনা করেছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।
২ ঘণ্টা আগে
কুরাসাও হয়তো মানচিত্রে ছোট, কিন্তু কোমেনেনসিয়ার হাত ধরে তাদের ফুটবলের আকাশটা আজ সীমানাহীন। জার্মানির কাছে ম্যাচটিতে হয়তো শেষ পর্যন্ত তারা হারতে পারে, কিন্তু প্রথমবার বিশ্বকাপে নেমেই গোলের যে অনাবিল আনন্দে ভাসল দ্বীপরাষ্ট্রটি, তার জন্য যে ভাগ্যের ছোঁয়া লাগে—সেই ভাগ্যটা নিজের সাহসের জোরেই ঠিকঠাক কাজে
২ ঘণ্টা আগে