আনোয়ার সোহাগ, ঢাকা

অবশেষে এল সেই মুহূর্ত। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ল আনন্দ। হামজা চৌধুরী লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। শমিত শোম জড়িয়ে ধরলেন কিউবা মিচেলকে। এমন জয়ের তৃপ্তি পেতে কত বছরের অপেক্ষা করতে হয়েছে, তা নিশ্চয়ই জানেন। তারপরও বলে দিই—অপেক্ষাটা ২২ বছরের।
২০০৩ সালে মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে এসেছিল সর্বশেষ। জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ মুন্নার আত্মা যেন ভর করেছিল শেখ মোরসালিনের ওপর। তাঁর গোলেই যে ভারতকে ২২ বছর পর ১–০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপ থেকে মূলপর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা আগেই শেষ হয়ে যায় হাভিয়ের কাবরেরার দলের। আগের ৪ ম্যাচে দুটি ড্রয়ের বিপরীতে একটিতেও আসেনি জয়ের দেখা। তবু সংবাদ সম্মেলনে জয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন কাবরেরা। যা বলেছিলেন তা করেও দেখালেন। এই জয় পাহাড়সম বোঝাও যেন নামিয়ে দিল তাঁর কাঁধ থেকে। হামজা–শমিতকে নিয়ে জিততে না পেরে কতশত সমালোচনাই না শুনতে হয়েছিল তাঁকে। তবু বিশ্বাস হারাননি।
বিশ্বাস হারাননি হামজা–শমিতরাও। আরেকজনের কথা আলাদাভাবে না বললেই নয়। নেপাল ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি চোটের কারণে। ভারত ম্যাচের আগে পুরোদমে অনুশীলন করতে পেরেছেন দুবার। সেই মোরসালিন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সময় নেন ১১ মিনিট। নিজেদের অর্ধে তাঁর কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ছুটতে থাকেন রাকিব হোসেন। আকাশ মিশ্রকে গতিতে পরাস্ত করে আড়াআড়ি পাসে মোরসালিনের দিকে বাড়ান তিনি। মোরসালিনও চতুরতার সঙ্গে তাঁর প্রথম স্পর্শে ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুর দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল পাঠান জালে। পুরো স্টেডিয়াম ফেটে উল্লাসে বাংলাদেশের জার্সিতে ২১ ম্যাচে এটি তাঁর সপ্তম গোল।
ব্যবধানটা আরও বাড়তে পারত শুরুতেই। ১৪ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে রাকিবের বাড়ানো ক্রস মোরসালিনের কাছে পৌঁছানোর আগেই তালুবন্দী করেন সান্ধু। বাংলাদেশের জন্য ছোটখাট এক ধাক্কা হয়ে আসে তারিক কাজীর চোট। ২৭ মিনিটে তাই তাঁকে তুলে নিয়ে শাকিল আহাদ তপুকে নামান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।
৩১ মিনিটে গোলরক্ষক মিতুল মারমার বিপদে ফেলতে বসেছিলেন বাংলাদেশকে। হামজা চৌধুরী না থাকলে সেখানে সমতায় ফিরতে পারত ভারত। পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ডান কর্নার ফ্লাগে কাছে গিয়ে লো বিল্ডআপে গড়বড় করে ফেলেন মিতুল। তাঁর হাফ ক্লিয়ারেন্সের লং বল গিয়ে পড়ে লালিয়ানজুয়ালা চাংতের কাঁছে। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটে বাধা হয়ে দাঁড়ান হামজা। হেড করে কর্নারের বিনিময়ে বাংলাদেশকে গোলহজমের হাত থেকে বাঁচান তিনি।
এরপরই খানিকটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। শোল্ডার চ্যালেঞ্জের পর থ্রো করতে যাওয়া বিক্রম প্রতাপকে বাধা দেন তপু বর্মণ। তাতে তাঁর দিকে তেড়ে আসেন নিখিল প্রভু ও ম্যাকারটন নিকসন। জটলা মধ্যেই মোরসালিন ধাক্কা মেরে বসেন নিখিল। তাই তপু ও নিখিল দুজনেই দেখেন হলুদ কার্ড।
ভারতের কয়েকটি আক্রমণ সামলে ৪৪ মিনিটে সুযোগ আসে হামজার কাছে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর ভলি অবশ্য লক্ষ্য খুঁজে পায়নি। তা বাদ দিলে প্রথমার্ধে একেবারেই নির্ভুল ছিলেন হামজা। মাঠের সবক্ষেত্রে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ বেশ সফলতার সঙ্গে কাটিয়ে ওঠেন লেস্টার সিটিতে খেলা এই মিডফিল্ডার। বাংলাদেশও তাই বিরতিতে যায় এগিয়ে থাকার স্বস্তি নিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে। স্বাগতিকেরাও সেভাবে গুছিয়ে খেলতে পারছিল না। ৪৯ মিনিটে সুরেশ সিংয়ের বাঁকানো ফ্রি কিকে রাহুল ভেকের হেড পোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায়। চার মিনিট মহেশ সিংয়ের ভলিও একই পরিণতি পায়।
মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত প্রায় কোণঠাসা করে রাখছিল বাংলাদেশের রক্ষণ। গোলদাতা মোরসালিনকে আর রাখার প্রয়োজন না করায় ৭১ মিনিটে বদলি করান কাবরেরা। মাঠে নামান শাহরিয়ার ইমনকে। ৭৯ মিনিটে হঠাৎই আক্রমণের দৃশ্যপটে আসেন শাকিল। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শট সান্ধু তালুবন্দী করেন সহজেই। দুই মিনিট পরই ইমনের ক্রসে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের হেড সন্দেশ ঝিঙ্গনের ঘাড়ে না লাগলে হয়তো গোলের দেখা পেত বাংলাদেশ।
সময় যত ঘনিয়ে আসছিল, ততই বাড়তে থাকে হৃদস্পন্দন। ভারতের একের পর এক হৃদয় কাঁপিয়ে দেওয়া আক্রমণ শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল। ভারতের কাছেই তো ২২ বছরে কতবার তীরে এসে তরি ডোবাতে হয়েছে কতবার। না, এবার মিতুল তা হতে দেননি। শুরুর ভুল শুধরে শেষ মুহূর্তে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান গোলপোস্টে। অক্ষত রাখেন জাল। তাঁর শেষের এই পারফরম্যান্স সুযোগ করে দেয় জয়গান গাওয়ার। ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’ স্লোগানে তৃপ্তি নিয়ে সমর্থকদের বাড়ি ফেরার।

অবশেষে এল সেই মুহূর্ত। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ল আনন্দ। হামজা চৌধুরী লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। শমিত শোম জড়িয়ে ধরলেন কিউবা মিচেলকে। এমন জয়ের তৃপ্তি পেতে কত বছরের অপেক্ষা করতে হয়েছে, তা নিশ্চয়ই জানেন। তারপরও বলে দিই—অপেক্ষাটা ২২ বছরের।
২০০৩ সালে মতিউর মুন্নার গোল্ডেন গোলে এসেছিল সর্বশেষ। জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ মুন্নার আত্মা যেন ভর করেছিল শেখ মোরসালিনের ওপর। তাঁর গোলেই যে ভারতকে ২২ বছর পর ১–০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ‘সি’ গ্রুপ থেকে মূলপর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা আগেই শেষ হয়ে যায় হাভিয়ের কাবরেরার দলের। আগের ৪ ম্যাচে দুটি ড্রয়ের বিপরীতে একটিতেও আসেনি জয়ের দেখা। তবু সংবাদ সম্মেলনে জয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন কাবরেরা। যা বলেছিলেন তা করেও দেখালেন। এই জয় পাহাড়সম বোঝাও যেন নামিয়ে দিল তাঁর কাঁধ থেকে। হামজা–শমিতকে নিয়ে জিততে না পেরে কতশত সমালোচনাই না শুনতে হয়েছিল তাঁকে। তবু বিশ্বাস হারাননি।
বিশ্বাস হারাননি হামজা–শমিতরাও। আরেকজনের কথা আলাদাভাবে না বললেই নয়। নেপাল ম্যাচে তিনি খেলতে পারেননি চোটের কারণে। ভারত ম্যাচের আগে পুরোদমে অনুশীলন করতে পেরেছেন দুবার। সেই মোরসালিন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সময় নেন ১১ মিনিট। নিজেদের অর্ধে তাঁর কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ছুটতে থাকেন রাকিব হোসেন। আকাশ মিশ্রকে গতিতে পরাস্ত করে আড়াআড়ি পাসে মোরসালিনের দিকে বাড়ান তিনি। মোরসালিনও চতুরতার সঙ্গে তাঁর প্রথম স্পর্শে ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুর দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল পাঠান জালে। পুরো স্টেডিয়াম ফেটে উল্লাসে বাংলাদেশের জার্সিতে ২১ ম্যাচে এটি তাঁর সপ্তম গোল।
ব্যবধানটা আরও বাড়তে পারত শুরুতেই। ১৪ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে রাকিবের বাড়ানো ক্রস মোরসালিনের কাছে পৌঁছানোর আগেই তালুবন্দী করেন সান্ধু। বাংলাদেশের জন্য ছোটখাট এক ধাক্কা হয়ে আসে তারিক কাজীর চোট। ২৭ মিনিটে তাই তাঁকে তুলে নিয়ে শাকিল আহাদ তপুকে নামান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।
৩১ মিনিটে গোলরক্ষক মিতুল মারমার বিপদে ফেলতে বসেছিলেন বাংলাদেশকে। হামজা চৌধুরী না থাকলে সেখানে সমতায় ফিরতে পারত ভারত। পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ডান কর্নার ফ্লাগে কাছে গিয়ে লো বিল্ডআপে গড়বড় করে ফেলেন মিতুল। তাঁর হাফ ক্লিয়ারেন্সের লং বল গিয়ে পড়ে লালিয়ানজুয়ালা চাংতের কাঁছে। বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শটে বাধা হয়ে দাঁড়ান হামজা। হেড করে কর্নারের বিনিময়ে বাংলাদেশকে গোলহজমের হাত থেকে বাঁচান তিনি।
এরপরই খানিকটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মাঠে। শোল্ডার চ্যালেঞ্জের পর থ্রো করতে যাওয়া বিক্রম প্রতাপকে বাধা দেন তপু বর্মণ। তাতে তাঁর দিকে তেড়ে আসেন নিখিল প্রভু ও ম্যাকারটন নিকসন। জটলা মধ্যেই মোরসালিন ধাক্কা মেরে বসেন নিখিল। তাই তপু ও নিখিল দুজনেই দেখেন হলুদ কার্ড।
ভারতের কয়েকটি আক্রমণ সামলে ৪৪ মিনিটে সুযোগ আসে হামজার কাছে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তাঁর ভলি অবশ্য লক্ষ্য খুঁজে পায়নি। তা বাদ দিলে প্রথমার্ধে একেবারেই নির্ভুল ছিলেন হামজা। মাঠের সবক্ষেত্রে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ বেশ সফলতার সঙ্গে কাটিয়ে ওঠেন লেস্টার সিটিতে খেলা এই মিডফিল্ডার। বাংলাদেশও তাই বিরতিতে যায় এগিয়ে থাকার স্বস্তি নিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। একের পর এক আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে। স্বাগতিকেরাও সেভাবে গুছিয়ে খেলতে পারছিল না। ৪৯ মিনিটে সুরেশ সিংয়ের বাঁকানো ফ্রি কিকে রাহুল ভেকের হেড পোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায়। চার মিনিট মহেশ সিংয়ের ভলিও একই পরিণতি পায়।
মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত প্রায় কোণঠাসা করে রাখছিল বাংলাদেশের রক্ষণ। গোলদাতা মোরসালিনকে আর রাখার প্রয়োজন না করায় ৭১ মিনিটে বদলি করান কাবরেরা। মাঠে নামান শাহরিয়ার ইমনকে। ৭৯ মিনিটে হঠাৎই আক্রমণের দৃশ্যপটে আসেন শাকিল। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে তাঁর নেওয়া শট সান্ধু তালুবন্দী করেন সহজেই। দুই মিনিট পরই ইমনের ক্রসে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের হেড সন্দেশ ঝিঙ্গনের ঘাড়ে না লাগলে হয়তো গোলের দেখা পেত বাংলাদেশ।
সময় যত ঘনিয়ে আসছিল, ততই বাড়তে থাকে হৃদস্পন্দন। ভারতের একের পর এক হৃদয় কাঁপিয়ে দেওয়া আক্রমণ শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল। ভারতের কাছেই তো ২২ বছরে কতবার তীরে এসে তরি ডোবাতে হয়েছে কতবার। না, এবার মিতুল তা হতে দেননি। শুরুর ভুল শুধরে শেষ মুহূর্তে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান গোলপোস্টে। অক্ষত রাখেন জাল। তাঁর শেষের এই পারফরম্যান্স সুযোগ করে দেয় জয়গান গাওয়ার। ২২ বছর পর ভারতকে হারিয়ে ‘বাংলাদেশ’ ‘বাংলাদেশ’ স্লোগানে তৃপ্তি নিয়ে সমর্থকদের বাড়ি ফেরার।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে ছোট সংস্করণে বিশ্বকাপের দশম পর্ব। তার আগে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া।
৪২ মিনিট আগে
প্রথমবার বিগ ব্যাশ খেলতে গিয়েই মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন রিশাদ হোসেন। লেগ স্পিন জাদুতে ব্যাটারদের পরাস্ত করছেন বারবার। দুর্দান্ত বোলিংয়ে সতীর্থদের প্রশংসা কুড়োচ্ছেন বাংলাদেশের এই তরুণ লেগস্পিনার।
১ ঘণ্টা আগে
তিন বছর পর আবার দেখা হচ্ছে সাদিও মানে ও মোহামেদ সালাহর। তবে একই দলে নয়, পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে। আফ্রিকা কাপ অব ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেনেগাল ও মিসর মুখোমুখি আজ। এই সেমিফাইনালে দুই দেশের জার্সিতে নামবেন সাবেক লিভারপুল সতীর্থ এই দুই তারকা। দিনের অন্য সেমিফাইনালে সুপার ইগল নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে স্বা
১ ঘণ্টা আগে
অ্যাশেজে মাঠের লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে রীতিমতো উড়ে গেছে ইংল্যান্ড। ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হারই বলে দিচ্ছে সবকিছু। বাজে পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা তো হচ্ছেই। মাঠের বাইরের ঘটনা নিয়েও চলছে নানা আলাপ-আলোচনা।
২ ঘণ্টা আগে