Ajker Patrika

বাংলাদেশের প্রতি ব্রাজিলিয়ান তারকার ভালোবাসা

রানা আব্বাস, নিউজার্সি থেকে
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ০৮: ২৫
বাংলাদেশের প্রতি ব্রাজিলিয়ান তারকার ভালোবাসা
আলেক্সান্দরে পাতো। ছবি: সংগৃহীত

মেটলাইফের মিডিয়া সেন্টারে ঢুকতেই চোখে পড়ল এক সুদর্শন ‘ফুটবল-পণ্ডিত’ হিসেবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে (বেশির ভাগই ব্রাজিলীয়) টানা সাক্ষাৎকার দিয়ে চলেছেন। আরে এ তো দেখি পাতো, আলেক্সান্দরে পাতো। সেই পাতো, যিনি ব্রাজিলিয়ান ফুটবল, ‘সবচেয়ে বড় অপূর্ণ সম্ভাবনাগুলোর একজন’।

মেসি-রোনালদো যেখানে নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে এসেছেন, সেখানে নায়কোচিত চেহারার পাতো ৩৬ বছর বয়সেই ‘সাবেক’ ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিশ্বকাপে এসেছেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে বড় এক আফসোসের নাম। বারবার চোটে না পড়লে হয়তো তাঁর প্রজন্মের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হতে পারতেন। ছোট্ট খেলোয়াড়িজীবনে সবচেয়ে সোনালি সময় তাঁর কেটেছে এসি মিলানে। ২০০৭ সালে মিলানের দিনগুলোয় তাঁর গতি, ড্রিবলিং ও গোল করার ক্ষমতা ফুটবল বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিল। ২০০৯ সালে তিনি ইউরোপের সেরা তরুণ ফুটবলারের জন্য দেওয়া ‘গোল্ডেন বয়’ পুরস্কার জেতেন। ২০১০-১১ মৌসুমে মিলানকে সিরি আ শিরোপা জিততেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আলেক্সান্দরে পাতোর সঙ্গে লেখক। ছবি: আজকের পত্রিকা
আলেক্সান্দরে পাতোর সঙ্গে লেখক। ছবি: আজকের পত্রিকা

পর্তুগিজ ভাষায় ‘পাতো’ অর্থ হাঁস। জন্মেছেন ব্রাজিলের পাতো ব্রানকো শহরে। সেখান থেকেই তাঁর ডাকনাম পাতো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এসি মিলানে থাকতে কোচ কার্লো আনচেলত্তি পাতোকে এতটাই স্নেহ করতেন যে নিজের কুকুরের নামও তিনি ‘পাতো’ রেখেছিলেন। সেই আনচেলত্তি এখন ব্রাজিলের কোচ। ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে সফল কোচ ব্রাজিলকে দেখাচ্ছেন ‘হেক্সা শিরোপা’র স্বপ্ন। প্রিয় কোচের সংবাদ সম্মেলন পাতো প্রায় ২০ মিনিট ঠাঁই দাঁড়িয়েই মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনলেন। পাতোর পাশে দাঁড়ানো ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য দেনিলসন। খেলা ছাড়ার পর তিনিও নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন একজন ব্রাজিল ফুটবলের পণ্ডিত হিসেবে।

মিডিয়া সেন্টারেই ধরা গেল পাতোকে। শুরুতে বাংলাদেশের দর্শকদের ধন্যবাদ আর ভালোবাসা জানালেন। বললেন, ‘আমি এখন নিউইয়র্কে, বলতে চাই, হ্যালো (হাত নাড়িয়ে), আপনাদের জন্য শুভকামনা। বাংলাদেশ, অনেক ধন্যবাদ।’

কথা শেষের আগে আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর দিলেন পাতো , যা থাকল এখানে

এবার ব্রাজিলের কেমন সম্ভাবনা দেখেন

পাতো: হ্যাঁ, আমার মনে হয় ব্রাজিলের দলটি এবার অনেক ভালো। তাদের সঙ্গে আছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আশা করছি, দল ফাইনালে পৌঁছাতে পারবে।

নেইমারকে নিয়ে আশা

পাতো: আমার কাছে সে-ই সেরা খেলোয়াড়, যদি সে শতভাগ ফিট থাকে। আমরা এখনো অনেক কিছুর অপেক্ষায় আছি। আমরা তার (নেইমার) ওপর অতিরিক্ত চাপ দিতে চাই না, তবে সে যখন শতভাগ প্রস্তুত হবে, তখন অবশ্যই খেলবে।

মেসি-নেইমার-রোনালদো-এমবাপ্পে-ইয়ামাল, কে হবেন সেরা

পাতো: জিজ্ঞেস করেছেন কে সবচেয়ে সেরা হতে পারেন (২০২৬ বিশ্বকাপে)? যদি একজনকে বেছে নিতে হয়, তাহলে আমার পছন্দ নেইমার।

পাতোদের স্বপ্ন পূরণ নিয়ে আনচেলত্তির ভাষ্য

পাতোর কাছেই শুনলেন আনচেলত্তি কতটা স্বপ্নিল করে তুলেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলকে। কিন্তু ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে সফল ইতালিয়ান কোচ কি পারবেন পাতোদের স্বপ্ন পূরণ করতে? সংবাদ সম্মেলনে পাতো নিজ কানেই শুনলেন প্রিয় কোচের কথা, যিনি বলেছেন, ‘জয় (বিশ্বকাপ) নিয়ে এখনই কিছু বলা কঠিন। তবে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি এবং জয়ের জন্যও লড়তে পারি। জিততে হলে খুঁটিনাটির প্রতি মনোযোগ দিতে হয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, এই মুহূর্তে আমাদের দলের মানসিকতা ইতিবাচক। আমরা এই বিশ্বকাপ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী—শুধু প্রথম ম্যাচ নিয়ে নয়। কারণ, এটি তো প্রতিযোগিতার কেবল শুরু। আমরা ইতিমধ্যেই খেলতে প্রস্তুত হয়েছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত