Ajker Patrika

গণভোট নিয়ে আলোচনা আদালতে নয়, সংসদে হওয়া উচিত: জামায়াত

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
গণভোট নিয়ে আলোচনা আদালতে নয়, সংসদে হওয়া উচিত: জামায়াত

গণভোটের বিষয়টিকে রাজনৈতিক ইস্যু বিবেচনা করে এটির বৈধতা নিয়ে আদালতে না গিয়ে বরং সংসদে আলোচনা করা উচিত বলে মনে করছে জামায়াতে ইসলামী। আজ সোমবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রতিক্রিয়া জানান দলটির শীর্ষস্থানীয নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়ার জন্য গণভোটের কোনো বিকল্প নেই—ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনায় এ বিষয়ে সবাই একমত হয়। সেই অনুযায়ী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে সংস্কার প্রস্তাব দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটে গৃহীত হয়। সংস্কার প্রস্তাবের ৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, যাতে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ, স্বৈরশাসন, একনায়কতন্ত্র ও লুটপাটের সুযোগ না থাকে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পরের দিন সংবাদ সম্মেলনে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের কমিটমেন্ট দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যের শপথের দিন দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল—একটি গণপরিষদ হিসেবে সংবিধান সংশোধনের দায়িত্ব পালনের জন্য এবং অন্যটি জাতীয় সংসদের নিয়মিত দায়িত্বের জন্য। কিন্তু বিএনপির এমপিরা সেই শপথ নেননি।

জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণভোট নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করা হয়েছে। গতকাল এবং আজ সেটার শুনানি হয়েছে। আগামীকাল এই মামলার রায় হবে। সবার কাছে এটি স্পষ্ট থাকা উচিত যে এই বিষয়টি হচ্ছে একটি জাতীয় বিষয়, একটি রাজনৈতিক বিষয়।

গণভোটের ব্যাপারটি এখন সংসদের বিষয় মন্তব্য করে জুবায়ের বলেন, মাত্র ১০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন হবে। সেখানে জনগণের ভোটে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন—সংসদ সদস্যরা এটা আলোচনা করবেন। বিষয়টি আদালতের কাঁধে রেখে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যাঁরাই চেষ্টা করছেন, আমরা মনে করি সেটা সঠিক কাজ হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরতে চাই, যে অতীতেও যেটি জাতীয় সংসদের বিষয় অথবা রাজনৈতিক যে বিষয়—তা যখন আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তখন সমস্যা-সংকট তৈরি হয়েছে এবং জাতীয়ভাবে বিভিন্ন বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, সংসদের অধিবেশনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। এত তাড়াহুড়ো করে দুজন আইনজীবীর মাধ্যমে এই রিট পিটিশন করে আসলে যাঁরা দায়ের করেছেন? তাঁরা কী পেতে চান?

শিশির মনির বলেন, আমি স্পষ্ট কোর্টে সরকারের ইন্ধন দেখতে পেয়েছি। আইনজীবীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে সরকারের ইন্ধন এবং একটা ক্লোজ এলাই আছে সরকারের কিছু ব্যক্তি এই বিষয়টাকে আদালতে সাবজুডিস ম্যাটার বলে পার্লামেন্টকে যেন কোনোভাবে বাধিত করা না যায়, এই জন্যই এই কৌশলটা অবলম্বন করেছেন। আমরা আদালতে প্রশ্ন তুলেছি যে ১০ দিন অপেক্ষা করে পার্লামেন্ট যদি এই সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আদালতের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

তিনি বলেন, নভেম্বর মাসে জুলাই সনদ আদেশ হয়েছে। ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাস গেল। এটা মার্চ মাস যাচ্ছে। এত দিন যদি এটা চ্যালেঞ্জ করার প্রয়োজন না হলো, তাহলে ১২ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে এখানে অসুবিধাটা কোথায়? এগুলোর আসলে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেনি।

শিশির মনির প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে অভ্যুত্থান কি আদালতের নিয়ম মেনে হয়েছে? আদালতের আদেশ মেনে অন্তর্বর্তী সরকার, গণভোট কিংবা জাতীয় নির্বাচন হয়েছে? এখন এসে জাতীয় নির্বাচনের পার্টটুকুকে চ্যালেঞ্জ করে না। চ্যালেঞ্জ করে শুধু গণভোটের পার্টটুকু। জাতীয় নির্বাচন তো এক দিনই হয়েছে; পাশাপাশি ব্যালটে হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কিশোরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার

প্রশাসনের সভায় এমপির বউ, ইউএনও-এসি ল্যান্ড বদলি

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা না বাড়াতে উপসাগরীয় মিত্রদের সৌদির ‘গোপন বার্তা’

মার্কিন বাহিনীতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: কংগ্রেসকে পেন্টাগন

ভুলবশত ৩টি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে কুয়েত: মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত