Ajker Patrika

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পারার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি—সরকারকে পরওয়ার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পারার ব্যাখ্যা দিতে পারেননি—সরকারকে পরওয়ার
শাহবাগে পুশইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ। ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকারের উদ্দেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আপনাদের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারলেন না, অপমানিত হয়ে ফিরে আসলেন; জাতির কাছে ব্যাখ্যা দিতে পারেন নাই।’

আজ সোমবার রাজধানীর শাহবাগে পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘আপনারা ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে পার্লামেন্টে একটি দলকে কটাক্ষ করার জন্য অপচেষ্টা করেন, অথচ পুশ ইন করে, আপনাদের উপদেষ্টাদের অপমানিত করে আমাদের অখণ্ডতাকে নষ্ট করছে, সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিতে পারেন না।’

প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রসঙ্গে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘ভারতের সীমানা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আপনারা আমাদের অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাতে পারেননি। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর শুভেন্দু অধিকারী যখন মুখ্যমন্ত্রী হলেন, তিনি বললেন—শেখ হাসিনা শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করবে, উনি দুই মিনিটে বাংলাদেশ দখল করবেন! এতে বোঝা যায় আপনারা আমাদের অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল নন।’

গত বছর প্রায় আড়াই হাজারের মতো পুশ ইন হয়েছে উল্লেখ করে পরওয়ার বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী ক্ষমতায় এসে তিনি নিজেই বলেছেন, প্রায় সাড়ে চার হাজার ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় তারা পুশ ইন করেছে। আমরা জানতে পেরেছি, গোটা ভারতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষকে নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাইয়ের অজুহাত তুলে তালিকাভুক্ত করে পুশ ইনের আওতায় আনা হয়েছে।’

বিজিবির প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজিবি সৈনিকেরা সীমান্তে যে সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন, সীমান্তবর্তী প্রায় ৩২টি জেলার বীর জনগণ এই পুশ ইনকে প্রতিরোধ করতে শুরু করেছেন। রৌমারীতে বড়াইবাড়ি সীমান্তে বিডিআরের কাছে বিএসএফের সেই নির্লজ্জ পরাজয়ের ইতিহাস আপনাদের স্মরণ করতে হবে। আমাদের সীমান্তের লুঙ্গি পরা কৃষকেরাই আপনাদের এই পুশ ইন প্রতিরোধ করার জন্য যথেষ্ট।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের এই ভূখণ্ডের পানি সমস্যা, সীমান্ত সমস্যা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সব ক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে আমরা সম্পর্ক চাই। আমরা বৈষম্য, আধিপত্যবাদী এবং নিজেদের ওপরে দাদাগিরি-বাবুগিরি করে বাংলার বীর জনগণকে পদানত রাখতে দেব না, আমাদের সংগ্রাম চলবে।’ তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত