
জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ ও তার থেকে যে অংশ নিয়ে গণভোট হলো—যেটা জনগণ অনুমোদন করেছে, সেটা শেষকথা হওয়ার কথা। যেটা অক্ষরে অক্ষরে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে, সেটা নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে এবং কতগুলো খোঁড়া যুক্তি দেওয়া হচ্ছে। যেমন—একটা যুক্তি দিচ্ছে যে, এটা সংবিধানে নেই।
আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত ‘অধ্যাদেশ বাতিল এবং গণভোট অস্বীকারের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের যুগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সংবিধানে না থাকলেও অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে নির্বাচন হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন বদিউল আলম। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘১৯৯০ সালের দিকে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন সাহেব যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়েছিলেন, সেটা কোন সংবিধানে ছিল? তিনি যে আবার ফেরত গেলেন, ওটাইবা কোন সংবিধানে ছিল?’
বিগত ঐকমত্য কমিশনের এই সদস্য বলেন, ‘আরেকটা যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, ‘‘নোট অব ডিসেন্ট’’ নিয়ে। ‘‘নোট অব ডিসেন্ট’’ মাইনরিটি ভিউ (সংখ্যালঘিষ্ঠের দৃষ্টিভঙ্গি) বা মতামত। এই যে বিশেষ সংসদীয় কমিটি হয়েছে ১৪ জনের, তার মধ্যে ১১ জন সরকারদলীয় আর তিনজন বিরোধীদলীয়। যারা সংখ্যায় বেশি, তারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। আমরা মানি আর না মানি। আমাদের ঐকমত্য কমিশনে যেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটাও সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। আর যেগুলো ‘‘ডিসেন্ট’’ (আপত্তি) দেওয়া হয়েছে, ওগুলো হলো সংখ্যালঘিষ্ঠের মতামত। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতই গ্রহণযোগ্য।’
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা সংকটের মুখোমুখি। একটি হলো—বহির্বিশ্বের সৃষ্ট সংকট, যার ভয়াবহ প্রভাব আমাদের ওপর পড়ছে এবং পড়বে। এ ছাড়া আমরা নিজেরাও সংকট সৃষ্টি করছি, গণভোটের রায় নাকচ করে দেওয়ার মাধ্যমে কিংবা এটা নিয়ে টালবাহানা করে। যে অধ্যাদেশগুলো সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে এবং মানুষের কল্যাণ বয়ে আনবে, সেগুলো বাতিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এগুলো সংকটকে আরও গভীর করবে।’
বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন বদিউল আলম। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার ঐক্য। তরুণদের নেতৃত্বে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেই ঐক্যের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন ঘটিয়েছিলাম। একটা নতুন ভবিষ্যতের কথা আমরা সেদিন চিন্তা করেছিলাম, স্বপ্ন দেখেছিলাম। আজ এটা ভন্ডুল হতে যাচ্ছে। আমাদের মধ্যে অহেতুক অনৈক্য আমরা নিজেরা সৃষ্টি করছি। গণভোট নিয়ে গড়িমসি এবং একই সঙ্গে অধ্যাদেশগুলো বাতিল করার মাধ্যমে।’
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যে পরিস্থিতিতে গঠিত হয়েছিল, যে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল, সেটা কোনো সংবিধান মেনে হয়নি। আমরাই নির্বাচন দিলাম। আমরা যদি সংবিধানে না থাকি, তাহলে নির্বাচনটা কী করে সাংবিধানিক হলো? এগুলো সব এলোমেলো ব্যাপার নিয়ে বর্তমান সরকার এখন ক্ষমতায় আছে। তারা যদি এখন প্রশ্ন তোলে যে, সংবিধানের সবকিছু তারা মানছে, তাহলে তারা কিন্তু মিথ্যাচার করছে বা অসত্য বলছে।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী বলেন, জুলাইয়ের গণভোট যদি বাতিল হয়, তাহলে গণভোট বাতিলের সঙ্গে সঙ্গে এই সরকারও বাতিল। এটাই সাফ কথা।
এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘বিএনপির সরকার গঠনের মাত্র দুই মাসের মধ্যেই দমনমূলক প্রবণতার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে আমরা দেখেছি, ধীরে ধীরে এই পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি খুব দ্রুতই তাদের সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’
আলোচনায় আরও অংশ নেন ব্যারিস্টার আবু হেনা রাজ্জাকী, ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, মনিরা শারমিন প্রমুখ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্টের কারণে আবারও গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য আবার গ্রেপ্তার শুরু হয়ে গেছে। বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটছে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখালেখি করার ফলে।
২ ঘণ্টা আগে
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে। কারণ, তাঁরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে কিছু মতামত লিখেছিলেন। এই জায়গাটাই সবচেয়ে চিন্তার। বিচারকদের নিজেদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা করার জায়গাটাও যদি নিরাপদ
৪ ঘণ্টা আগে
‘আমরা পার্লামেন্টে এসে শুনি, দেশে তেলের কোনো অভাব নেই। কিন্তু মাননীয় স্পিকার, পার্লামেন্টে তেল থাকলে কী হবে? আমরা পেট্রলপাম্পে তেল পাই না। আমার গাড়ি রাত ৩টা-৪টা পর্যন্ত পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকে পাঁচ-ছয় লিটার তেল নেওয়ার জন্য...
৫ ঘণ্টা আগে
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাবেক ছাত্রলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা এম এইচ পাটোয়ারী বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেন।
৫ ঘণ্টা আগে