Ajker Patrika

সচিবালয়ের পক্ষে কথা বলায় এবং নিউজ শেয়ার করায় বিচারকদের শোকজ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ১১
সচিবালয়ের পক্ষে কথা বলায় এবং নিউজ শেয়ার করায় বিচারকদের শোকজ
ফাইল ছবি

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের পক্ষে বিচারকদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে কথা বলা এবং পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদের লিংক শেয়ার করায় বেশ কয়েকজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সহকারী জজ থেকে জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাও রয়েছেন। বিভিন্ন মাধ্যমে শোকজ প্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তার সংখ্যা ২৮ বলা হলেও দায়িত্বশীল সূত্র থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আইন মন্ত্রণালয় ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সংখ্যার বিষয়ে সঠিক তথ্য মেলেনি।

শোকজ পাওয়া কয়েকজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রশ্নে বিচারকেরা ঐক্যবদ্ধ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। অথচ নিজেদের অভ্যন্তরীণ (গোপনীয়) গ্রুপে এই বিষয়ে মতামত জানানোর কারণেও শোকজ করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। ওই মতামত পাবলিক পোস্টেও ছিল না। কেউ কেউ শোকজ পেয়েছেন পত্রিকার নিউজ গ্রুপে শেয়ার করার কারণে। এ ছাড়া যখন গ্রুপে মতামত লেখা হয়েছে, তখন অফিস সময়ও ছিল না। এত তুচ্ছ ঘটনায় শোকজ করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তাঁরা। এতেই বোঝা যাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় না হওয়ায় তাঁদের স্বাধীনতা কতটা সংকুচিত হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিচারকেরা ‘ঐক্যবদ্ধ’ জানিয়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গত ৫ এপ্রিল গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠায়। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে বিচারকদের মধ্যে বিভক্তি নিয়ে প্রতিবেদনের প্রতিবাদে ওই বিবৃতি পাঠানো হয়।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসাইন ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিচারকদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই; বরং বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক এবং আর্থিক স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশনের সকল সদস্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। অ্যাসোসিয়েশন প্রত্যাশা করে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশটি যথাযথ পর্যালোচনা শেষে দ্রুত আইন হিসেবে প্রণীত হবে এবং বিচার বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠির ভাষার সবার ক্ষেত্রে একই বলে জানা গেছে বিভিন্ন সূত্র থেকে। গত ১ এপ্রিল ওই চিঠিতে সাক্ষর থাকলেও অনেকে তা পেয়েছেন ৮ এপ্রিল। চিঠিতে বলা হয়—বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ এর বিধি ৩ (২) অনুযায়ী লিখিত ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়।

শোকজের চিঠিতে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগ থেকে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের অনুসরণীয় নির্দেশনার বিষয়ে সার্কুলার জারি করা হয়। ওই সার্কুলারে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্তৃক অবশ্য বর্জনীয় বিষয়াবলির ‘ঝ’ ক্রমিকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো বিরূপ মন্তব্য বা ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ বা প্রচার অবশ্যই পরিহার্য।

বাতিল হওয়া শৃঙ্খলা বিধিতে শোকজ

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭ সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। তিন মাসের মধ্যে পৃথক সচিবালয় করার নির্দেশনা দিয়ে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর ওই রায় দেওয়া হয়। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে ৭ এপ্রিল। ২০১৭ সালের শৃঙ্খলাবিধির বিষয়ে রায়ে বলা হয় এটি পুনর্বহালকৃত ১১৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মাসদার হোসেন মামলায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিষয়ে নির্ধারিত নির্দেশনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

এ দিকে হাইকোর্টের রায়ে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা বিধিমালা দিয়ে শোকজ করাকে বেআইনি বলছেন আইনজ্ঞরা। জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ ড. শাহজাহান সাজু আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিচারকেরা নিজেদের গ্রুপে কোনো আলোচনা করতেই পারে। সে ক্ষেত্রে তাদের কোনো অপরাধ হওয়ার কথা নয়। আর যেই ধারার আওতায় তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে, সেটি এরই মধ্যে হাইকোর্ট অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। তাই ওই শোকজ বেআইনি।

বিচারকদের শোকজের প্রতিবাদ আইনজীবীদের

অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে শোকজ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী সংগঠন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স (এনএলএ)।

আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক আজমল হোসেন এই প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্বাহী উপায়ে ফ্যাসিস্ট আমলে প্রণীত একটা সার্কুলারের আলোকে শোকজ করা বেআইনি ও সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আমরা এহেন শোকজকে বিচার বিভাগের ওপরে নির্বাহী বিভাগের ভয় দেখানোর কৌশল মনে করছি।

তিনি অবিলম্বে বিচারকদের করা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করে বিচার বিভাগের ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট খন্দকার এরশাদুল বারী, মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাহাবুল বাশার, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট আশরাফী সানজিদা প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ: শেষ মুহূর্তে সময় চাইলেন বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার বললেন—সুযোগ নেই

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব—শান্তির রূপরেখা নাকি ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক ফাঁদ

হরমুজ প্রণালিতে কি ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

যুদ্ধবিরতি: হরমুজ থেকে টোল আদায় করবে ইরান-ওমান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত