
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল করতে সংসদে বিল তোলা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার এসব অধ্যাদেশ জারি করেছিল। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধ্যাদেশ দুটি বাতিল হলে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা ফিকে হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ক্ষুব্ধ বিচার বিভাগের কর্মকর্তারাও। জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ৫ এপ্রিল বলেছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিচারকেরা ঐক্যবদ্ধ।
তবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সবার সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে বিল আকারে আনা হবে। একই কথা বলেন জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনও।
টিআইবি ৩ এপ্রিল এক বিবৃতিতে বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে যে গুটিকয়েক ক্ষেত্রে দেশের গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছিল, তার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ অন্যতম।
বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রায় সব কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ অধস্তন আদালতের বিচারকেরা। তাঁরা বলছেন, এই অধ্যাদেশ বাতিল হলে তাঁদের নিয়ন্ত্রণ আবারও আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাবে। বিষয়টি নিয়ে বিচারকদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা হলেও গণমাধ্যমের সঙ্গে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে বিচারকদের মধ্যে বিভক্তি নিয়ে প্রতিবেদনের প্রতিবাদে ৫ এপ্রিল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিচারকদের মধ্যে কোনো প্রকার বিভক্তি নেই। বরং বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক স্বাধীনতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশনের সব সদস্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসাইন ও মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। অ্যাসোসিয়েশন প্রত্যাশা করে, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশটি যথাযথ পর্যালোচনা শেষে দ্রুত আইন হিসেবে প্রণীত হবে এবং বিচার বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের জন্য বিচার বিভাগীয় ৪৬ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জন নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি নিয়োগের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। ১৯ জন কর্মচারী পদায়ন করা হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট থেকে। অন্য কর্মচারীদের নিয়োগের জন্য বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। বাজেট প্রাপ্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যাবতীয় কাজ শেষ। সচিবালয়ের জন্য এরই মধ্যে ১৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভবনের কাজও চলতি এপ্রিল মাসে শেষ হবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া বলেন, অধ্যাদেশ দুটি পাস না করায় অবশ্যই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্ব করবে। কারণ, অধ্যাদেশ দুটির উদ্দেশ্য ছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘তাঁরা বলছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরে জারি করবেন। এই যুক্তি আমার কাছে যথার্থ মনে হচ্ছে না। কারণ, আইনে পরিণত করেও সমস্যা থাকলে পরবর্তীতে পরিমার্জন করতে পারতেন। সেটা না করে নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমস্যা তৈরি করছেন, একটা টানাপোড়েন তৈরি হচ্ছে।’
বারবার মুখ থুবড়ে পড়েছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে তা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়। ১৯৯৪ সালে বিচার বিভাগকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ থেকে স্বাধীন করতে রিট করেন জেলা জজ ও তৎকালীন জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন। হাইকোর্ট ১৯৯৭ সালে ওই আবেদনের পক্ষে রায় দেন। এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে সরকার আপিল করে। ১৯৯৯ সালে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। সে সঙ্গে বিচার বিভাগ পৃথক্করণসহ ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে ২০০১ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য খসড়া আইন করা হয়েছিল, যা পাঠানো হয়েছিল কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে। ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দিনগুলি ও আমার কথা’ বইয়ে বিষয়টি লিখেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান। তিনি লিখেছেন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৩ অক্টোবর উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় অনুমোদন শেষে বিচার বিভাগ পৃথক্করণ আইন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল অধ্যাদেশ আকারে জারি করার জন্য। ৩ অক্টোবর বিচার বিভাগ পৃথক্করণের বিষয়টি আইনে পরিণত করার জন্য উপদেষ্টামণ্ডলীর সভাও ডাকা হয়। কিন্তু ১২টার দিকে বেগম খালেদা জিয়া প্রধান উপদেষ্টাকে টেলিফোন করে বলেন, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিষয়টি তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। তাই বিষয়টি তাঁর সরকারের (বিএনপি) জন্য রেখে যাওয়ার অনুরোধ করেন এবং কথা দেন, তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।
তবে বিএনপি সরকারের সময় বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়নি। পরে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচার বিভাগ পৃথক্করণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। পরবর্তী দেড় দশকের বেশি টানা ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু পৃথক সচিবালয় করা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষমতা এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে নিতে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ চ্যালেঞ্জ করে ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের ১০ জন আইনজীবী। আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত থাকায় এতে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।
রিটের পর রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ওই রুল নিষ্পত্তি করে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়। যাতে রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ে হাইকোর্ট বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৩৯ ধারা অনুসারে ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। একইভাবে ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনী আইনের ১৯ ধারার মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনও সাংঘর্ষিক বলে বাতিল করা হলো। এ ছাড়া সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী ও ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৯৭২ সালের সংবিধানে ১১৬ অনুচ্ছেদ যেভাবে ছিল, সেভাবে সংবিধানে পুনর্বহাল হবে।
রায়ে বলা হয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আছে, যাদের স্বাধীন পরিচয় রয়েছে। অথচ বিচার বিভাগের জন্য কোনো সচিবালয় গঠিত হয়নি। বিচার বিভাগ রাষ্ট্রের স্বাধীন অঙ্গ। স্বাধীনভাবে কাজ করতে এবং সত্যিকার অর্থে রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গ (আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগ) থেকে বিচার বিভাগ পৃথক। পৃথক বিচার বিভাগ সাংবিধানিক অধিকার।
হাইকোর্টের রায়ের পর বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত বছরের ৩০ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়। এরপর ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ওই সময় সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘সবার কাছে আমার আহ্বান রইল—আগামী দিনে যে নির্বাচিত সরকার আসবে, তাদের তো বটেই এবং আমাদের যত স্টেকহোল্ডার (অংশীজন) আছে, তাদের সবাইকে এই ধারাবাহিকতা, এই সচিবালয়ের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন বজায় রাখা, গণতন্ত্রকে বজায় রাখা—এই ধারাবাহিকতা যেন অটল থাকে, অটুট থাকে।’
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া বলেন, ‘এখন আইন না করার ফলে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বিষয়ে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। কারণ, সচিবালয় গঠিত হয়ে গেছে। তাদের বাজেট দেওয়া হয়েছে, জনবল নিয়োগ হয়েছে, তারা কাজ করছে। আইনটা না হলে এই সচিবালয়ের কী হবে? আর সচিবালয় না থাকলে তখন আদালত অবমাননার অবস্থা তৈরি হবে। কারণ, হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। রায়ে বলা হয়েছিল তিন মাসের মধ্যে সচিবালয় করতে। তাই এই বিষয়ে আইন করতেই হবে। অন্যথায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে স্থগিতাদেশ নিতে হবে। এর বিকল্প নেই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য পৃথক সচিবালয় বাঞ্ছনীয়।’
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ
সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন। ১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচারপতি নিয়োগে আইন করার কথা বলা হয়েছে। বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতার বিষয়ে সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদের ২(ক)-এ বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টে কমপক্ষে ১০ বছর আইনজীবী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। (খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ১০ বছর বিচার বিভাগীয় পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং (গ)-এ বলা হয়েছে, আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে তিনি নিয়োগ লাভের যোগ্য হবেন না।
কিন্তু ব্যক্তির যোগ্যতা নির্ধারণে যে আইন করার কথা বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময়েও সেই আইনই তৈরি করা হয়নি। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২১ জানুয়ারি এই বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করে। এরপর অধ্যাদেশ অনুযায়ী বিচারপতিও নিয়োগ করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য দুটি অধ্যাদেশই জরুরি। বর্তমান সরকার বলছে বিল আকারে আনবে। সে জন্য অপেক্ষা করা দরকার। আর মনে হয়, তারা ক্রেডিটটা নিতে চায়। এটা করার বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা রয়েছে। বিএনপিও গত ১৭ বছর বলেছে, আইন করা দরকার। এখন তারা বাস্তবায়ন না করলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিচার বিভাগ পৃথককরণ মামলার বাদী মাসদার হোসেন বলেন, ৫৪ বছরে বিচারক নিয়োগের কোনো অধ্যাদেশ ছিল না। যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তারা তাদের পছন্দের লোক নিয়োগ করেছে। হাইকোর্টের রায়ের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় হয়েছে। এখন বাদ দিলে শূন্যতা সৃষ্টি হবে। যে অধ্যাদেশগুলো হয়েছে, এগুলো টিকিয়ে রেখে পরে প্রয়োজনে সংশোধন করার পরামর্শ দেন তিনি।

জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সংসদে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এমপি সালাহ উদ্দিন আইউবী বলেছেন, ‘নিজে আটটি পাম্প ঘুরেও তেল পাননি, গাড়ি রেখে লোকাল পরিবহনে সংসদে আসতে হয়েছে। অথচ সরকারিভাবে বলা হচ্ছে তেলের সংকট নেই।’
৩ ঘণ্টা আগে
৯ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এই দুই নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনের ১২৮টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৭০৪ জন এবং বগুড়া সদর উপজেলার ১৫০টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৯৯০ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মোট ২৭৮টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৯৪ জন সদস্য নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন...
৪ ঘণ্টা আগে
তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশনা দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে। গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এ রায় দিয়েছিলেন।
৪ ঘণ্টা আগে
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সেই সঙ্গে এই মামলার পলাতক ১৮...
৪ ঘণ্টা আগে