Ajker Patrika

আমরা কি সরকারি দলকে জিজ্ঞাসা করে ওয়াকআউট করব—তিনবার ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৫৭
আমরা কি সরকারি দলকে জিজ্ঞাসা করে ওয়াকআউট করব—তিনবার ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতা
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার কিছুক্ষণ আগে বিরোধী দল ওয়াকআউট করে। এই নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল তৃতীয়বারের মতো ওয়াকআউট করল। এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংসদের বৈঠকের সভাপতিত্ব করছিলেন।

পরে মাগরিবের নামাজের বিরতির পর তাঁরা আবারও সংসদের বৈঠকে যোগ দেন। এদিকে ওয়াকআউট করার সময় বিরোধী দলকে ‘কটূক্তি’ করা হয়েছে দাবি করে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সংসদের পরিবেশ নষ্ট হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না হতে অনুরোধ জানানো হয় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্লোর নিয়ে দাবি করেন, সংসদকক্ষে কাউকে সমালোচনা করা হয়নি। বিলগুলো পাসের প্রতিটি স্টেজে সহযোগিতার জন্য বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

ওয়াকআউটের আগে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য, বিরোধী দলের যৌক্তিক বাধা সত্ত্বেও যে কয়টি গণবিরোধী বিল আজকে পাস হয়েছে। আমরা তার দায় নিতে চাই না। এ জন্য আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।’ এই ঘোষণা দেওয়ার পরই শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদের কক্ষ ত্যাগ করেন।

বিরোধী দল ওয়াকআউট করার পরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানানোর জন্য উঠেছি। আইন প্রক্রিয়ার ফাস্ট রিডিং, সেকেন্ড রিডিং, থার্ড রিডিং—সব প্রক্রিয়ায় উনারা সহায়তা করেছেন। কেউ কেউ হাত তুলে সমর্থনও করেছেন। সমস্ত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পরে ওয়াকআউটের কোনো মানে আছে কি না, এটা জানার জন্য উঠেছি। সমস্ত প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ। আশা করি, মাগরিবের নামাজের পর আবারও অংশগ্রহণ করবেন।’

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর সংসদের বৈঠকে যোগ দিয়ে সংসদে ফ্লোর চান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। স্পিকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল থাকবে। সকল বিষয়ে একমত হব, এটা স্বাভাবিক নয়। আমরা যেটাকে যৌক্তিক মনে করব তার সাথে একমত হব, সহযোগিতাও করব। যেটা আমাদের যুক্তিতে ধরবে না, সেটার বিষয়ে আমরা বিরোধিতা করব—এটা আমাদের দায়িত্ব এবং অধিকার। আমি জানতে চাচ্ছি, সংসদ থেকে ওয়াকআউট কি অপরাধের মধ্যে পড়বে?’

জবাবে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমরা সকলেই জানি এটা গণতান্ত্রিক অধিকার এবং চর্চা।’

তখন বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তা আমাদের অধিকার আছে (ওয়াকআউট করার)। সেই অধিকারবলে আমরা যা উপযুক্ত, তা করেছি, ওয়াকআউট করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়ে সিনিয়র যেসব সদস্য এখানে আছেন। তাঁরা আগেও সংসদে ছিলেন, এখনো এসেছেন। তাঁরা ভাগ্যবান। আমরা নতুন এসেছি। তাঁদের থেকে আমরা শিখব। কিন্তু সেখানে আমরা চলে গেলে যদি কটূক্তি করা হয়, তাহলে পরিবেশ ক্ষুণ্ন হবে। যদি বলা হয়, ‘অবশ্যই তাঁরা এভাবে ওই সময়ে চলে আসবেন’ তাহলে আমার জানার বিষয়ে আমরা কি সরকারি দলকে জিজ্ঞাসা করে ওয়াকআউট করব? এবং আবার ফিরে আসব কি না? এ বিষয়ে আমি আপনার (স্পিকারের) দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। আশা করব, ভবিষ্যতে পরিবেশ নষ্ট হয়—এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হবেন না।’

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার দিনের কার্যসূচিতে যেতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে ফ্লোর চান। তখন ডেপুটি স্পিকার তাঁকে বসে পড়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি দয়া করে বসুন। আমরা দিনের কার্যসূচিতে যাব। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমরা কিন্তু দিনের কার্যসূচিতে আছি।’

ডেপুটি স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রথমে ফ্লোর দিতে অস্বীকার করে বলেন, ‘যেহেতু বিরোধীদলীয় নেতা দাঁড়িয়েছেন, তাঁকে ফ্লোর দিয়েছি। এখানে যদি মাননীয় সংসদ নেতা দাঁড়াতেন তাঁকে ফ্লোর দিতাম। আপনি অনুগ্রহ করে বসুন। আমাদের কার্যসূচি অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করতে দিন। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনি বসুন দয়া করে। আমাদের অনেক কার্যক্রম হাতে আছে। আমাদের বিলগুলো পাস করতে হবে।’

এরপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলতে চাইলে স্পিকার বলেন, ‘আমরা আপনার কথা রেকর্ড রাখার সুযোগ দেব। আগে কার্যক্রম শেষ করি। আমি অ্যাড্রেস করছি হোম মিনিস্টারকে। লেট আস ডিসিপ্লিন আওয়ার সেলফ। উই আর অনারেবল মেম্বার অব দিজ হাউস।’

এতেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিবৃত্ত না হলে এবং সংসদে শোরগোল শুরু হলে একপর্যায় তাঁকে ফ্লোর দেন ডেপুটি স্পিকার। ফ্লোর পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই উনারা ওয়াকআউট করার সময়ে আমি জাস্ট দাঁড়িয়ে বলেছিলাম যে আইন প্রণয়নের সমস্ত স্টেপস শেষ হওয়ার পরে এটা কী রকম ওয়াকআউট। সেটা আমি বুঝতে পারিনি। তবে ধন্যবাদ জানানোর জন্য দাঁড়িয়েছিলাম, উনারা প্রত্যেকটি আইনে ফাস্ট, সেকেন্ড, থার্ড রিডিংয়ে সহায়তা করেছেন। এর বাইরে আমরা কোনো কথা-আলাপও করিনি। কোনো ক্রিটিসিজমও করিনি। এখন বাইরের আলাপ যদি ভেতরে আনতে পারেন, সেটা অন্য কথা। কিন্তু রেকর্ডে কিছু নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামুকা সংশোধনে বিল পাস, জামায়াতের আপত্তি, এনসিপির সমর্থন

নীরবতার চরম মূল্য: ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেভাবে হারিয়ে গেল উপসাগরীয় অঞ্চলে

কর্মস্থল খাগড়াছড়ির পানছড়ি, চিকিৎসাসেবা দেন টাঙ্গাইলের ক্লিনিকে ক্লিনিকে

‘বিসিবিতে স্ত্রী কোটায় রাখা হয়েছে রাশনা ইমামকে’

নতুনদের জন্য সুখবর, অভিজ্ঞতা ছাড়াই ব্যাংক এশিয়ায় চাকরির সুযোগ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত