Ajker Patrika

দুর্নীতি দমন কমিশন

কমিশন না থাকায় কাজে অচলাবস্থা

  • দুই সপ্তাহ ধরে নেই চেয়ারম্যান-কমিশনার।
  • আটকে শতাধিক মামলার অনুমোদন।
  • অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হচ্ছে না।
  • অধ্যাদেশ না আগের আইনে হবে, তা নিয়ে আলোচনা।
সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকা 
কমিশন না থাকায় কাজে অচলাবস্থা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার একসঙ্গে পদত্যাগ করার পর দুই সপ্তাহ ধরে কমিশনশূন্য। ৩ মার্চ তিন সদস্যের কমিশন পদত্যাগ করে। এখনো নতুন কমিশন গঠনের জন্য বাছাই কমিটি (সার্চ কমিটি) গঠন করা হয়নি।

ফলে সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ সার্বিক কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, কমিশন না থাকায় অভিযোগ অনুসন্ধানের অনুমোদন, নতুন মামলা করা, চার্জশিট অনুমোদন, সম্পত্তি ক্রোক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। এতে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, কমিশন ছাড়া দুদক আইনে নির্ধারিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে কার্যক্রমে একধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কমিশন থাকার সময় যেসব অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুমোদিত হয়েছিল, সেগুলো সীমিত পরিসরে চলমান রয়েছে। তবে নতুন কোনো অনুসন্ধান বা মামলা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না।

দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিশন না থাকায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া যাচ্ছে না। এতে অভিযুক্তদের আত্মগোপন বা দেশত্যাগের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

নিয়মানুযায়ী এখন নতুন কমিশন গঠন করতে হলে তা করতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারের করা দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী। এ ক্ষেত্রে পুরোনো আইনের তিন সদস্যের কমিশনের বদলে গঠন করতে হবে পাঁচ সদস্যের কমিশন।

সংশোধিত অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কমিশনের পাঁচ সদস্যের অন্তত একজন নারী এবং একজন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে অভিজ্ঞ হবেন। পাঁচ কমিশনারের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কমিশনার নিয়োগের জন্য সাত সদস্যের একটি বাছাই কমিটি থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এ কমিটির সভাপতি হবেন। সদস্য হিসেবে থাকবেন হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান, সংসদের সরকার ও বিরোধী দলের একজন করে সদস্য এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ বা সুশাসন বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন নাগরিক।

এ বিষয়ে দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মঈদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সংশোধিত নতুন অধ্যাদেশে কমিশন গঠনে কোনো বাধা নেই। তবে সংসদ যদি মনে করে, এটি (সংশোধিত অধ্যাদেশটি) রাখবে তখন সেটি রাখতে পারবে, যদি সংসদ এটি বাতিল করতে চায় সে ক্ষেত্রে অধ্যাদেশটি সংসদ বাতিল করতে পারবে। সংসদ অধিবেশন শুরুর দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে অধ্যাদেশটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তাহলে দুদক দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এ ফিরে যাবে।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে জয়লাভ করে বিএনপি। দলটি সরকার গঠনের পরপরই পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ দেওয়া ড. মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। নতুন কমিশন কি দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী হবে, নাকি আগের দুদক আইন ২০০৪ অনুসারে গঠন করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ড. আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান

হিসেবে নিয়োগ দেয়। একই সময়ে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সাবেক জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদকে। পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া এই কমিশন নিজেদের মেয়াদের মাত্র এক বছর দুই মাস দায়িত্ব পালন শেষে ৩ মার্চ পদত্যাগ করে।

দুর্নীতি ও সুশাসন বিষয়ে কাজ করা সংগঠন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘মোমেন কমিশনের বিদায়ের ফলে দুদকে যে শূন‍্যতা ও স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তার উত্তরণে অবিলম্বে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত অধ‍্যাদেশ, নাকি তার আগের বিদ‍্যমান আইন অনুসরণ করা হবে, তা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। যেভাবেই হোক, সরকার অবশ্যই চাইবে নিজেদের পছন্দের ব‍্যক্তিদের নিয়োগ দিতে, যেমনটি এখন পর্যন্ত ঘটেছে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব ক্ষেত্রে।’

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘নিয়োগ যা-ই হোক, অন্তত সরকারসংশ্লিষ্ট মহলের দুর্নীতির সহায়ক ও সুরক্ষাকারী এবং সরকারের প্রতিপক্ষ বা বিরাগভাজনদের হয়রানির ভূমিকা পালনে দুদকের যে অতীত রেকর্ড তা যেন আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। এতটুকু আশা এজন্য করা যায় যে, সরকারি দলের ৩১ দফা, নির্বাচনী অঙ্গীকার ও জুলাই সনদের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে পদদলিত করার মতো আত্মঘাতী অবস্থান গ্রহণের ক্ষেত্রে হয়তো সরকার কিছুটা সংযত হতে পারে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আটক ৩ ট্যাংকার ফেরত দিলে ভারতকে হরমুজে যাতায়াতের সুযোগে দেবে ইরান

এনসিপি নেতারা গণভোট নিয়ে অর্ধেক বুঝেছেন: আইনমন্ত্রী

কফি পানের ভিডিওটিও এআই দিয়ে তৈরি, নেতানিয়াহু কি তবে মারা গেছেন

ইসরায়েলে শব্দের ১২ গুণ গতির ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ নিক্ষেপ ইরানের, বৈশিষ্ট্য কী

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, ইউজিসিতে নতুন চেয়ারম্যান

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত