
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেছেন, দেশে শিশু ও নারী সুরক্ষায় অসংখ্য আইন থাকলেও বাস্তবায়নের দুর্বলতা, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এবং সমন্বয়হীনতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ‘যত আইন, তত ফাঁকফোকর’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ সব কথা বলেন। ‘নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেল’ এই বৈঠকের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যারা আইন পেশার সঙ্গে জড়িত, তারা জানি দেশে কত আইন রয়েছে। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ পেরোতে গিয়ে অনেক সময় মামলার কার্যকারিতা কমে যায়। আপিল পর্যায়ে যেতে যেতে অনেক মামলা দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। সমাজ ও অপরাধের ধরন পরিবর্তিত হলেও আইন ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থাকে সেই গতিতে পরিবর্তন করা যায়নি।’
ফারজানা শারমীন বলেন, ‘শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের দায় শুধু রাষ্ট্রের নয়, পরিবার ও সমাজেরও। একজন ধর্ষক জন্মগতভাবে অপরাধী হয়ে জন্মায় না; পরিবার, সামাজিক পরিবেশ এবং মূল্যবোধের সংকটের মধ্য দিয়ে তার অপরাধপ্রবণতা তৈরি হয়।’
শিশুদের ছোটবেলা থেকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ফারজানা শারমীন বলেন, ‘পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত একটি শিশুর মানসিক ভিত্তি তৈরি হয়। এই সময়ে পরিবার যে শিক্ষা ও মূল্যবোধ দেয়, সেটিই ভবিষ্যতে তার চরিত্র গঠনে প্রভাব ফেলে। সরকার অপরাধীর বিচার করতে পারে, কিন্তু সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব পরিবারকেই নিতে হবে। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হলে তবেই শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। শুধু সরকারের উদ্যোগে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রতিটি পরিবার, আবাসিক এলাকা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মানে শুধু মন্ত্রী বা প্রশাসন নয়, সরকার মানে আমরা সবাই। অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ এবং রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও সচেতনতার অভাবে অনেক মানুষ সেসব সেবার সুবিধা নিতে পারেন না। শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সেবার মাধ্যমে শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, কাউন্সেলিং ও মানসিক সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক মানুষ এখনো এ বিষয়ে অবগত নন।’
তিনি আরও জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দেশব্যাপী একটি সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় আইন, আইনি সহায়তা এবং নাগরিক অধিকার সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।
গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম। আলোচনায় আরও অংশ নেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নাহরীন আই খান, ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, অধ্যাপক ফিরোজা বেগম, ডা. মো. নিজাম উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুদ্দীন আবেদ উজ্জ্বলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা।

কমিশন নয়, গুমের অভিযোগ তদন্ত করবে পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের তদন্তও করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়ায় এমন বিধান রাখা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় এই খসড়া করেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সদস্যরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের বাইরে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা।
৬ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পৃথক দুটি জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো. সাইফুল ইসলামের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
৮ ঘণ্টা আগে
জাতীয় সংসদে অর্থ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত ১০ জন করে সদস্য নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন বিজেপির চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪...
৮ ঘণ্টা আগে