Ajker Patrika

টিআইবি ও ডিআরডব্লিউর সংবাদ সম্মেলন

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার দাবি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার দাবি
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ছবি: আজকের পত্রিকা

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, অংশগ্রহণ ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার চেয়েছে ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ (ডিআরডব্লিউ)। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও ডিস্যাবিলিটি রাইটস ওয়াচ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিআরডব্লিউ এসব প্রত্যাশা তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআরডব্লিউর পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় কিছু আইন, নীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতি সমর্থন থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতির কারণে তাঁরা প্রতিনিয়ত বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এ প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর স্পষ্ট অঙ্গীকার জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, ডিআরডব্লিউর সভাপতি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, সদস্যসচিব খন্দকার জহুরুল আলম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিবন্ধী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডা. নাফিসুর রহমান, সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও, অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মহুয়া পাল, তরুণ অ্যাকটিভিস্ট মো. আবদুল্লাহ এবং টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ। সে হিসাবে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা ২ কোটির বেশি হওয়ার কথা। এত বড় জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন বক্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ডিআরডব্লিউ জানায়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘ সনদ (সিআরপিডি) বাংলাদেশ ২০০৭ সালে অনুসমর্থন করলেও এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১৩ ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ নেই এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটিগুলো নিয়মিত সভা করছে না। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনে জটিলতা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা কার্যকর করা, মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা, কমিটিগুলোর সভা নিয়মিতভাবে আয়োজন করা এবং সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য কমপক্ষে ২ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, জাতিসংঘ সনদ বাস্তবায়ন ও প্রতিবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাঁরা আন্তর্জাতিক কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন, জাতীয় পরিবীক্ষণ কমিটিকে কার্যকর করা এবং বকেয়া প্রতিবেদনগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য ও অংশগ্রহণ উপেক্ষিত বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, প্রবেশগম্যতার সংকট দূর করা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে মর্যাদাসম্পন্ন পর্যায়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের এ যৌক্তিক প্রত্যাশাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেবে।

নির্বাচন কমিশনের কাছে করা দাবিতে বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশগম্যতা, সহায়ক ব্যবহারের সুযোগসহ বিদ্যমান সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সবাইকে জানাতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত