
ডিজিটাল ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম অ্যাগোডা তাদের ‘২০২৬ ট্রাভেল আউটলুক রিপোর্ট’-এ এশিয়ার ভোজনরসিক পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এশিয়ার ভোজনরসিক পর্যটকদের কাছে ভ্রমণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠছে স্থানীয় খাবার ও খাদ্যসংস্কৃতি।
ভ্রমণে বড় পরিবর্তন
অ্যাগোডা প্রকাশিত তালিকাটি পর্যটনশিল্পের একটি বিশেষ বিবর্তন তুলে ধরেছে। এ তালিকার প্রথমেই রয়েছে তাইওয়ান। তাইওয়ানের রন্ধনশৈলী ভালোবেসে দেশটিকে ভোট দিয়েছে ৪৭ শতাংশ মানুষ। ৩৫ ও ৩৪ শতাংশ ভোট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ কোরিয়া। অনলাইনে ভোটদাতারা নিজেদের ভ্রমণের সময় দেশ দুটির বৈচিত্র্যময় ও সুস্বাদু খাবারের প্রতি তাদের গভীর অনুরাগের কথা জানিয়েছেন। ৩৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ভোজনরসিকদের পছন্দের ৪ নম্বর তালিকায় রয়েছে মালয়েশিয়া আর ৫ নম্বরে রয়েছে জাপান। দেশটি ভোট পেয়েছে জরিপে অংশ নেওয়া ৩২ শতাংশ ভোজনরসিকের। ইন্দোনেশিয়া ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে আছে ৬ নম্বরে, থাইল্যান্ড ২০ শতাংশ ভোট পেয়ে আছে ৭ নম্বরে এবং ভারত ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জায়গা পেয়েছে তালিকার শীর্ষ আটে।
অবশ্য পর্যটকেরা এখন কেবল খাবার খেতে চান না। তাঁরা স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে চান, অংশ নিতে চান ফুড ট্যুর বা হাতে-কলমে শিখতে চান নতুন রান্না।

তাইওয়ানে খাবারের খোঁজে
তাইওয়ানের রাত মানেই খাবারের উৎসব। নাইট মার্কেটগুলোতে সস্তায় সুস্বাদু সব খাবার পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত স্টিঙ্কি টোফু, ঝিনুকের অমলেট, তুলতুলে ভাজা চিকেন এবং বিভিন্ন টপিংসহ বরফ দিয়ে তৈরি বিশেষ ডেজার্ট শেভড আইস। তাইওয়ানের ১৬টি স্বীকৃত আদিবাসী গোষ্ঠীর নিজস্ব রন্ধনশৈলী রয়েছে। বনজ শাকসবজি, সামুদ্রিক খাবার এবং শিকার করা বুনো পশু তাদের খাবারের মূল উৎস। বিফ নুডল স্যুপ তাইওয়ানের জাতীয় খাবার হিসেবে পরিচিত। এতে থাকে সেদ্ধ গরুর মাংস, নরম নুডলস এবং মসলাদার ব্রোথ। চীনের গৃহযুদ্ধ শেষে আসা সৈনিকেরা তাদের অঞ্চলের রেসিপি থেকে এটি তৈরি করেছিল। এই জনপ্রিয় খাবারটিকে কেন্দ্র করে তাইয়ানে প্রতিবছর বিশেষ উৎসব পালিত হয়।

ভিয়েতনামের খাবারের বৈশিষ্ট্য
ভিয়েতনামের রন্ধনশৈলী মূলত চীন এবং থাইল্যান্ডের স্বাদের এক অনন্য মিশ্রণ। এখানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মসলাদার আমেজ এবং চীনের ফ্রেশ ফ্লেভারের সমন্বয় দেখা যায়। পাশাপাশি ৬০ বছরের ফরাসি শাসনের প্রভাবও খাবারে স্পষ্ট। ভিয়েতনামের জাতীয় খাবার ফো। এটি মূলত চালের নুডলস, ভেষজ এবং গরু বা মুরগির মাংসের ব্রোথ দিয়ে তৈরি। চালের গুঁড়া দিয়ে তৈরি মুচমুচে প্যানকেক বান জেও এবং ভাপে তৈরি রাইস কেক বান বেও পর্যটকদের প্রিয়। ভিয়েতনামে বিভিন্ন ধরনের স্প্রিং রোল পাওয়া যায়; ভাজা হলে সেগুলোকে বলা হয় নেম রান আর কাঁচা বা নরম হলে গোই কুওন। দেশটির ২ হাজার ২৬ মাইল দীর্ঘ উপকূলরেখা থাকায় এখানে টুনা, লাল স্ন্যাপার, কাঁকড়া এবং শামুকের হরেক পদের খাবার পাওয়া যায়। তবে বৌদ্ধধর্মের প্রাধান্য থাকায় মন্দিরগুলোর আশপাশে প্রচুর নিরামিষাশী বা কম চাই রেস্তোরাঁ পাওয়া যায়, যেখানে সয়াবিন বা টফু দিয়ে তৈরি সুস্বাদু খাবার মেলে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় কী খাবেন
ঝাল স্বাদ, গাঁজন প্রক্রিয়া এবং পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়ার সংস্কৃতিই কোরিয়ান খাবারের মূল বৈশিষ্ট্য। ভাতের ওপর বিভিন্ন রঙের সবজি, মাংস, ডিম এবং লাল মরিচের পেস্ট বা গোচুজাং দিয়ে তৈরি স্বাস্থ্যকর এক বাটি বিবিমবাপ পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করে কোরিয়ায়। এ ছাড়া দেশটিতে পাওয়া যায় কিমচি। লবণাক্ত ও মসলাদার এ ফারমেন্টেড বাঁধাকপি বা মুলা প্রতিটি খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। এর থেকে তৈরি কিমচি-জিগে স্টু অত্যন্ত জনপ্রিয়। সামগ্যেতাং একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন গরম স্যুপ। বৃষ্টির দিনে কোরিয়ানরা চালের তৈরি ঐতিহ্যবাহী পানীয় মাকগোলি এবং পেঁয়াজের প্যানকেক পাজন খেতে পছন্দ করেন। ঝাল ও মিষ্টি সসে রান্না করা চিবানোর মতো নরম রাইস কেক তোকবোকি দেশটির অন্যতম সুস্বাদু খাবার। সিউলের তোকবোকি টাউন এই খাবারের জন্য বিখ্যাত। কোরিয়ান খাবারে সবজির আধিক্য থাকলেও অনেক সময় তাতে শুঁটকি মাছের সস বা মাংসের স্টক ব্যবহার করা হয়।
সূত্র: অ্যাগোডা, লোনলি প্ল্যানেট

বর্তমানে আঁশ বা ফাইবার বলতেই আমাদের মাথায় প্রথমে আসে ওটমিলের নাম। প্রতি কাপ ওটমিলে প্রায় ৪ গ্রাম আঁশ থাকে। তবে ওটমিলই একমাত্র আঁশের উৎস নয়। এমন অনেক সাধারণ খাবার আছে, যা ফাইবার বা আঁশের দিক থেকে ওটমিলকেও ছাড়িয়ে যায়। তাই যাঁরা ওটমিল খেতে পারেন না, তাঁদের জন্য এ খাবারগুলো সম্পর্কে জানা বেশি জরুরি।
৮ ঘণ্টা আগে
সচরাচর আমরা ভদ্রতার সমার্থক শব্দ হিসেবে ‘দয়ালু’ বা ‘উদার’ শব্দ দুটি ব্যবহার করি। সমাজ আমাদের অনেক কিছুই শেখায়। অনেক নিয়মের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা মনে করি, কাউকে ‘ধন্যবাদ’ বলা বা কেউ বিপদ পড়লে তাকে ‘শুনে খুব খারাপ লাগল’ বলাটাই ভালো মানুষের লক্ষণ।
৯ ঘণ্টা আগে
পথে আসতে-যেতে পেয়ারা চোখে পড়ছে এখন। প্রায়ই হয়তো ফেরার পথে কিনে নিয়ে আসেন বাড়িতে। এবার তৈরি করে ফেলুন পেয়ারার টক-মিষ্টি চাটনি। আপনাদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন আলিফ’স ডেলিকেট ডিশেজের শেফ আলিফ রিফাত...
১৩ ঘণ্টা আগে
চৈত্রের প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন এর বড় প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকের ওপর। প্রচণ্ড গরম, অতিরিক্ত ঘাম, ধুলাবালু আর কড়া রোদ—সব মিলিয়ে ত্বক হয়ে পড়ে নির্জীব ও কালচে। তৈলাক্ত ত্বকে বাড়ে ব্রণের উপদ্রব, আর শুষ্ক ত্বক হয়ে যায় অনেক বেশি রুক্ষ। এ সময় আপনার ত্বকই আপনার সঙ্গে কথা বলবে, যদি আপনি...
১৫ ঘণ্টা আগে