Ajker Patrika

ইফতারিতে ইরানিরা যেসব মিষ্টিজাতীয় খাবার খান

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৩: ৩০
ইফতারিতে ইরানিরা যেসব মিষ্টিজাতীয় খাবার খান
ইরানের খাবার শোলে জর্দ। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান ইরানের সংস্কৃতি পারস্যের হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য এবং ইসলামি মূল্যবোধের এক অপূর্ব মিশ্রণ। ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী সভ্যতা হিসেবে পরিচিত। সংস্কৃতির অন্যান্য অনুষঙ্গের মতো দেশটির খাদ্যসংস্কৃতিও ভীষণ সমৃদ্ধ।

রমজান মাসে, ইরানিরা ইফতারিতে কোনো না কোনো মিষ্টিজাতীয় খাবার রাখেন। নির্দিষ্ট ধরনের মিষ্টি, কুকিজ এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরি করতে তারা বড্ড ভালোবাসে। ইরানের অধিবাসীরা এককথায় মিষ্টিপ্রিয়। যেখানে যাবেন, সেখানেই তাদের পেস্ট্রি এবং মিষ্টির প্রতি ভালোবাসা চোখে পড়বে। ইরানিরা জিলাপি, বেমিয়েহ্, রেশতে খোশকার, রঙিনাক, শোলে জর্দ, ফিরনি এবং আরও অনেক মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরি করে ইফতারে শামিল করে। এসব খাবারের কিছু আঞ্চলিক, আবার বাদবাকি সব পুরো দেশে প্রচলিত।

ইফতারিতে এত বৈচিত্র্যপূর্ণ মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরির মূল কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে কিছু না খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় এবং এ ধরনের খাবার খাওয়ার চাহিদা তৈরি হয়।

চলুন, দেখে নেওয়া যাক ইরানিদের বিখ্যাত সব মিষ্টান্ন এবং মিষ্টিজাতীয় খাবার। চাইলে এক দিন ইফতারে আপনারাও তৈরি করে নিতে পারেন একেবারে ঘরেই।

জিলাপি ও বেমিয়েহ্। ছবি: সংগৃহীত
জিলাপি ও বেমিয়েহ্। ছবি: সংগৃহীত

জিলাপি ও বেমিয়েহ্

সম্ভবত রমজানের সবচেয়ে বিখ্যাত মিষ্টি জিলাপি ও বেমিয়েহ্। জিলাপিগুলো ভাজার পর গোলাপজল দিয়ে তৈরি মিষ্টি সিরায় ডুবিয়ে তোলা হয়। মুচমুচে থাকতেই ইফতারে তা খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এই জিলাপির সঙ্গে খাওয়া হয় বেমিয়েহ্। ডিম, ময়দা, মাখন ও পানি দিয়ে তৈরি ডো কেটে ছোট ছোট গোল আকার করে তেলে সোনালি করে ভাজা হয়। তারপর জাফরান, লেবুর রস ও গোলাপজলে তৈরি মিষ্টি সিরায় ডুবিয়ে জিলাপি ও চায়ের সঙ্গে খাওয়া হয়।

শোলেহ জর্দ

এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ইরানি খাবারটি আসলে ভাত, চিনি ও জাফরানের মিশ্রণ। ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মহররম বা রমজানের মতো পবিত্র মাসে এই খাবার খুবই জনপ্রিয়। শোলে জর্দ তৈরি করতে প্রায় ৬ ঘণ্টা সময় লাগে এবং পরিবেশনের আগে সাধারণত বাদাম, পেস্তা ও দারুচিনি ছড়িয়ে দেওয়া হয় তার ওপর। ক্ষীর ও শির বিরিঞ্জের মতো ঐতিহ্যবাহী রাইস পুডিংয়ের মতো পারস্যের এই জাফরান রাইস পুডিংয়ে কোনো দুধ বা ক্রিম থাকে না। তবে তা সত্ত্বেও শোলেহ জর্দ অনেকট ক্রিমি থাকে। কারণ, ভাত ভেঙে না যাওয়া এবং থিকথিকে না হওয়া পর্যন্ত রান্না করা হয়। অল্প পরিমাণে মাখন ব্যবহারে ক্রিমি ভাব আরও জমে ওঠে। বিশেষ ধরনের সুগন্ধি চাল ভেঙে যাওয়া পর্যন্ত রান্না করে চিনি, জাফরান, মাখন এবং এলাচি যোগ করা হয়। এরপর ঠান্ডা করে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়।

ফিরনি

এটি একটি ঐতিহ্যবাহী পুডিং ডেজার্ট, যা ঠান্ডা ও গরম উভয়ভাবে পরিবেশন করা যেতে পারে। এটি সাধারণত দুধে চালের গুঁড়া ফুটিয়ে তৈরি করা হয়। তারপর এটিকে মিষ্টি করতে গোলাপজল ও চিনি যোগ করা হয়। পরিবেশনের আগে সাধারণত ওপরে পেস্তাকুচি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ইরানি ফিরনি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি ফিরনি। ছবি: সংগৃহীত

হালুয়া

সবচেয়ে জনপ্রিয় ইরানি মিষ্টি খাবারগুলোর মধ্যে একটি এটি। এই খাবার ইফতারি থেকে শুরু করে শোক দিবসেও খাওয়া হয়। এই সুস্বাদু মিষ্টি ভাজা সুজি দিয়ে তৈরি করা হয়। এতে আরও যোগ করা হয় বাদামকুচি, পেস্তা বা নারকেলের গুঁড়া।

রেশতেহ খোশকার

রেশতেহ খোশকার। ছবি: সংগৃহীত
রেশতেহ খোশকার। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ গিলানের জনপ্রিয় কুকি হলো রেশতেহ খোশকার। এটি ভাজা চালের গুঁড়া পেস্ট করে তৈরি করা হয়। এর সঙ্গে থাকে বাদামের মিশ্রণ। ইরানের অন্যান্য শহরে, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় অংশে, এটি সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া এটি তৈরির প্রক্রিয়া এত বিশেষ যে দেখার মতো। এতে ব্যবহার করা হয় চিনি, আখরোট, এলাচি, দারুচিনি, চালের গুঁড়া, লবণ, পানি ও তেল। চালের গুঁড়া দিয়ে ডো তৈরি করে তার ভেতরে আখরোটের মিষ্টি পুর ভরা হয়। তারপর পাটির মতো পেঁচিয়ে তেল বা মাখনে ভাজা হয়। সবশেষে লেবুর রস, গোলাপজল, জাফরান ও চিনির সিরায় ডুবিয়ে তোলা হয়।

সূত্র: সারফিরান, লিনসফুড ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত