
মানুষের ব্যক্তিত্বের অন্যতম অংশ হলো সুগন্ধি। কিন্তু অনেক সময় নিয়ম করে সুগন্ধি ব্যবহারের পরও অজান্তেই শরীর থেকে একধরনের দুর্গন্ধ বের হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমরা যা খাই, তার সরাসরি প্রভাব আমাদের ঘাম ও নিশ্বাসে থাকে। কিছু খাবার হজম হওয়ার প্রক্রিয়ায় এমন কিছু রাসায়নিক তৈরি করে, যা রক্তে মিশে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে এবং শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
কিছু খাবার হজম ও মেটাবলিজম প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বাই-প্রোডাক্ট (যেমন সালফার বা অ্যামোনিয়া) তৈরি হয়, যা রক্তে মিশে নিশ্বাস এবং ঘামের মাধ্যমে বের হয়ে শরীরে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। ড. তাহরিয়াত আহমেদ শরীফ, সহকারী রেজিস্ট্রার, মেডিসিন বিভাগ, ঢাকা কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল
কেন হয়
খাবার খাওয়ার পর শরীর থেকে দুর্গন্ধ হওয়ার পেছনে রয়েছে এক চমকপ্রদ বিজ্ঞান। যখন কোনো খাবার খাই, তা বিপাক বা মেটাবলিজম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে রক্তে মিশে যায়। পেঁয়াজ, রসুন বা লাল মাংসের মতো খাবারে সালফার কিংবা বিশেষ অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো কিছু উপাদান থাকে, যা পুরোপুরি হজম হয় না। এই উপাদানগুলো রক্তে মিশে আমাদের ঘামগ্রন্থি ও ফুসফুসে পৌঁছে যায়। ফলে যখন ঘাম নির্গত হয় কিংবা আমরা নিশ্বাস ফেলি, তখন সেই খাবারের গন্ধও বাইরে বেরিয়ে আসে। এ ছাড়া ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া যখন এই ঘামের সঙ্গে মিশে বিক্রিয়া করে, তখনই মূলত শরীরের সেই অস্বস্তিকর কটু গন্ধ তৈরি হয়। ড. তাহরিয়াত আহমেদ শরীফ বলেন, ‘লাল মাংস এবং ব্রকলিতে থাকা সালফার ও প্রোটিন হজমের সময় দুর্গন্ধ তৈরি করে। অন্যদিকে ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহল ঘামের উৎপাদন ও ঘনত্ব বাড়িয়ে গন্ধ আরও তীব্র করে তোলে। তাই এসব খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
যেসব খাবারে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হয়
পরিচিত কিছু খাবার আমাদের অজান্তেই শরীরের স্বাভাবিক গন্ধ বদলে দেয়। সেসব খাবারের মধ্যে আছে—
পেঁয়াজ ও রসুন: শরীরে দুর্গন্ধ তৈরির তালিকায় এই দুই খাদ্য উপাদান শীর্ষে রয়েছে। রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামক সালফার রক্তে মিশে ফুসফুস ও ঘামগ্রন্থির মাধ্যমে নির্গত হয়। ফলে নিশ্বাস ও ঘামে তীব্র গন্ধ তৈরি হয়।
রেড মিট: গবেষণা বলছে, যারা নিয়মিত গরু বা খাসির মাংসের মতো রেড মিট খায়, তাদের ঘামের গন্ধ নিরামিষাশীদের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র হয়। মাংসের প্রোটিন ভাঙার সময় শরীরে যে অ্যামিনো অ্যাসিড নিঃসৃত হয়, তা দুর্গন্ধের মূল কারণ।
ক্রুসিফেরাস সবজি: বাঁধাকপি, ফুলকপি কিংবা ব্রকলি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হলেও এগুলোতে প্রচুর সালফার থাকে। ফলে এগুলো হজমের সময় শরীরে একধরনের গ্যাস তৈরি হয়, যা ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে আসে এবং দুর্গন্ধ হয়।
অতিরিক্ত মসলা ও ক্যাফেইন: কড়া মসলাযুক্ত খাবার এবং অতিরিক্ত কফি পানের অভ্যাস শরীর উদ্দীপ্ত করে তোলে। ফলে প্রচুর ঘাম হয়।
যা এড়িয়ে চলবেন
শরীরের দুর্গন্ধ এড়িয়ে চলতে শুধু পারফিউম মাখলেই চলবে না, আনতে হবে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন। কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন সব সময় এড়িয়ে চলুন। এ ছাড়া প্রক্রিয়াজাত ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা প্রিজারভেটিভসও শরীরের প্রাকৃতিক গন্ধ নষ্ট করে দেয়। অ্যালকোহল বা ধূমপান নিশ্বাসের পাশাপাশি ঘামেও বিশ্রী গন্ধ তৈরি করে, তাই এগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। ড. তাহরিয়াত আহমেদ শরীফ জানান, মসলা ও লাল মাংস কমিয়ে আঁশযুক্ত খাবার এবং দইয়ের মতো প্রোবায়োটিকস খাওয়া উচিত। এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ ধুয়ে যায় বলে ঘামের গন্ধ অনেক কমে আসে।
যেসব খাবার খেলে শরীরে দুর্গন্ধ হবে না
বেশ কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো শরীর ডিটক্স করে এবং দুর্গন্ধ দূর হয়। ড. তাহরিয়াত আহমেদ শরীফ জানান, লেবুপানি, গ্রিন টি এবং পুদিনাপাতা শরীরের ভেতর থেকে ডিটক্স করে এবং পিএইচের ভারসাম্য বজায় রেখে প্রাকৃতিকভাবে শরীরের কটু গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।
শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে যেসব খাবার খেতে পারেন—
টক দই: দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিকস শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করে হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করে। এতে ঘামে দুর্গন্ধ কমে আসে।
লেবু ও সাইট্রাস ফল: কমলা, মাল্টা বা লেবুর রস শরীর ডিটক্স করে। সাইট্রাস ফলের প্রাকৃতিক সুবাস শরীরের গন্ধে সতেজ ভাব নিয়ে আসে।
সবুজ শাকসবজি: পালংশাক বা পুদিনাপাতা শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে; বিশেষ করে পুদিনা বা ধনেপাতা চিবিয়ে খেলে নিশ্বাসের গন্ধ নিমেষে দূর হয়ে যায়।
পর্যাপ্ত পানি: পানি পর্যাপ্ত পান করলে শরীরের বিষাক্ত উপাদান প্রস্রাব ও ঘামের মাধ্যমে হালকা হয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে ঘামের ঘনত্ব ও গন্ধ কমে আসে।
শরীরের দুর্গন্ধ শুধু একটি শারীরিক সমস্যা নয়, এটি আত্মবিশ্বাসও কমিয়ে দেয়। তাই খাবারের দিকে একটু সচেতন নজর দিন, যাতে কোনো কৃত্রিম সুগন্ধি ছাড়াই নিজেকে রাখতে পারেন সতেজ ও প্রাণবন্ত।

বয়স চল্লিশের কোটা পার হতেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। বলিরেখা, চোখের নিচে কালো ছোপ কিংবা ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া— এসবই বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে বেশি যে সমস্যা ভোগায়, তা হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও খসখসে ভাব। শুধু দামি ক্রিম মেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, বয়স...
১০ ঘণ্টা আগে
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বয়স বাড়বে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রকৃত বয়সের তুলনায় শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যায় অনেক আগে। একেই বলা হয় অকালবার্ধক্য। শরীরের স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াগুলো সময়ের আগে দৃশ্যমান হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বার্ধক্য অনিবার্য হলেও...
১১ ঘণ্টা আগে
ইফতারে তেলে ভাজা বা বেশি মসলায় রান্না করা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। স্বাস্থ্যকর ইফতারিতে কী রাখা যায়, তাই ভাবছেন কি? অত চিন্তা না করে রাখতে পারেন রঙিন ফলের সালাদ। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। এই রেসিপি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি সুস্বাদু...
১৬ ঘণ্টা আগে
সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক...
১৮ ঘণ্টা আগে