আলিঙ্গন দিবস

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিয় মানুষকে আলিঙ্গন করলে, এমনকি পোষা প্রাণী বা টেডি বিয়ারকে জড়িয়ে ধরলেও শরীর এবং মন ভালো থাকে। আলিঙ্গনের ফলে হৃৎস্বাস্থ্য ভালো থাকে ও মানসিক চাপ কমে। বিশেষ করে, আলিঙ্গন রোগপ্রতিরো ধক্ষমতা বাড়ায়, মানসিক চাপ সৃষ্টির হরমোন কর্টিসলের পরিমাণ কমায় এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন প্রিয়জনকে সমর্থন দেওয়ার স্নায়বিক সম্পর্কের ওপর একটি গবেষণা চালিয়েছিল। ২০ দম্পতির ওপর চলে গবেষণাটি। এ সময় তাঁদের বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়। দেখা যায়, শক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যেক নারী তাঁর সঙ্গীর হাত চেপে ধরেন। গবেষকেরা এ সময় দেখতে পান, প্রত্যেক নারীর মস্তিষ্কে মানসিক চাপ-সংক্রান্ত কার্যকলাপ কমে গিয়ে মাতৃসুলভ আচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যখন আমরা কাউকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য আলিঙ্গন করি, তখন আমাদের মস্তিষ্কেও একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া আমেরিকান ইনডিপেনডেন্ট একাডেমিক পাবলিশিং কোম্পানি প্রকাশিত ‘সেজ’ জার্নাল চার শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর একটি গবেষণা চালায়। গবেষকেরা সেখানে দেখেন, আলিঙ্গন কোনো ব্যক্তির অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা কমাতে পারে। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যাঁরা বেশি আলিঙ্গন পেয়েছেন, তাঁদের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা কম ছিল।
ভালোবাসার মানুষটিকে জড়িয়ে ধরলে একধরনের মানসিক প্রশান্তি মেলে, এটা তো জানা গেল। কিন্তু মাত্র ১০ সেকেন্ডের একটি আলিঙ্গন আপনার শরীরের ওপর ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, তা জেনে নিন আজকের এই আলিঙ্গন দিবসে।

অক্সিটোসিনের জাদু
আলিঙ্গন করার সময় আমাদের মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যাকে ‘লাভ হরমোন’ও বলা হয়। এই হরমোন শরীরে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। তাই যখনই কাজের চাপ বা পারিবারিক কোনো দুশ্চিন্তা আপনাকে ঘিরে ধরবে তখন প্রিয়জনকে একটি আলিঙ্গন করে দেখুন। এটি মুহূর্তেই স্নায়ুর উত্তেজনা কমিয়ে মন শান্ত করে।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমিয়ে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
সুস্থ হৃৎপিণ্ডের জন্য আমরা সাধারণত ব্যায়াম বা ডায়েটের কথা চিন্তা করি। কিন্তু নিয়মিত আলিঙ্গনও আপনার হৃৎপিণ্ডের গতি স্বাভাবিক রাখতে দারুণ কার্যকর। নিয়মিত আলিঙ্গন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। শরীরের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এর জুড়ি নেই।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
আলিঙ্গন শরীরে ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে। এ ইনফ্লামেশন থেকেই ক্যানসার, ডায়াবেটিস বা আর্থ্রইটিসের মতো রোগের সূত্রপাত হয়। যাঁরা নিয়মিত প্রিয়জনদের সাহচর্যে থাকেন এবং আলিঙ্গন করেন, তাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। এমনকি সাধারণ সর্দি-কাশির সময় আলিঙ্গন করলে সেগুলোর উপসর্গ ততটা তীব্র হয় না এবং দ্রুত সুস্থতা মেলে।
ভয় দূর ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি
একাকিত্ব মানুষকে অনেক সময় গ্রাস করে ফেলে। এ রকম সময় একটি আলিঙ্গন মানুষের অবচেতন মনের ভয় অনেকটাই কমিয়ে দেয়। এমনকি কোনো মানুষের অবর্তমানে একটি প্রিয় খেলনা বা টেডি বিয়ার জড়িয়ে ধরলেও মস্তিষ্ক অনেকটা নিরাপদ অনুভব করে। এটি আত্মসম্মান বোধ বা সেলফ-এস্টিম বাড়াতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে।
শৈশবে প্রভাব ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ
শৈশবে যেসব শিশু পর্যাপ্ত শারীরিক স্নেহ ও আলিঙ্গন পেয়ে বড় হয়, তাদের মস্তিষ্কের গঠন ও মানসিক বিকাশ অন্যদের চেয়ে দ্রুত হয়। পর্যাপ্ত আলিঙ্গন পাওয়া শিশুরা ভবিষ্যতে মানসিকভাবে অনেক বেশি স্থিতিশীল এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তারা বড় হয়ে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি আরও সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।
আলিঙ্গনের তো আর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, এটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাওয়া এক জাদুকরী দাওয়াই। তাই প্রতিদিনের যান্ত্রিকতার মধ্যে অন্তত ১০ সেকেন্ডের জন্য হলেও প্রিয়জনকে জড়িয়ে ধরুন। এটি কেবল সম্পর্ককেই মজবুত করবে না; বরং আপনাকে দেবে দীর্ঘায়ু ও প্রাণবন্ত এক জীবন।
সূত্র: হেলথলাইন, সাইকোলজি টুডে ও অন্যান্য

বয়স চল্লিশের কোটা পার হতেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। বলিরেখা, চোখের নিচে কালো ছোপ কিংবা ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া— এসবই বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে বেশি যে সমস্যা ভোগায়, তা হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও খসখসে ভাব। শুধু দামি ক্রিম মেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, বয়স...
১০ ঘণ্টা আগে
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বয়স বাড়বে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রকৃত বয়সের তুলনায় শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যায় অনেক আগে। একেই বলা হয় অকালবার্ধক্য। শরীরের স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াগুলো সময়ের আগে দৃশ্যমান হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বার্ধক্য অনিবার্য হলেও...
১১ ঘণ্টা আগে
ইফতারে তেলে ভাজা বা বেশি মসলায় রান্না করা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। স্বাস্থ্যকর ইফতারিতে কী রাখা যায়, তাই ভাবছেন কি? অত চিন্তা না করে রাখতে পারেন রঙিন ফলের সালাদ। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। এই রেসিপি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি সুস্বাদু...
১৬ ঘণ্টা আগে
সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক...
১৮ ঘণ্টা আগে