
ডেঙ্গু ভাইরাসবাহিত রোগ। এটি ছড়ায় সংক্রমিত এডিস মশার মাধ্যমে। প্রতিবছর পৃথিবীতে ১০০-৪০০ মিলিয়ন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। এখন বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ ঝুঁকির মধ্যে আছে। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি এডিস মশাকে আকর্ষণ করে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা খুব জরুরি। পাশাপাশি এমন কিছু গাছ আছে, যেগুলো স্বাভাবিকভাবেই মশা দূরে রাখে।
হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি ভাব, র্যাশ, দুর্বলতা—এগুলো ডেঙ্গুর উপসর্গ। এই উপসর্গ ২ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
মশা থেকে দূরে থাকার বা মশা দমনের বিভিন্ন উপায় আছে। তবে এমন কিছু গাছ রয়েছে, যেগুলো প্রাকৃতিকভাবে আপনার বাসার মশা দূর করতে সাহায্য করবে।

পুদিনা
পুদিনার মেন্থলযুক্ত গন্ধ মশা অপছন্দ করে। এই পাতার রস চেপে ত্বকে লাগানো যেতে পারে। তবে অ্যালার্জি আছে কি না তা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। পুদিনার গন্ধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, তাই এটি টবে লাগানো ভালো। এটি ঘর সতেজ করে এবং চা-শরবত ইত্যাদি পানীয় তৈরি ও বিভিন্ন খাবার রান্নায় এটি ব্যবহার করা যায়।
তুলসী
তুলসীর ইউজিনল ও এস্ট্রাগোল নামের উপাদান দুটি মশা দূরে রাখে। জানালা বা দরজার কাছে রোদ পড়ে এমন জায়গায় তুলসী রাখলে ঘরে মশা কম আসে। এ ছাড়া তুলসী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হজমশক্তি ভালো রাখে। নিয়মিত পানি দেওয়ার পাশাপাশি গাছ বড় হলে ছাঁটাই করে দিতে হয়।
গাঁদা ফুল
গাঁদা ফুলে পাইরেথ্রাম থাকে, যা মশা ও মাছিকে দূরে রাখে। এই ফুল বাগানের সীমানায়, জানালার পাশে বা দরজার কাছে লাগাতে পারেন। ফুল কেটে ঘরে রাখলেও গন্ধে মশা কমে। গাঁদা ফুল রঙিন ও সুন্দর হওয়ায় বাগানের সৌন্দর্যও বাড়ায়। গাঁদা ফুল সাধারণত সারা বছরই চাষ করা যায়। তবে শীতকালে এর ফলন ভালো হয়। শীতকালীন ফুল হিসেবে এ সময় গাঁদা ফুলের চারা লাগাতে পারেন বারান্দার টবে কিংবা বাগানে।

সিট্রোনেলা ঘাস
সিট্রোনেলার তীব্র গন্ধের কারণে মশা কাছে আসে না। এটি ঘরে বা বাগানে লাগানো যায়। এ ছাড়া এর গন্ধযুক্ত মোমবাতি, স্প্রে এবং এর তেলও ব্যবহার করা হয়। রোদ পড়ে এমন জায়গায় এটি রোপণ করতে হবে।
ল্যাভেন্ডার
ল্যাভেন্ডারে থাকা লিনালুল নামের উপাদানটি মশা অপছন্দ করে। মানুষের কাছে সুগন্ধি হলেও মশা এ গন্ধ থেকে দূরে থাকে। জানালার পাশে টবে বা বাগানে লাগানো যায় এই ফুল। এর শুকনো পাতা ঘরে রাখলে দীর্ঘক্ষণ সুগন্ধ ছড়ায়। ল্যাভেন্ডার মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুম ভালো করতে সাহায্য করে।

লেমন বাম
লেমন বাম বা মেলিসা গাছের সাইট্রোনেলাল ও জেরানিওলের কারণে মশা দূরে থাকে। বাসায় বা বাগানে রোপণ করতে পারেন এটি। পাতা চেপে গন্ধ বের করা যায়। সেটিও মশা দূরে রাখতে কার্যকর।
রোজমেরি
রোজমেরি গাছের তীব্র গন্ধে ক্যামফর ও রোজমারিনিক অ্যাসিড থাকে। এগুলোর কারণে মশা এ গাছ থেকে দূরে থাকে। এটি ঘরে বা বাগানে লাগানো যায়। এর ডাল জ্বালিয়ে ধোঁয়া তৈরি করেও মশা তাড়ানো সম্ভব। রোজমেরি রান্নায় মসলা হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
গাছগুলোর যত্নে যেসব বিষয় অবশ্যই মানতে হবে
টপে পানি জমতে দেবেন না: টব বা ট্রেতে পানি জমে থাকলে মশা ডিম পাড়ে। তাই এগুলোতে পানি জমতে দেওয়া যাবে না।
সঠিক ড্রেনেজ: পানি বের হওয়ার ছিদ্রযুক্ত টব ব্যবহার করুন।
নিয়মিত ছাঁটাই: গাছ বড় হয়ে গেলে তাতে পোকা বাড়ে, বাতাস চলাচল কমে। তাই নিয়মিত গাছ ছাঁটাই করা জরুরি।
অতিরিক্ত পানি নয়: বেশি পানি দিলে মাটি ভিজা থাকে, যা মশার জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে।
ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা জরুরি। পুদিনা থেকে রোজমেরি—প্রতিটি গাছই স্বাভাবিকভাবে মশা প্রতিরোধে কাজ দেয়। এগুলো সহজে পরিচর্যা করা যায় এবং ঘরের পরিবেশও সতেজ রাখে। মনে রাখতে হবে, গাছ লাগানোর পাশাপাশি পানি জমে থাকা দূর করা, নিয়মিত ছাঁটাই করা এবং সঠিক ড্রেনেজ বজায় রাখা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: হেলথশট

বয়স চল্লিশের কোটা পার হতেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। বলিরেখা, চোখের নিচে কালো ছোপ কিংবা ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া— এসবই বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে বেশি যে সমস্যা ভোগায়, তা হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও খসখসে ভাব। শুধু দামি ক্রিম মেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, বয়স...
১৩ ঘণ্টা আগে
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বয়স বাড়বে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রকৃত বয়সের তুলনায় শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যায় অনেক আগে। একেই বলা হয় অকালবার্ধক্য। শরীরের স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াগুলো সময়ের আগে দৃশ্যমান হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বার্ধক্য অনিবার্য হলেও...
১৪ ঘণ্টা আগে
ইফতারে তেলে ভাজা বা বেশি মসলায় রান্না করা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। স্বাস্থ্যকর ইফতারিতে কী রাখা যায়, তাই ভাবছেন কি? অত চিন্তা না করে রাখতে পারেন রঙিন ফলের সালাদ। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। এই রেসিপি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি সুস্বাদু...
১৯ ঘণ্টা আগে
সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক...
২১ ঘণ্টা আগে