
গাজরের রস প্রয়োজনীয় ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আঁশে ভরপুর একটি পানীয়। শরীর সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গাজর অনন্য। এক কাপ গাজরের রসে মাত্র ৯৪ ক্যালরি থাকে। রমজান মাসজুড়ে আমরা বিভিন্ন জুস পান করে থাকি ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত। সেই স্মুদি কিংবা শরবতের লিস্টে এবার যোগ করতে পারেন গাজরের জুস। এটি যেমন স্বাস্থ্যকর তেমনই মজাদার।
গাজরের রসের প্রধান স্বাস্থ্য উপকারিতা
চোখের সুরক্ষা: গাজরের রসে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা লুটেইন ও জেক্সানথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখ ক্ষতিকর আলো থেকে রক্ষা করে এবং বয়সজনিত চোখের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে: গাজরের রস ভিটামিন এ, সি এবং বি৬-এর চমৎকার উৎস। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধকারী কোষদের ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
ক্যানসার প্রতিরোধ: গাজরের রসে থাকা বিটা ক্যারোটিন, লুটেইন এবং পলিঅ্যাসিটাইলিন নামক যৌগগুলো ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: গাজরের রসের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার ওপর খুব সামান্য প্রভাব ফেলে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের এটি পরিমিত পান করা উচিত।
উজ্জ্বল ও সুস্থ ত্বক: ভিটামিন সি এবং বিটা ক্যারোটিন ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে।
হৃদ্যন্ত্রের সুরক্ষা: গাজরের রসে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেলে স্ট্রোক এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তের লিপিডের জারণ কমিয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়।
লিভারের সুরক্ষা: গাজরের রসের ক্যারোটিনয়েডগুলো লিভারে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
পানের উপযুক্ত সময়
এই রস পানের নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই। কোনো শারীরিক অস্বস্তি তৈরি হবে না, এমন সময়ে এটি পান করা ভালো। দিনের যেকোনো সময় গাজরের রস পান করলে এর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা পাওয়া সম্ভব।
অনেকে সকালে খালি পেটে এই রস পান করতে পছন্দ করেন। আবার অনেকে এটি কোনো খাবার বা হালকা নাশতার সঙ্গে পান করতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন। সে ক্ষেত্রে ইফতারের টেবিলে এটি রাখতে পারেন।
যেভাবে তৈরি করতে পারেন
আদা ও গাজরের জুস
এই জুস তৈরি করার জন্য দরকার ২ থেকে ৪টি গাজর, ১ ইঞ্চি আদা, ১ কাপ পানি ও আধা চা-চামচ লেবুর রস। বাড়তি স্বাদের জন্য আপনি এতে সামান্য মধু বা এক চিমটি লবণের গুঁড়া যোগ করতে পারেন। স্বল্প সময়ের জন্য আদার রস পান করলেও তা সুস্থ মানুষের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য এবং কার্যকারিতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিপাকতন্ত্রের ভেতরে প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া কমাতে এটি সাহায্য করতে পারে। কারণ, আদার শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বা প্রদাহরোধী কার্যকারিতা রয়েছে।
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত গাজর ও আদার রস সবার জন্য নিরাপদ। তবে যাঁদের এই দুটি জিনিসে অ্যালার্জি আছে, তাঁদের এ রস পান না করাই ভালো। প্রথমবার বা নতুন করে এই রস পান শুরু করলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
আদার প্রভাব: আদা বেশ শক্তিশালী একটি উপাদান। হুট করে বেশি আদার রস পান করলে কারও কারও বুক জ্বালাপোড়া বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। আদার এই তীব্রতা বেশি মনে হলে এর বদলে গাজর ও হলুদের রস পান করা যেতে পারে, যা প্রদাহরোধী গুণসম্পন্ন।
গাজরের প্রভাব: দীর্ঘ সময় ধরে প্রচুর গাজরের রস পান করলে ত্বকে একধরনের অস্থায়ী হলদেটে-কমলা ভাব দেখা দিতে পারে। এটি ক্ষতিকর নয়। আম বা পেঁপের মতো ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত খেলেও এমন হতে পারে।
সতর্কবার্তা
সূত্র: হেলথ লাইন, ভেরিওয়েল হেলথ

বয়স চল্লিশের কোটা পার হতেই আয়নার সামনে দাঁড়ালে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। বলিরেখা, চোখের নিচে কালো ছোপ কিংবা ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়া— এসবই বার্ধক্যের স্বাভাবিক লক্ষণ। তবে বেশি যে সমস্যা ভোগায়, তা হলো ত্বকের অতিরিক্ত রুক্ষতা ও খসখসে ভাব। শুধু দামি ক্রিম মেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কারণ, বয়স...
৯ ঘণ্টা আগে
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শরীরের বয়স বাড়বে, এটাই প্রকৃতির নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, প্রকৃত বয়সের তুলনায় শরীরে বার্ধক্যের ছাপ পড়ে যায় অনেক আগে। একেই বলা হয় অকালবার্ধক্য। শরীরের স্বাভাবিক বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াগুলো সময়ের আগে দৃশ্যমান হলে তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বার্ধক্য অনিবার্য হলেও...
১০ ঘণ্টা আগে
ইফতারে তেলে ভাজা বা বেশি মসলায় রান্না করা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। স্বাস্থ্যকর ইফতারিতে কী রাখা যায়, তাই ভাবছেন কি? অত চিন্তা না করে রাখতে পারেন রঙিন ফলের সালাদ। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। এই রেসিপি যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি সুস্বাদু...
১৫ ঘণ্টা আগে
সঠিক পরিকল্পনা, পুষ্টিকর খাবার এবং সহকর্মীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণই পারে আপনার কর্মজীবনকে রমজানেও আনন্দময় ও চাপমুক্ত রাখতে। খাদ্যাভ্যাস এবং ঘুমের রুটিন বদলে যাওয়ায় অনেক সময় ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে। কিন্তু মনে রাখবেন, রোজা রেখে কাজ করা মানেই কর্মদক্ষতা কমিয়ে দেওয়া নয়। সঠিক পরিকল্পনা ও মানসিক...
১৭ ঘণ্টা আগে