Ajker Patrika

রোজায় মসলা খান সাবধানে

ফিচার ডেস্ক
রোজায় মসলা খান সাবধানে
ছবি: সংগৃহীত

রমজানে আমাদের পরিপাকতন্ত্রে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হুট করে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খেলে পাকস্থলীতে অম্ল বা অ্যাসিড তৈরি হয়, যা থেকে গ্যাস, বুক জ্বালা এবং বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি এই অভ্যাস আপনার কিডনি ও লিভারের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। রমজানে পেটের সুস্থতা বজায় রাখতে মসলা খাওয়ার ক্ষেত্রে ‘ভারসাম্য’ বজায় রাখা জরুরি। ভেষজ গুণসম্পন্ন মসলাগুলো রান্নায় পরিমিত ব্যবহার করতে হবে এবং অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি করে এমন অভ্যাস পরিহার করা দরকার।

যেসব মসলা খালি পেটে খাবেন না

খাদ্যপথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ আলমগীর আলম বেশ কিছু মসলা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি পরামর্শ দেন, যেসব মসলা খালি পেটে খাওয়া উচিত নয়—

দারুচিনি: দারুচিনি মূলত প্রতিটি রান্নাঘরেই পাওয়া যায়। গুণাবলির কারণে মানুষ এটি শুধু খাবারেই নয়, চায়ের সঙ্গে মিশিয়েও পান করে। দারুচিনির অতিরিক্ত ব্যবহার আপনার লিভারকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। এটি অতিরিক্ত খেলে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, যা মুখে ফোসকা, সাদা দাগ এবং মুখের ভেতরে চুলকানির মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

গোলমরিচ: সকালে কোনো খাবারের সঙ্গে গোলমরিচ খেলে পেটের মাইক্রোবায়মের ক্ষতি হবে, যদিও গোলমরিচ হজমে সহায়ক একটি মসলা।

অন্যান্য: অনেকে জোয়ান, মৌরি ও জিরা দিয়ে পানির কাড়া বানিয়ে সকালে খাওয়ার অভ্যাস করেছেন। ওজন কমিয়ে আনার জন্য এই মসলা ব্যবহার করেন তাঁরা। কিন্তু এতে ভালো হওয়ার চেয়ে খারাপ কিছু ঘটতে পারে, যদি সকালে খান। খালি পেটে এগুলো বিশেষত গরমের মৌসুমে খেলে বুক জ্বালাপোড়ার শিকার হতে পারেন। অতিরিক্ত খেলে বদহজম ও ডায়রিয়াও হতে পারে। ওজন ঠিকই কমবে; কিন্তু সঙ্গে পেটের সমস্যাও হতে পারে।

মসলা খাওয়ার ভালো দিক

গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালা, ঢেকুর ইত্যাদি সমস্যার জন্য আমরা সব সময় খাবারের মসলাকে দায়ী করি। আমাদের ধারণা, মসলা খাওয়া ভালো নয়। মসলা মানেই ক্ষতিকর, এ ধারণাটি সঠিক নয়। পরিমিত পরিমাণে খেলে প্রতিটি মসলারই রয়েছে চমৎকার স্বাস্থ্যগুণ। আলমগীর আলম বলেন, ‘খাবারে যত কম মসলা যোগ করা যায়, ততই ভালো। কিন্তু বিভিন্ন মসলার নানা ধরনের ভেষজ গুণ রয়েছে। পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদ, রসুন ইত্যাদি আমাদের খাবারের স্বাদ যেমন বাড়ায়, তেমনি আরও কিছু উপকার করে থাকে।’ তিনি আরও জানান, এগুলো সব সময় খাওয়া যাবে। যেকোনো সময় এগুলো খেতে বাধা নেই। কিন্তু কোনোভাবে বেশি মাত্রায় না খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পেঁয়াজ: রক্তচাপ কমাতে এবং রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করতে পেঁয়াজ দারুণ কাজ করে। এ ছাড়া ঠান্ডা ও সর্দি সারাতেও এর ভূমিকা রয়েছে।

রসুন: রসুন একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক। এতে থাকা ‘অ্যালিসিন’ সর্দি-কাশি সারানোর পাশাপাশি ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

আদা: বমি ভাব ও বদহজম কমাতে আদা অতুলনীয়। মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে কিংবা কাশির উপশমে আদার রস ও মধুর মিশ্রণ অত্যন্ত কার্যকর।

হলুদ: হলুদে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, যা শরীরের রক্তস্বল্পতা দূর করে। এটি পাকস্থলীর প্রদাহ কমায় এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া কমানোর জন্য হলুদ ও মধুর মিশ্রণ বেশ উপকারী।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ইরান যুদ্ধে পালানটিরের ‘মেভেন’ যেন ১২ ঘণ্টায় ৯০০ আজরাইল

বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত: দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

ইরানকে গোপনে মার্কিন সামরিক গতিবিধির তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

৪০ বছর ধরে যে যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছে ইসরায়েল, ঘোল খাইয়েছে পশ্চিমাদের

অতিথির রণতরি ডুবল মার্কিন হামলায়, প্রশ্নের মুখে ‘মহাসাগরের রক্ষক’ মোদি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত