
শৈশব থেকে আমরা একটি প্রবাদ শুনে বড় হয়েছি ‘পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি’। কিন্তু আধুনিক করপোরেট দুনিয়া এবং উদ্যোক্তাদের ভিড়ে এই ধারণা কিছুটা বদলে গেছে। এখন বলা হয়, ‘ওয়ার্ক স্মার্টার, নট হার্ডার’। অর্থাৎ কঠোর নয়, কৌশলগত পরিশ্রমই আসল। অনেকে দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পান না। আবার কেউ মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সেরে ফেলেন পাহাড়সম কাজ। এই পার্থক্যের নেপথ্যে থাকা ৮টি ‘স্মার্ট’ জীবনশৈলী নিয়ে আমাদের আজকের এই বিশেষ আয়োজন।
জরুরি কাজ আগে করুন
আমাদের অনেকের সারা দিনে কাজের লম্বা তালিকা থাকে। কিন্তু স্মার্ট কর্মীরা সব কাজ সমান গুরুত্ব দেন না। তাঁরা ব্যবহার করেন আইজেনহাওয়ার ম্যাট্রিকস। অর্থাৎ, কোন কাজটি জরুরি এবং কোনটি দীর্ঘমেয়াদি আয়ের উৎস, তা আগে ভাগ করে নিন। মনে রাখবেন, ১০০টি গুরুত্বহীন কাজ শেষ করার চেয়ে ৩টি প্রভাবশালী কাজ শেষ করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ।
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও অটোমেশন
প্রযুক্তি এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি সময় সাশ্রয়কারী। ই-মেইল অটোমেশন থেকে শুরু করে এআই টুলস—একই কাজ বারবার নিজে না করে প্রযুক্তির ওপর ছেড়ে দিন। এতে আপনার মস্তিষ্ক সৃজনশীল এবং কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য বাড়তি সময় পাবে।
সফলতার পথে বড় বাধা
অনেকে ভাবেন, একসঙ্গে অনেক কাজ করা মানে বেশি প্রোডাকটিভিটি। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। আমাদের মস্তিষ্ক একসঙ্গে শুধু একটি বিষয়ে গভীর মনোযোগ দিতে পারে। মাল্টিটাস্কিং আপনার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর চেয়ে বরং টাইম ব্লকিং বা একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি কাজ করার অভ্যাস গড়ুন।
সময়ের চেয়ে শক্তি ব্যবস্থাপনা জরুরি
আপনার ঘড়ির কাঁটা নয়, বরং আপনার শরীরের শক্তির মাত্রার দিকে নজর দিন। সবার কর্মক্ষমতা সব সময় সমান থাকে না। কেউ সকালে খুব দ্রুত কাজ করতে পারেন, কেউ আবার রাতে। আপনার যখন শক্তির স্তর ভালো থাকবে, তখন কঠিন কাজটি সেরে ফেলুন।
‘না’ বলতে শিখুন
সব কাজ নিজের কাঁধে নেওয়া স্মার্ট বিষয় নয়। যে কাজগুলো অন্য কেউ আপনার চেয়ে ভালো বা দ্রুত করতে পারবে, সেগুলো তাদের হাতে ছেড়ে দিন। একই সঙ্গে আপনার লক্ষ্যের সঙ্গে মেলে না, এমন প্রজেক্ট বা অনুরোধে বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলতে শিখুন। এটি আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে ফোকাস ঠিক রাখতে সাহায্য করবে।
বিশ্রামের দর্শন ও পোমোডোরো কৌশল
টানা কাজ করলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়। প্রতি ২৫ মিনিট নিবিড় কাজের পর ৫ মিনিটের বিরতি নিন। এটিই পোমোডোরো টেকনিক। এ ছাড়া নিয়মিত ছোটখাটো হাঁটাচলা বা প্রকৃতির সান্নিধ্য আপনার সৃজনশীলতাকে রিচার্জ করে। মনে রাখবেন, বিশ্রাম কাজের অংশ, কাজের বিরতি নয়।
শৈল্পিক বিদায়: দিনের সমাপ্তি ও প্রস্তুতি
স্মার্ট কর্মীরা দিন শেষ করেন একটি নির্দিষ্ট রুটিনের মাধ্যমে। পরের দিনের ৩টি প্রধান কাজের তালিকা রাতেই করে ফেলুন। এতে সকালে উঠে ‘কী করব’—এই সিদ্ধান্তহীনতায় আপনার এনার্জি নষ্ট হবে না। পাশাপাশি নিজের কর্মক্ষেত্র বা ডেস্ক গুছিয়ে রাখা আপনার মানসিক স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করে।
শরীর ও মনের বিনিয়োগ
৭ থেকে ৮ ঘণ্টার ঘুম, সুষম খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম—এগুলো ব্যক্তিগত শখ নয়, বরং কাজেরই অংশ। আপনার শরীর যদি সুস্থ না থাকে, তবে কোনো কৌশলই আপনাকে স্মার্টলি কাজ করতে সাহায্য করবে না।
দিন শেষে কাজের পরিমাণ দিয়ে নয়, বরং কাজের মান এবং আপনার ব্যক্তিগত জীবনের সন্তুষ্টি দিয়ে সফলতার বিচার করুন। স্মার্টলি কাজ করা মানে হলো কম সময়ে সর্বোচ্চ ফল নিশ্চিত করা। যাতে আপনার পরিবার, শখ এবং নিজের জন্য পর্যাপ্ত সময় পান। আজ থেকে শুরু করুন, কঠোর পরিশ্রমী হওয়ার চেয়ে একজন কৌশলী কর্মী হয়ে উঠুন।
সূত্র: ফোর্বস, মিডিয়াম
ক্যাপশন
১। মাল্টিটাস্কিং আপনার মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এর চেয়ে বরং টাইম ব্লকিং বা একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ছবি: পেক্সেলস

ওজন কমানো মানেই চর্বি ছেঁটে ফেলা। এই ওজন কমানোর যাত্রায় আমরা প্রায়ই সব চর্বিকে একই নজরে দেখি। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সব চর্বি সমান নয়। আমাদের ত্বকের ঠিক নিচে যে চর্বি জমে, তা দেখতে খারাপ লাগলেও শরীরের জন্য ততটা বিপজ্জনক নয়। আসল শত্রু হলো ‘ভিসারেল ফ্যাট’ বা পেটের গভীরে থাকা চর্বি।
১০ ঘণ্টা আগে
কতটা সুস্থ থাকবেন, তা নির্ভর করে আপনার দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন। প্রতিদিন কী ধরনের বাসনকোসন ব্যবহার করছেন, কেমন খাবার খাচ্ছেন—এসব ব্যাপার যেমন স্বাস্থ্য়ের ওপর প্রভাব ফেলে, তেমনি এগুলোর প্রভাব পরিবেশের ওপরও পড়ে। নিজের স্বাস্থ্য ও বাড়ির পরিবেশ ভালো রাখার জন্য সব সময় বড় কোনো উদ্যোগই নিতে হবে এমন....
১২ ঘণ্টা আগে
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্যানেল টোয়াব অগ্রগামী ঐক্যজোট শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি কনভেনশন হলে ‘সুফি নাইটস ও ডিনার’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
১৩ ঘণ্টা আগে
অনেকেই বলেন বাথরুমে বসে নাকি সবচেয়ে সৃজনশীল বুদ্ধিটা মাথায় আসে। মনে আছে ছোটবেলায় শোনা বিশ্বখ্যাত গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের সেই গল্প। যেখানে বিজ্ঞানী এই মনীষী গোসলের টাবে নামতে গিয়েই পদার্থবিজ্ঞানের একটি যুগান্তকারী সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন।
১৬ ঘণ্টা আগে