Ajker Patrika

ডোপামিন ডেকর: যেভাবে ঘর সাজালে মন ভালো থাকবে

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
ডোপামিন ডেকর: যেভাবে ঘর সাজালে মন ভালো থাকবে
ডোপামিন ডেকরের মূলমন্ত্র খুবই সহজ— এমনভাবে ঘর সাজানো, যাতে দিনশেষে ঘরে পা রাখলে মস্তিষ্কে ডোপামিন বা সুখী হরমোন নিঃসৃত হয়। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

দিনশেষে যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল থেকে মুক্তি পেয়ে আমরা যখন ঘরে ফিরি, তখন তা কি শুধুই ইট-পাথরের কাঠামোতে ফেরা, নাকি শান্তির নীড়ে ফেরা? আধুনিক অন্দরসজ্জার দুনিয়ায় এখন আর সুদৃশ্য আসবাব বা ছিমছাম সাজই শেষ কথা নয়। বিশ্বজুড়ে এখন অন্দরসজ্জার এক নতুন জোয়ার চলছে, যার নাম ডোপামিন ডেকর। এটি শুনতে কিছুটা বৈজ্ঞানিক মনে হলেও এর মূলমন্ত্র খুবই সহজ— এমনভাবে ঘর সাজানো, যাতে দিনশেষে ঘরে পা রাখলে মস্তিষ্কে ডোপামিন বা সুখী হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি কেবল চোখের আরামই দেবে না; বরং আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও এক অদৃশ্য ঢাল হয়ে থাকবে।

মিনিমালিজম বনাম ডোপামিন ডেকর

এক দশক ধরে আমরা অল্পেই সুখী বা মিনিমালিজম অথবা লেস ইজ মোর তত্ত্বে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। যেখানে ঘর হতো একদম ছিমছাম, রং হতো সাদা, অফ-হোয়াইট বা ধূসর। কিন্তু ডোপামিন ডেকর বলছে একেবারে উল্টো কথা। এটি ম্যাক্সিমালিজম বা প্রাচুর্যে বিশ্বাসী। এর মূল দর্শন হলো, আপনার যা ভালো লাগে, যে রং আপনাকে আনন্দ দেয় এবং যে বস্তু আপনাকে হাসায়, তা-ই আপনার ঘরবাড়ির সাজে প্রধান অনুষঙ্গ হওয়া উচিত। এটি মূলত একটি ভিজ্যুয়াল থেরাপি, যা বিষণ্নতা ও একঘেয়েমি কাটিয়ে মন তাৎক্ষণিক চনমনে করে তুলবে।

যেভাবে সাজাতে পারেন আপনার ব্যক্তিগত স্বর্গ

রঙের ব্যবহার

ডোপামিন ডেকরের বড় হাতিয়ার হলো রঙের খেলা। নিউট্রাল রঙের বদলে দেয়ালে ব্যবহার করুন আপনার পছন্দের উজ্জ্বল রং। সেটি হতে পারে টকটকে লাল, শর্ষে হলুদ, ইলেকট্রিক ব্লু বা ফিরোজা। রং নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই; বিজ্ঞান বলে, উজ্জ্বল রং সরাসরি আমাদের মস্তিষ্কের লিম্বিক সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। আবার পুরো দেয়াল রাঙাতে না চাইলে রঙিন পর্দা, বর্ণিল কুশন কভার বা গাঢ় রঙের জ্যামিতিক নকশার কার্পেট দিয়েও ঘরে বৈচিত্র্য আনতে পারেন।

স্মৃতি ও ব্যক্তিগত সংগ্রহ

আপনার পছন্দের কোনো ভ্রমণের স্যুভেনির, ছোটবেলার প্রিয় কোনো খেলনা বা নিজের হাতে আঁকা ছবি—এ সবই ডোপামিন ডেকরের অংশ। শেলফে সাজিয়ে রাখা পুরোনো বই বা বন্ধুর দেওয়া চিরকুটগুলো ফ্রেমে বাঁধিয়ে দেয়ালে ঝুলিয়ে দিন। এগুলো দেখলে অবচেতন মনেই আপনি ফিরে যাবেন সুখস্মৃতিতে।

টেক্সচার ও প্যাটার্নের মিশ্রণ

শুধু চোখের আরাম নয়, স্পর্শের অনুভূতিও মন ভালো করে। ভেলভেটের সোফা, সুতির নরম কুশন আর হাতে বোনা টেক্সচার্ড কার্পেটের মিশ্রণ ঘরে গতিময়তা আনে। জ্যামিতিক নকশা বা ফ্লোরাল প্রিন্টের মিশেলে ঘর করে তুলুন বৈচিত্র্যময়।

সবুজের ছোঁয়া ও আলো

অন্দরসজ্জায় ইনডোর প্ল্যান্টের গুরুত্ব রয়েছে। জানালার পাশে সারি সারি ক্যাকটাস, মানিপ্ল্যান্ট বা ঘরের কোণে বড় কোনো টবে রাখা মনস্টেরা কেবল অক্সিজেনই দেয় না; বরং চোখ ও মনে শান্তি দেয়। দিনের বেলা প্রচুর প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস ঘরে ঢুকতে দিন। আর রাতের জন্য ব্যবহার করুন ওয়ার্ম লাইট। নিয়ন সাইন বা রঙিন ল্যাম্পশেডের ব্যবহার আপনার ব্যক্তিগত কোণটিকে করে তুলবে মায়াবী ও আরামদায়ক।

কেন আপনার জন্য এ পরিবর্তন দরকার?

চারপাশের পরিবেশ সরাসরি আমাদের চিন্তা ও কাজের ওপর প্রভাব ফেলে। বর্তমানে আমাদের অতি যান্ত্রিক জীবনে ঘর হওয়া চাই মানসিক চাপ কমানোর কেন্দ্র বা স্ট্রেস-রিলিফ সেন্টার। ডোপামিন ডেকরের বড় সুবিধা হলো, এর কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। এটি গতানুগতিক শিকল ভেঙে আপনাকে নিজের মতো করে বাঁচার ও প্রকাশ করার সুযোগ করে দেয়।

ঘর যদি আপনার শৈশব, শখ আর প্রিয় রঙে সেজে ওঠে, তবে বাইরের পৃথিবীর শত প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে ঘরে ফেরামাত্রই আপনার মন হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। অন্দরসজ্জা যখন আপনার ব্যক্তিত্বের আয়না হয়ে ওঠে, তখনই আপনি খুঁজে পাবেন দীর্ঘস্থায়ী প্রশান্তি। তাই আজই আপনার ঘর রূপান্তর করুন সুখী হরমোনের কারখানায়!

সূত্র: এলে ডেকর ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ব্যাংক এশিয়ার কাছে ৪৭.৫ মিলিয়ন ডলারে বাংলাদেশি কার্যক্রম বিক্রি করছে পাকিস্তানি ব্যাংক আলফালাহ

আমির হামজার বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’

জোড়া লাল কার্ডের ম্যাচে ভারতকে রুখে দিল বাংলাদেশ

সৌদি যুবরাজ আমাকে তোষামোদ করছেন: ট্রাম্প

দেশের সব পেট্রলপাম্পে নিয়োগ হবে ট্যাগ অফিসার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত