
সাফল্য কি শুধুই সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভর করে? নাকি এক চিমটি জেদ আর আকাশসমান অদম্য ইচ্ছাশক্তি বদলে দিতে পারে জীবনের মানচিত্র? মিরপুরের অলিগলিতে বেড়ে ওঠা রাসেল শেখের গল্প আমাদের সেই সাহসের কথাই মনে করিয়ে দেয়। সরকারি বাঙলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে রাসেল ভর্তি হন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ’ বিভাগে। তবে তাঁর লক্ষ্য শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন ছিল না; তাঁর লড়াই ছিল সমাজের এক অদৃশ্য সমস্যাকে ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপান্তর করার।
যেভাবে শুরু
রাসেলের উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে কোনো বড় পুঁজি ছিল না, ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ। ছোটবেলায় তাঁর অত্যন্ত প্রিয় প্রতিবেশী ছিলেন সুজাত আহমেদ। অমায়িক এই মানুষটি ছিলেন শারীরিকভাবে কিছুটা স্থূলকায় বা ‘ওভার সাইজ’। এই বাড়তি ওজনের কারণে তাঁকে পছন্দসই ও আরামদায়ক পোশাক খুঁজে পেতে যে কী পরিমাণ বিড়ম্বনা আর সামাজিক সংকোচে পড়তে হতো, তা রাসেল খুব কাছ থেকে দেখেছেন।
সুজাত মামা আজ নেই, কিন্তু তাঁর সেই কষ্টগুলো রাসেলের মনে গভীর দাগ কেটে যায়। তিনি অনুভব করেন, আমাদের দেশে বিশেষ শারীরিক গঠনের মানুষদের জন্য মানানসই ও রুচিশীল পোশাক পাওয়াটা যেন এক অলিখিত যুদ্ধ। সেই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে জন্ম নেয় তাঁর ব্র্যান্ড ‘টাইলো’ (TYLO)। রাসেলের ভাষায়, ‘মামা আজ নেই, কিন্তু তাঁর সীমাবদ্ধতাগুলোই আমাকে নতুন কিছু করার পথ দেখিয়েছে।’
প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে এগিয়ে চলা
নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা রাসেলের পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত পরিবারের কেউ বড় ব্যবসায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখলে সমাজ তাকে বাঁকা চোখে দেখে; রাসেলও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। তবে সাত বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর আত্মবিশ্বাসকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছিল। রাসেল বলেন, ‘পুঁজির সংকট আজও আছে, কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মানুষের ধারণা বদলে দেওয়া। আমি প্রমাণ করতে চেয়েছি, মেধা আর পরিশ্রম থাকলে সাধারণ ঘর থেকেও সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।’
কেন অনন্য ‘টাইলো’?
বাজারে নামীদামি ব্র্যান্ডের অভাব নেই, কিন্তু ‘টাইলো’র লক্ষ্য একটু ভিন্ন। এটি শুধু মুনাফার জন্য নয়, বরং ‘ওভারসাইজ’ মানুষদের ফ্যাশন বিড়ম্বনা দূর করতে কাজ করে। রাসেলের ব্যবসায়িক দর্শন খুব পরিষ্কার—পণ্যের চেয়েও সেবা বড়। তিনি মনে করেন, পোশাক কারও পছন্দ হতেও পারে আবার না-ও পারে, কিন্তু গ্রাহক যেন সম্মানটুকু পান। এমনকি কেউ যদি তাঁর এই আইডিয়া নকলও করে, তাতেও রাসেলের আক্ষেপ নেই; কারণ শেষ পর্যন্ত উপকার হবে সেই বিশেষ গঠনের মানুষগুলোরই।
নেতৃত্ব ও আগামীর দিগন্ত
বর্তমানে রাসেলের কারখানায় ও ‘টাইলো’ টিমে কাজ করছেন
৬০-৬২ জন কর্মী। নেতা হিসেবে রাসেল বিশ্বাস করেন ‘নিজে করে শেখানো’তে। আজও কারখানায় কাপড়ের বেল্ট এলে রাসেল নিজেই তা কাঁধে তুলে নেন। তাঁর এই সাধারণ জীবনযাপন আর শ্রমের প্রতি মর্যাদা দেখে কর্মীরাও দ্বিগুণ উৎসাহে কাজ করেন।
নবাগতদের জন্য পরামর্শ
রাসেল শেখ জানান, যাঁরা এই পথে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাঁদের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ‘মার্কেট গ্যাপ’ বা বাজারের চাহিদা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা। আপনার চারপাশের সাধারণ সমস্যাগুলোই হতে পারে অসাধারণ ব্যবসায়িক আইডিয়ার উৎস। কোনো কিছু শুরু করার আগে গভীর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় সময় দেওয়া কতটা জরুরি, সেটিই রাসেলের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসেল তাঁর একাডেমিক জ্ঞান ও দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের ভিত্তি সুদৃঢ় করেছেন। তাই হুট করে ব্যবসায় না নেমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান অর্জন এবং নেটওয়ার্কিং বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, আধুনিক যুগে শুধু ভালো পণ্যই যথেষ্ট নয়; টেকনিক্যাল দক্ষতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঠিক ব্যবহারও এই পেশায় টিকে থাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
সবশেষে, একজন সফল উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো নেতৃত্বের সক্ষমতা ও ধৈর্য। আপনার মেধা ও পরিশ্রম যখন একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অভিমুখে পরিচালিত হবে, তখন সাফল্য আসবেই। ক্যারিয়ারের শুরুতে বাধা আসবেই, তবে সেই বাধাকে সিঁড়ি বানিয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই একজন প্রকৃত উদ্যোক্তার পরিচয়। নিজের ওপর বিশ্বাস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে শূন্য থেকে শুরু করেও সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানো সম্ভব।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে রাসেল আজ তাঁর ব্র্যান্ডকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য এখন সুদূরপ্রসারী—আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ‘টাইলো’কে বাংলাদেশের শীর্ষ লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং ১৫-২০ বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে একটি খাঁটি বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে রাজত্ব করা।

ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, কিন্তু অভিজ্ঞতার অভাবে পিছিয়ে পড়ছেন? তাহলে আপনার জন্য এসেছে দারুণ একটি সুযোগ। দেশের অন্যতম বেসরকারি বাণিজ্যিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক এশিয়া পিএলসি জনবল নিয়োগের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
২ দিন আগে
সম্প্রতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ব্র্যাক। প্রতিষ্ঠানটির মাইক্রোফাইন্যান্স প্রোগ্রামে ‘প্রশাসনিক ও অবকাঠামো কর্মকর্তা’ পদে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীরা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
৩ দিন আগে
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি সম্প্রতি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি অ্যাসোসিয়েট (এয়ার লাউঞ্জ) পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
৩ দিন আগে
আইনবিদ্যায় উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা সামনে রেখেও ভিন্ন পথে হাঁটার সাহস দেখিয়েছেন মঈনুল ইসলাম। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি যুক্ত হন বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম আমাজনের সঙ্গে। লন্ডনে পড়াশোনা শেষে দেশে ফিরে গড়ে তোলেন ‘ইসেভিওর লিমিটেড’।
৩ দিন আগে