
কেবল মুসলমানদের লাগিয়া আসেনি ক ইসলাম
সত্যে যে চায়, আল্লায় মানে, মুসলিম তারি নাম
আমির-ফকিরে ভেদ সবে সব ভাই এক সাথী
আমরা সেই সে জাতি।
কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা এই পঙ্ক্তিগুলো শুধু কাব্যের সৌন্দর্য নয়, এগুলো একটি চেতনার ঘোষণা। কাজী নজরুল ইসলাম এই চার লাইনের মধ্যে তুলে ধরেছেন ইসলামের সর্বজনীনতা, সাম্যের দীক্ষা এবং মানবতাবাদের এক অভিন্ন বার্তা। কিন্তু আমরা যখন এই কবিতার আলোকে বর্তমান বাংলাদেশের দিকে তাকাই, তখন অনেক প্রশ্ন ভিড় করে আসে—এই দেশের মানুষের মধ্যকার বিভাজন, ধর্মের অপব্যবহার, রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় উগ্রতার উত্থান কি নজরুলের ওই ‘জাতি’র প্রতিনিধিত্ব করে?
নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে বিদ্রোহী কবি, আবার ইসলামের প্রকৃত ভাবধারার এক অগ্রদূত। তিনি বলেছিলেন, ‘ইসলাম এসেছে মুক্তির বার্তা নিয়ে, এসেছে সাম্যের কথা বলতে, এসেছে বঞ্চিতের পাশে দাঁড়াতে।’ তার কাছে ইসলাম কেবল ধর্ম নয়, একটি নৈতিক ও মানবিক সভ্যতার প্রতীক। তার মতে, ‘সত্যে যে চায়, আল্লায় মানে’—অর্থাৎ ধর্মীয় আচার নয়, বরং ন্যায়, সত্য এবং মানবিক মূল্যবোধই মুসলমান পরিচয়ের প্রকৃত মাপকাঠি। আজ আমরা এই দৃষ্টিভঙ্গি কতটা ধারণ করতে পেরেছি?
আজকের বাংলাদেশে ধর্মকে কেন্দ্র করে যে বিভাজন, সে কখনো রাজনৈতিক, কখনো সামাজিক, আবার কখনো সাম্প্রদায়িক উগ্রতায় রূপ নিচ্ছে। এক শ্রেণির মানুষ ইসলামকে তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের হাতিয়ার বানিয়েছে। ধর্মের নামে হিংসা, ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে। অথচ নজরুল আমাদের শিখিয়েছেন—‘আমির-ফকিরে ভেদ নাই সব ভাই এক সাথী।’
তিনি চেয়েছিলেন এমন এক সমাজ, যেখানে ধনী-গরিব, জাতি-ধর্ম, বর্ণ-উপবর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এক কাতারে দাঁড়ায়। কিন্তু আজ বাংলাদেশে দরিদ্রের জন্য এক রকম আইন, প্রভাবশালীর জন্য অন্য রকম বিচার। দারিদ্র্য, বৈষম্য এবং সামাজিক অন্যায় এখনো আমাদের সমাজের শিরায় শিরায় প্রবাহিত। তখন প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই নজরুলের সেই ‘জাতি?’
নজরুল এমন ইসলাম প্রচার করেননি, যা অন্যের প্রতি ঘৃণা ছড়ায়। বরং তিনি বলেছিলেন: ‘আমার ধর্ম ইসলাম—তা শান্তি, সহমর্মিতা, বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবতার ধর্ম।’ কাজেই যারা ইসলামকে ঘৃণা ও উগ্রতার মাধ্যম বানায়, তারা নজরুলের ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত।
নজরুল বলেছিলেন, ‘আমরা সেই সে জাতি’, অর্থাৎ এমন এক জাতি যারা সকল বৈষম্য অতিক্রম করে, সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এটি ছিল কেবল কাব্যিক উচ্চারণ নয়—এই ছিল নজরুলের রাষ্ট্রদর্শনের ভিত্তি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ আমরা শিক্ষায়, পেশায়, লিঙ্গে, ধর্মে, এমনকি পোশাকেও মানুষকে বিচার করি। অদ্ভুত এক সংকীর্ণতা আমাদের জাতীয় চেতনায় প্রবেশ করেছে। তখন নজরুলের এই কবিতা হয়ে ওঠে এক প্রকার আয়না—যেখানে আমরা নিজের মুখ দেখতে পাই, কিন্তু নিজেকে চিনতে পারি না।
এই বিভাজনের সময়ে নজরুলকে আবার নতুন করে পড়া, নতুন করে বোঝা, এবং নতুন করে তুলে ধরার সময় এসেছে। তাঁকে শুধু বিদ্রোহী কবি বলে ভক্তিগীতি গেয়ে চুপ থাকা নয়—তাঁর সাম্যবাদী, মানবতাবাদী, অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন বাণী আমাদের জাতীয় নীতিতে পরিণত করতে হবে। তিনি বলেছিলেন: ‘ধর্মকে নিয়ে যদি বর্ণ বা জাতির ঘৃণা জন্মায়, তবে সে ধর্ম নয়—তা শয়তানের ফাঁদ।’
বাংলাদেশের সংবিধান বলে, আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। কিন্তু আমাদের নৈতিক ভিত্তি যদি নজরুলের মত মহান মানবতাবাদী ভাবনার ওপর দাঁড়ানো না হয়, তাহলে সংবিধানও কেবল একটি কাগজের দলিল হয়ে থাকবে।

মানুষ হিসেবে আমাদের জীবনে ছোট-বড় অনেক গুনাহ হতে পারে। তবে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা তওবাকারী বান্দাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। গুনাহমুক্ত জীবন আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। আপনি যদি আপনার পাপ মোচন করতে চান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চান, তবে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করতে পারেন।
৫ ঘণ্টা আগে
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের ইতিহাসে মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি (রহ.) এক কিংবদন্তি পুরুষ। একটি শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সত্যের সন্ধানে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত কাঁপিয়ে দেন।
৬ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজানে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকা ফরজ। তবে অনেক সময় আমরা ধূমপান বা কয়েল-আগরবাতির ধোঁয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সংশয়ে থাকি। ইসলামি শরিয়তের আলোকে ধূমপান এবং রোজা ভঙ্গের বিভিন্ন কারণ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
৬ ঘণ্টা আগে
খন্দকের ময়দানে তখন চলছে এক মহাকাব্যিক ব্যাকরণ। মুসলমানেরা দিনরাত পরিখা খনন করছেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) তাঁর কোদাল নিয়ে গভীর পরিখা খুঁড়ছেন। কিন্তু আজ তাঁর মনটা ভারী। কারণ তিনি দেখলেন, প্রিয় নবীজি (সা.) ক্ষুধার্ত অবস্থায় পেটে পাথর বেঁধে কাজ করছেন। জাবির (রা.)-এর হৃদয় কেঁপে উঠলো।
৬ ঘণ্টা আগে