
প্রতি বছর ১৯ আগস্ট পালিত হয় বিশ্ব মানবতা দিবস, যা প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালে বাগদাদের জাতিসংঘ কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া হামলার স্মৃতিতে। ওই হামলায় ২২ জন মানবিক কর্মী নিহত হন। দিবসটি উদ্যাপন করা হয় মানবিক সেবা, সহমর্মিতা এবং মানবাধিকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে।
ইসলামের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলাম মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষকে অসহায় ও বিপন্নদের সহায়তায় নিয়োজিত করার এক অনন্য আদর্শ প্রদর্শন করে। কোরআন ও হাদিসে মানবতার সেবা, দয়া এবং ন্যায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কোরআন নির্দেশনা—‘যারা পৃথিবীতে অনৈতিকতা থেকে বিরত থাকে এবং মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হয়, তাদের জন্য মহান পুরস্কার রয়েছে।’ (সুরা মুমিনুন: ৯–১১)। ‘যারা অনাথ ও দরিদ্রদের দেখাশোনা করে, আল্লাহ তাদের সেবা গ্রহণ করেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ৯৫)
হাদিস নির্দেশনা—‘যে ব্যক্তি অন্য মানুষের জন্য উপকার করে, আল্লাহ তার জন্য অনেক উপকার করে দেন। ”’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৭২০)। ‘যে ব্যক্তি অন্য মুসলিমের কষ্ট দূর করে, আল্লাহ তার কষ্ট দূর করেন।’ (সহিহ্ বুখারি: ২৫৭৪)
ইতিহাস ও আধুনিক প্রেক্ষাপট
মদিনায় নবী মুহাম্মাদ (সা.) দরিদ্র ও অনাথদের জন্য খাদ্য বিতরণ, শিক্ষার সুযোগ এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতেন। সদকা ও জাকাতের মাধ্যমে সমাজে সমতা ও সহমর্মিতা বজায় রাখা হতো।
আজকের বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় সহমর্মিতা ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কোরআন ও হাদিসের নির্দেশ—‘তোমরা একে অপরকে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সাহায্য করো।’ (সুরা বাকারা: ২৭৭)। ‘প্রকৃত মুসলিম সে, যাকে মানুষ থেকে কেউ ক্ষতি পায় না এবং সে অন্যদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক।’ (সহিহ্ বুখারি: ৬৪২৮)
পরিশেষে, বিশ্ব মানবতা দিবস ২০২৫ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে সহমর্মিতা, দয়া এবং পরোপকার মানব জীবনের মূল স্তম্ভ। ইসলামের দৃষ্টিতে মানবতার সেবা একটি ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সহমর্মিতা, দয়া এবং পরোপকারে নিয়োজিত রাখুন এবং সমাজে শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করার তৌফিক দিন।
লেখক: কলাম লেখক ও গবেষক

আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির প্রথম রাতেই পবিত্র কাবা শরিফে পরানো হচ্ছে নতুন গিলাফ (কিসওয়া)। আজ সোমবার (১৫ জুন) এশার নামাজের পর মক্কার মসজিদুল হারামে শুরু হবে এই ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক আয়োজন, যেখানে প্রতিস্থাপিত হবে কাবার নতুন গিলাফ। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা সৌদির ঐতিহ্য অনুযায়ী, প্রতি হিজরি বছরের...
৩৭ মিনিট আগে
মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর প্রথম হিজরিতে যখন নামাজের জন্য মানুষকে ডাকার উদ্দেশ্যে আজানের রীতি প্রবর্তিত হয়, তখন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই পবিত্র ও গুরুদায়িত্ব পালনের জন্য সর্বাগ্রে বেছে নিয়েছিলেন এক কৃষ্ণাঙ্গ সাহাবিকে।
২ ঘণ্টা আগে
ঘর হলো মানুষের ক্লান্তি দূর করার ও মানসিক প্রশান্তি লাভের প্রধান আশ্রয়স্থল। নিজের ঘর হোক কিংবা অন্যের; সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে ইসলামের সুন্দর কিছু নিয়ম রয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন...
১০ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৫ ঘণ্টা আগে